১১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস রাহুলের প্রত্যাবর্তন, প্রিয়াঙ্কাও পথে—পশ্চিমবঙ্গ ভোটে কংগ্রেসের নতুন জোর

চীনের কারখানায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, আট মাসের মন্দা ভেঙে ডিসেম্বরে উৎপাদন বাড়ল

চীনের কারখানা খাতে দীর্ঘ আট মাসের টানা মন্দা ভেঙে ডিসেম্বর মাসে হঠাৎই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারি জরিপে দেখা গেছে, উৎসবের আগাম অর্ডার ও মজুত বাড়ানোর কারণে উৎপাদন কার্যক্রমে সাময়িক গতি ফিরেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে নীতিনির্ধারকেরা যখন নতুন ভারসাম্য খুঁজছেন, তখন এই তথ্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

উৎপাদন সূচকে অপ্রত্যাশিত উত্থান
ডিসেম্বরে চীনের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে পঞ্চাশ দশমিক একে, যা প্রবৃদ্ধি ও সংকোচনের সীমারেখা পঞ্চাশের ওপরে। আগের মাসে এই সূচক ছিল ঊনপঞ্চাশ দশমিক দুই। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বছরের শেষভাগে উৎপাদন কার্যক্রমে কিছুটা প্রাণ ফিরেছে। বিশেষ করে উৎপাদন উপসূচক এবং নতুন অর্ডারের সূচকে উন্নতি দেখা গেছে, যা মার্চের পর সবচেয়ে ভালো অবস্থান।

উৎসবের আগাম চাহিদায় জোগান
চন্দ্র নববর্ষ সামনে রেখে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও পানীয় খাতে আগাম মজুত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ শৃঙ্খল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং সরবরাহ সময় কমেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই আগাম প্রস্তুতিই উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে রপ্তানি অর্ডার এখনো দুর্বল, যা বৈশ্বিক চাহিদার চাপ ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার দিকটি স্পষ্ট করে।

টেকসই গতি নিয়ে সন্দেহ
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই উন্নতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সরকারি ব্যয়ের মাসভিত্তিক ওঠানামা ও উৎসবকেন্দ্রিক চাহিদার জোরেই এই উত্থান ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবাসন খাতের দীর্ঘ সংকট এবং শিল্পখাতে অতিরিক্ত সক্ষমতার মতো কাঠামোগত সমস্যা দুই হাজার ছাব্বিশ সালেও চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ভোক্তা চাহিদা ও নীতিনির্ধারকদের দুশ্চিন্তা
দেশীয় চাহিদা দুর্বল থাকলে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা মূল্যহ্রাসের চাপ আরও বাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা ভোক্তাদের ব্যয় করতে অনীহার ইঙ্গিত দেয়। কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি সংকটে গৃহস্থালির সম্পদ কমে যাওয়ায় ভোক্তা ব্যয় বাড়ছে না।

সেবা খাতেও ধীর উন্নতি
কারখানা খাতের পাশাপাশি সেবা ও নির্মাণ খাত মিলিয়ে অউৎপাদন সূচকও ডিসেম্বর মাসে সামান্য উন্নতি দেখিয়েছে। আগের মাসে সংকোচনের পর আবারও এটি পঞ্চাশের ওপরে উঠেছে। সামগ্রিকভাবে যৌথ সূচক বলছে, বছরের শেষে চীনা অর্থনীতিতে সীমিত পরিসরে হলেও স্থিতিশীলতার আভাস মিলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা

চীনের কারখানায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, আট মাসের মন্দা ভেঙে ডিসেম্বরে উৎপাদন বাড়ল

০১:০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের কারখানা খাতে দীর্ঘ আট মাসের টানা মন্দা ভেঙে ডিসেম্বর মাসে হঠাৎই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারি জরিপে দেখা গেছে, উৎসবের আগাম অর্ডার ও মজুত বাড়ানোর কারণে উৎপাদন কার্যক্রমে সাময়িক গতি ফিরেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে নীতিনির্ধারকেরা যখন নতুন ভারসাম্য খুঁজছেন, তখন এই তথ্য স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

উৎপাদন সূচকে অপ্রত্যাশিত উত্থান
ডিসেম্বরে চীনের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে পঞ্চাশ দশমিক একে, যা প্রবৃদ্ধি ও সংকোচনের সীমারেখা পঞ্চাশের ওপরে। আগের মাসে এই সূচক ছিল ঊনপঞ্চাশ দশমিক দুই। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বছরের শেষভাগে উৎপাদন কার্যক্রমে কিছুটা প্রাণ ফিরেছে। বিশেষ করে উৎপাদন উপসূচক এবং নতুন অর্ডারের সূচকে উন্নতি দেখা গেছে, যা মার্চের পর সবচেয়ে ভালো অবস্থান।

উৎসবের আগাম চাহিদায় জোগান
চন্দ্র নববর্ষ সামনে রেখে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও পানীয় খাতে আগাম মজুত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ শৃঙ্খল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং সরবরাহ সময় কমেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই আগাম প্রস্তুতিই উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে রপ্তানি অর্ডার এখনো দুর্বল, যা বৈশ্বিক চাহিদার চাপ ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার দিকটি স্পষ্ট করে।

টেকসই গতি নিয়ে সন্দেহ
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই উন্নতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সরকারি ব্যয়ের মাসভিত্তিক ওঠানামা ও উৎসবকেন্দ্রিক চাহিদার জোরেই এই উত্থান ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবাসন খাতের দীর্ঘ সংকট এবং শিল্পখাতে অতিরিক্ত সক্ষমতার মতো কাঠামোগত সমস্যা দুই হাজার ছাব্বিশ সালেও চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ভোক্তা চাহিদা ও নীতিনির্ধারকদের দুশ্চিন্তা
দেশীয় চাহিদা দুর্বল থাকলে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা মূল্যহ্রাসের চাপ আরও বাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা ভোক্তাদের ব্যয় করতে অনীহার ইঙ্গিত দেয়। কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি সংকটে গৃহস্থালির সম্পদ কমে যাওয়ায় ভোক্তা ব্যয় বাড়ছে না।

সেবা খাতেও ধীর উন্নতি
কারখানা খাতের পাশাপাশি সেবা ও নির্মাণ খাত মিলিয়ে অউৎপাদন সূচকও ডিসেম্বর মাসে সামান্য উন্নতি দেখিয়েছে। আগের মাসে সংকোচনের পর আবারও এটি পঞ্চাশের ওপরে উঠেছে। সামগ্রিকভাবে যৌথ সূচক বলছে, বছরের শেষে চীনা অর্থনীতিতে সীমিত পরিসরে হলেও স্থিতিশীলতার আভাস মিলছে।