০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত ও আগুনে ঝলসে হত্যা

শরীয়তপুরের ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার নৃশংস ঘটনার কয়েক দিন পর তিনি মারা গেছেন। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

নিহত খোকন চন্দ্র দাসের বয়স ছিল ৫০ বছর। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল আটটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হামলার ঘটনা
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলাই বাজার এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে খোকন চন্দ্র দাসকে পথরোধ করা হয়। এরপর তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয় এবং শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরিচয় ও পেশা
খোকন চন্দ্র দাস স্থানীয় বাজারে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি একটি ফার্মেসি আউটলেট এবং মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে।

হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ও প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিক্রিয়া
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বুঝতে পারে যে খোকন চন্দ্র দাস তাদের চিনে ফেলেছেন। এরপরই তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

চিকিৎসা ও মৃত্যুর আগে পরিস্থিতি
গুরুতর আহত অবস্থায় খোকন চন্দ্র দাসকে প্রথমে ঢাকায় নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

মামলা ও পুলিশি তদন্ত
বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্লা (২১) ও পলাশ সরদার (২৫)। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর খবর পেয়ে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও দাবি
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের শরীয়তপুর জেলা সভাপতি অমিত ঘটক চৌধুরী ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ আর না ঘটে।

শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত ও আগুনে ঝলসে হত্যা

০৯:২৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরের ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার নৃশংস ঘটনার কয়েক দিন পর তিনি মারা গেছেন। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

নিহত খোকন চন্দ্র দাসের বয়স ছিল ৫০ বছর। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল আটটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হামলার ঘটনা
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলাই বাজার এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে খোকন চন্দ্র দাসকে পথরোধ করা হয়। এরপর তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয় এবং শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরিচয় ও পেশা
খোকন চন্দ্র দাস স্থানীয় বাজারে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি একটি ফার্মেসি আউটলেট এবং মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে।

হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ও প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিক্রিয়া
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বুঝতে পারে যে খোকন চন্দ্র দাস তাদের চিনে ফেলেছেন। এরপরই তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

চিকিৎসা ও মৃত্যুর আগে পরিস্থিতি
গুরুতর আহত অবস্থায় খোকন চন্দ্র দাসকে প্রথমে ঢাকায় নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

মামলা ও পুলিশি তদন্ত
বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্লা (২১) ও পলাশ সরদার (২৫)। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর খবর পেয়ে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও দাবি
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের শরীয়তপুর জেলা সভাপতি অমিত ঘটক চৌধুরী ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ আর না ঘটে।