মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আমদানি পণ্যের ওপর প্রায় সর্বজনীন শুল্ক আরোপ করে তীব্র আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট আগের শুল্ক বাতিল করার পরপরই তিনি নতুন আইনের আওতায় ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। তবে আইন বিশ্লেষকদের বড় অংশের দাবি, এই নতুন সিদ্ধান্তও আইনের সীমা অতিক্রম করেছে এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলেছে।
আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগ
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট যে ধারা ব্যবহার করছেন তা মূলত আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানে গুরুতর সংকট দেখা দিলে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রণীত। বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এই ধারার সরাসরি উদ্দেশ্য নয়। বর্তমানে ডলারের প্রতি আস্থা সংকট বা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতার প্রমাণ না থাকায় এই শুল্ক আরোপকে অনেকেই আইনের ভুল ব্যাখ্যা বলে মনে করছেন।
বাণিজ্য ঘাটতি ও অর্থপ্রদানের সংকট এক নয়
হোয়াইট হাউস বলছে, দীর্ঘদিনের বড় বাণিজ্য ঘাটতি এই পদক্ষেপের ভিত্তি। কিন্তু আইন প্রণয়নের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাণিজ্য ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের সংকট সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আগের মামলায় সরকারের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট ধারা সরাসরি বাণিজ্য ঘাটতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে নতুন শুল্ক আরোপের যুক্তি আরও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সত্তরের দশকের শিক্ষা
এই আইনের জন্ম সত্তরের দশকের বৈশ্বিক আর্থিক অস্থিরতার সময়। তখন ডলারের মান কমে যায় এবং স্বর্ণের সঙ্গে ডলারের বিনিময় প্রথা ভেঙে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদি আমদানি সারচার্জ আরোপ করা হলেও আদালত তা বাতিল করে দেয়। পরে কংগ্রেস নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সীমিত ক্ষমতা দিয়ে আইন সংশোধন করে। উদ্দেশ্য ছিল হঠাৎ বৈদেশিক মুদ্রা সংকট মোকাবিলা করা, নিয়মিত বাণিজ্য ঘাটতি নয়।
কংগ্রেসের একচ্ছত্র ক্ষমতা
সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি মনে করিয়ে দিয়েছে, জনগণের ওপর কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। নির্বাহী শাখা সেই ক্ষমতা ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারে না। তাই নতুন শুল্ক আরোপে স্পষ্ট ও শক্ত আইনি ভিত্তি থাকা জরুরি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় সেই ভিত্তি দুর্বল।

আদালতের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই শুল্ক বহাল থাকলে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে দ্রুত স্থগিতাদেশ দেওয়ার আহ্বান জোরদার হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এক দফা অবৈধ শুল্ক বাতিলের পর আরেক দফা একই ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















