০৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টিকর ডিনারের ২১ সহজ রেসিপি ফখরুলের অভিযোগ: ৫৪ নদীতে ভারতের বাঁধ, মরুভূমির শঙ্কায় বাংলাদেশ পদ্মা নদীতে মিলল খণ্ডিত মরদেহের অংশ, শরীয়তপুরে চাঞ্চল্য সমাজ বদলে দেওয়া ছয় মানুষকে ‘এম-রাইজ হিরো’ সম্মাননা দিল আবুল খায়ের গ্রুপ চীনে বাজার হারাচ্ছে বোয়িং, ট্রাম্পের ২০০ উড়োজাহাজ চুক্তিও দূর করতে পারছে না সংকট ব্রিকস বৈঠকে যৌথ ঘোষণা হয়নি, ইরান-সংকটে প্রকাশ্যে মতভেদ জাপানের সস্তা খাবারের আড়ালে যে কঠিন বাস্তবতা তোহোকুতে শক্তিশালী ভূমিকম্প, থেমে গেল বুলেট ট্রেন চলাচল গডজিলা এখন শুধু দানব নয়, বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য সবজির দামে আগুন, বাড়তি চাপে ডিম-পেঁয়াজের বাজারও

সবজির দামে আগুন, বাড়তি চাপে ডিম-পেঁয়াজের বাজারও

রাজধানীর বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সবজির দাম। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মৌসুমি উৎপাদন সীমিত থাকায় অধিকাংশ সবজিই এখন সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সঙ্গে ডিম ও পেঁয়াজের দামও বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, কলতা বাজার ও নারিন্দা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে ১০০ টাকার নিচে সবজি মিলছে খুব কম। বেগুন, করলা, বরবটি, কচুমুখীসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে।

সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকায়। করলার দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কচুমুখী বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

এছাড়া চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে রয়েছে। টমেটো প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শশা ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদন তুলনামূলক কম হওয়ায় বাজারে দাম বাড়ছে।

কলতা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।

WB - সবজির বাজারে আগুন, ডিম-পেঁয়াজেও বাড়তি চাপ ভোক্তাদের

ডিম-পেঁয়াজেও স্বস্তি নেই

সবজির দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা বিকল্প হিসেবে ডিম কিনছেন। এতে ডিমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে বাদামি রঙের ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা ডিমের দাম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে আরও বেশি দামে ডিম বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রায়সাহেব বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. রফিক বলেন, সবজির দাম বেশি থাকায় মানুষ বেশি করে ডিম কিনছেন। চাহিদা বাড়ায় পাইকারিতেও দাম বেড়েছে।

পেঁয়াজের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ এখন প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। অনেক খুচরা দোকানে পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে। তবে হাইব্রিড পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারের এক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।

মাছ-মুরগির বাজারে ভিন্ন চিত্র

মাছের বাজারে আগের তুলনায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও অনেক মাছ এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। পাঙাস প্রতি কেজি ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা এবং রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

অন্যদিকে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতাই বাড়তি দামের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী বরকত উদ্দিন বলেন, আগে ১ কেজি করে সবজি কিনলেও এখন আধা কেজি বা ২৫০ গ্রাম করে কিনতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

গৃহিণী শারমিন বেগম বলেন, এখন ১০০ টাকার বাজারেও তেমন কিছু কেনা যায় না। মাছ-মাংসের পর ডিমের দামও বাড়ায় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার, পুষ্টিকর ডিনারের ২১ সহজ রেসিপি

সবজির দামে আগুন, বাড়তি চাপে ডিম-পেঁয়াজের বাজারও

০৮:২৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

রাজধানীর বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সবজির দাম। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মৌসুমি উৎপাদন সীমিত থাকায় অধিকাংশ সবজিই এখন সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সঙ্গে ডিম ও পেঁয়াজের দামও বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, কলতা বাজার ও নারিন্দা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে ১০০ টাকার নিচে সবজি মিলছে খুব কম। বেগুন, করলা, বরবটি, কচুমুখীসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে।

সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকায়। করলার দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কচুমুখী বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

এছাড়া চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে রয়েছে। টমেটো প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শশা ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদন তুলনামূলক কম হওয়ায় বাজারে দাম বাড়ছে।

কলতা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।

WB - সবজির বাজারে আগুন, ডিম-পেঁয়াজেও বাড়তি চাপ ভোক্তাদের

ডিম-পেঁয়াজেও স্বস্তি নেই

সবজির দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা বিকল্প হিসেবে ডিম কিনছেন। এতে ডিমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে বাদামি রঙের ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা ডিমের দাম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে আরও বেশি দামে ডিম বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রায়সাহেব বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. রফিক বলেন, সবজির দাম বেশি থাকায় মানুষ বেশি করে ডিম কিনছেন। চাহিদা বাড়ায় পাইকারিতেও দাম বেড়েছে।

পেঁয়াজের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ এখন প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। অনেক খুচরা দোকানে পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে। তবে হাইব্রিড পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারের এক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।

মাছ-মুরগির বাজারে ভিন্ন চিত্র

মাছের বাজারে আগের তুলনায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও অনেক মাছ এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। পাঙাস প্রতি কেজি ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা এবং রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

অন্যদিকে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতাই বাড়তি দামের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী বরকত উদ্দিন বলেন, আগে ১ কেজি করে সবজি কিনলেও এখন আধা কেজি বা ২৫০ গ্রাম করে কিনতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

গৃহিণী শারমিন বেগম বলেন, এখন ১০০ টাকার বাজারেও তেমন কিছু কেনা যায় না। মাছ-মাংসের পর ডিমের দামও বাড়ায় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।