নতুন বছরের শুরুতেই ভারতের তামাক খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। সিগারেটের ওপর নতুন আবগারি শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরই বৃহস্পতিবার দেশটির তামাক কোম্পানিগুলোর শেয়ারে তীব্র পতন দেখা যায়। এই কর কার্যকর হলে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে প্রায় দশ কোটি ধূমপায়ীর জন্য সিগারেট আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া
বাজার খোলার পরপরই বড় তামাক কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। দেশের শীর্ষ তামাক প্রস্তুতকারক আইটিসির শেয়ার একদিনে প্রায় নয় শতাংশের বেশি কমে যায়, যা গত প্রায় ছয় বছরের মধ্যে তাদের সবচেয়ে খারাপ দিনের দিকেই ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে মার্লবোরো ব্র্যান্ডের পরিবেশক গডফ্রে ফিলিপস ইন্ডিয়ার শেয়ারও বড় ধসের মুখে পড়ে এবং বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের পথে হাঁটে।
নতুন করের সিদ্ধান্ত
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিগারেটের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী প্রতি হাজার শলাকায় নতুন আবগারি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এই শুল্ক আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে বিদ্যমান পণ্য ও পরিষেবা করের পাশাপাশি এই নতুন কর আরোপ করা হবে, ফলে সিগারেটের মোট করের বোঝা আরও বাড়বে।
বিক্রি ও দামের ওপর চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, এই কর বৃদ্ধি তামাক কোম্পানিগুলোর বিক্রির পরিমাণে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। দাম বাড়লে অনেক ভোক্তা বিকল্প পথে ঝুঁকতে পারে, এমনকি অবৈধ বাজারের দিকেও ঝোঁক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রতি শলাকায় কয়েক টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্যনীতি ও সরকারের অবস্থান
সরকারের যুক্তি হলো, ধূমপানজনিত রোগ ভারতের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। সেই কারণেই ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে বড় সতর্কবার্তা, নিয়মিত কর সমন্বয় সহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নতুন এই কর এই নীতিরই অংশ।
বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ
শেয়ারবাজারে এই ঘোষণার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, করের চাপ দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির আয় ও বাজার অংশীদারিত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে তামাক খাত নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















