০৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টিকর ডিনারের ২১ সহজ রেসিপি ফখরুলের অভিযোগ: ৫৪ নদীতে ভারতের বাঁধ, মরুভূমির শঙ্কায় বাংলাদেশ পদ্মা নদীতে মিলল খণ্ডিত মরদেহের অংশ, শরীয়তপুরে চাঞ্চল্য সমাজ বদলে দেওয়া ছয় মানুষকে ‘এম-রাইজ হিরো’ সম্মাননা দিল আবুল খায়ের গ্রুপ চীনে বাজার হারাচ্ছে বোয়িং, ট্রাম্পের ২০০ উড়োজাহাজ চুক্তিও দূর করতে পারছে না সংকট ব্রিকস বৈঠকে যৌথ ঘোষণা হয়নি, ইরান-সংকটে প্রকাশ্যে মতভেদ জাপানের সস্তা খাবারের আড়ালে যে কঠিন বাস্তবতা তোহোকুতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, থেমে গেল বুলেট ট্রেন চলাচল গডজিলা এখন শুধু দানব নয়, বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য সবজির দামে আগুন, বাড়তি চাপে ডিম-পেঁয়াজের বাজারও

ফখরুলের অভিযোগ: ৫৪ নদীতে ভারতের বাঁধ, মরুভূমির শঙ্কায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে দেশের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, এই দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৪৯ বছর আগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গঙ্গার পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ফারাক্কার উদ্দেশে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিলেন।

ফারাক্কা বাঁধ ও পানিবণ্টন সংকট

তিনি বলেন, ভারত গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার শুরু করে। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে তীব্র পানি সংকট ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনমত উপেক্ষা করে জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত মানদণ্ড এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়েই ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর সুযোগ দিয়েছিল।

তিনি বলেন, সেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আর থেমে থাকেনি, বরং ফারাক্কা বাঁধ এখন একটি “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে। এর জন্য দেশের মানুষ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মওলানা ভাসানীর আন্দোলনের প্রসঙ্গ

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের দুর্ভোগ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা অনুধাবন করেই মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কার উদ্দেশে ঐতিহাসিক লংমার্চের নেতৃত্ব দেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানানো এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এরপর থেকেই ফারাক্কা বাঁধ এবং এর কারণে সৃষ্ট বৃহৎ মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

আন্তঃসীমান্ত নদী নিয়ে নতুন শঙ্কা

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আজও ফারাক্কা দিবসের গুরুত্ব সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক আইন, বিধি ও কনভেনশন উপেক্ষা করে ভারত বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে এবং একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধীরে ধীরে অনুর্বর ও বন্ধ্যা ভূমিতে পরিণত হওয়ার লক্ষণ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ন্যায্য অধিকারের দাবিতে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক লংমার্চ ছিল সাহসী ও অনুপ্রেরণাদায়ক পদক্ষেপ। প্রতি বছর ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ পালন মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নতুনভাবে উদ্বুদ্ধ করে।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতাও কামনা করেন মির্জা ফখরুল।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টিকর ডিনারের ২১ সহজ রেসিপি

ফখরুলের অভিযোগ: ৫৪ নদীতে ভারতের বাঁধ, মরুভূমির শঙ্কায় বাংলাদেশ

০৯:০৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে দেশের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, এই দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৪৯ বছর আগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গঙ্গার পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ফারাক্কার উদ্দেশে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিলেন।

ফারাক্কা বাঁধ ও পানিবণ্টন সংকট

তিনি বলেন, ভারত গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার শুরু করে। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে তীব্র পানি সংকট ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনমত উপেক্ষা করে জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত মানদণ্ড এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়েই ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর সুযোগ দিয়েছিল।

তিনি বলেন, সেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আর থেমে থাকেনি, বরং ফারাক্কা বাঁধ এখন একটি “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে। এর জন্য দেশের মানুষ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মওলানা ভাসানীর আন্দোলনের প্রসঙ্গ

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের দুর্ভোগ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা অনুধাবন করেই মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কার উদ্দেশে ঐতিহাসিক লংমার্চের নেতৃত্ব দেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানানো এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এরপর থেকেই ফারাক্কা বাঁধ এবং এর কারণে সৃষ্ট বৃহৎ মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

আন্তঃসীমান্ত নদী নিয়ে নতুন শঙ্কা

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আজও ফারাক্কা দিবসের গুরুত্ব সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক আইন, বিধি ও কনভেনশন উপেক্ষা করে ভারত বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে এবং একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধীরে ধীরে অনুর্বর ও বন্ধ্যা ভূমিতে পরিণত হওয়ার লক্ষণ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ন্যায্য অধিকারের দাবিতে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক লংমার্চ ছিল সাহসী ও অনুপ্রেরণাদায়ক পদক্ষেপ। প্রতি বছর ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ পালন মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নতুনভাবে উদ্বুদ্ধ করে।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতাও কামনা করেন মির্জা ফখরুল।