০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ ভারতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে: সতর্ক করলেন রাহুল গান্ধী ইসরায়েলের হামলা বন্ধের আহ্বান তুরস্কের তেলবাহী জাহাজকে এখনই নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম বার্তা শিগগির প্রকাশ পাটুরিয়ায় নদীতে পড়া তেলবাহী ট্রাক উদ্ধার অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্তে অন্তর্ভুক্তি ‘অস্বস্তিকর’, তবে বড় চ্যালেঞ্জ নয়: বিজিএমইএ সভাপতি রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট নরসিংদীতে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, প্রাপকেরা পাচ্ছেন কম ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভায় ব্যবসার অগ্রগতি পর্যালোচনা, নেওয়া হলো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত

এলসি খোলা বাড়লেও নিষ্পত্তিতে বাধা

বাংলাদেশে আমদানি কার্যক্রমে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের আমদানি কার্যক্রমে সীমিত পরিসরে পুনরুদ্ধারের আভাস মিলেছে। ডলার বাজারে দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতা এবং রমজানকে সামনে রেখে প্রস্তুতিই এই গতি কিছুটা বাড়িয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা এখনো সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন।

এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি, তবে আশঙ্কা কাটেনি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে মোট এলসি খোলা হয়েছে ২৯ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আগের বছর একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তবে এই প্রবৃদ্ধির পেছনে থাকা ইতিবাচক সংকেতের পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়ে গেছে।

খোলা ও নিষ্পত্তির মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এলসি খোলার তুলনায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তির হার পিছিয়ে রয়েছে। উচ্চ সুদের হার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধে বিলম্ব করছে। এর ফলে আমদানি প্রক্রিয়ায় এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

নির্দিষ্ট খাতে ভিন্ন চিত্র
জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় সংশ্লিষ্ট এলসি খোলা বেড়েছে ৩২ দশমিক ২২ শতাংশ, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১১ মিলিয়ন ডলার। তবে একই সময়ে এই খাতে এলসি নিষ্পত্তি কমে ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭৪৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

রমজানকে সামনে রেখে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য আমদানির প্রস্তুতিতে এলসি খোলা বেড়ে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু এই খাতেও নিষ্পত্তি সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে উৎপাদন খাতে এলসি খোলা মাত্র ০ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সীমিত কার্যকর মূলধনের কারণে উদ্যোক্তারা উৎপাদনে এখনো রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছেন।

ডলার স্থিতিশীল হলেও চাপ রয়ে গেছে
গত নয় মাস ধরে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকার কাছাকাছি স্থির থাকলেও উচ্চ সুদের হার আমদানির ব্যয় বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপও বেড়েছে, যা ব্যবসার গতি মন্থর করছে।

মোট নিষ্পত্তিতে সামান্য পতন
সব মিলিয়ে জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে মোট এলসি নিষ্পত্তি সামান্য কমে ০ দশমিক ৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৭ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে বোঝা যায়, এলসি খোলার প্রবণতা বাড়লেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিষ্পত্তি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ ভারতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে: সতর্ক করলেন রাহুল গান্ধী

এলসি খোলা বাড়লেও নিষ্পত্তিতে বাধা

০৭:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে আমদানি কার্যক্রমে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের আমদানি কার্যক্রমে সীমিত পরিসরে পুনরুদ্ধারের আভাস মিলেছে। ডলার বাজারে দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতা এবং রমজানকে সামনে রেখে প্রস্তুতিই এই গতি কিছুটা বাড়িয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা এখনো সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন।

এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি, তবে আশঙ্কা কাটেনি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে মোট এলসি খোলা হয়েছে ২৯ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আগের বছর একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তবে এই প্রবৃদ্ধির পেছনে থাকা ইতিবাচক সংকেতের পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়ে গেছে।

খোলা ও নিষ্পত্তির মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এলসি খোলার তুলনায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তির হার পিছিয়ে রয়েছে। উচ্চ সুদের হার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধে বিলম্ব করছে। এর ফলে আমদানি প্রক্রিয়ায় এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

নির্দিষ্ট খাতে ভিন্ন চিত্র
জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় সংশ্লিষ্ট এলসি খোলা বেড়েছে ৩২ দশমিক ২২ শতাংশ, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১১ মিলিয়ন ডলার। তবে একই সময়ে এই খাতে এলসি নিষ্পত্তি কমে ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭৪৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

রমজানকে সামনে রেখে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য আমদানির প্রস্তুতিতে এলসি খোলা বেড়ে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু এই খাতেও নিষ্পত্তি সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে উৎপাদন খাতে এলসি খোলা মাত্র ০ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সীমিত কার্যকর মূলধনের কারণে উদ্যোক্তারা উৎপাদনে এখনো রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছেন।

ডলার স্থিতিশীল হলেও চাপ রয়ে গেছে
গত নয় মাস ধরে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকার কাছাকাছি স্থির থাকলেও উচ্চ সুদের হার আমদানির ব্যয় বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপও বেড়েছে, যা ব্যবসার গতি মন্থর করছে।

মোট নিষ্পত্তিতে সামান্য পতন
সব মিলিয়ে জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে মোট এলসি নিষ্পত্তি সামান্য কমে ০ দশমিক ৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৭ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে বোঝা যায়, এলসি খোলার প্রবণতা বাড়লেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিষ্পত্তি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।