জাপানে এক ছোট্ট বানরশাবককে ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত জাপানি ম্যাকাক শাবক পাঞ্চকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে আবেগের ঝড়, আর সেই সঙ্গে জোরালো হয়েছে চিড়িয়াখানার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন। টোকিওর বাইরে ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানায় থাকা এই শাবককে নিয়ে প্রাণী অধিকারকর্মীদের তীব্র সমালোচনায় নতুন করে সামনে এসেছে বন্দিদশায় প্রাণীর জীবনযন্ত্রণা।
মায়ের পরিত্যাগ, খেলনা ওরাংওটানে আশ্রয়
গত জুলাইয়ে জন্ম নেওয়া পাঞ্চ জন্মের পরপরই মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। কৃত্রিম পরিবেশে বড় হতে থাকা এই শাবককে সম্প্রতি আবার দলে ফেরানোর প্রশিক্ষণ শুরু হয়। কিন্তু এর মধ্যেই তাকে অন্য বানরদের হাতে হেনস্তার শিকার হতে দেখা যায়। একাধিক ছবিতে দেখা গেছে, পাঞ্চ একটি নরম ওরাংওটান খেলনাকে আঁকড়ে ধরে আছে—যেন সান্ত্বনার শেষ আশ্রয়।
এই দৃশ্যই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। হ্যাশট্যাগে ভরে যায় সামাজিক মাধ্যম। বহু মানুষ পাঞ্চের প্রতি সহানুভূতি জানালেও প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি মায়াময় দৃশ্য নয়, বরং গভীর মানসিক আঘাতের বহিঃপ্রকাশ।
প্রাণী অধিকার সংগঠনের কড়া বার্তা
প্রাণীদের নৈতিক আচরণ নিশ্চিত করার আন্তর্জাতিক সংগঠন পেটা এক বিবৃতিতে বলেছে, চিড়িয়াখানা কোনো আশ্রয়স্থল নয়। এখানে প্রাণীদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, তাদের স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। সংগঠনের এশিয়া পরিচালক জেসন বেকার বলেন, যাকে অনেকেই ‘মিষ্টি’ দৃশ্য বলছেন, সেটি আসলে এক সামাজিক প্রাণীর নিঃসঙ্গতা ও শোকের প্রতিফলন।

তিনি পাঞ্চকে একটি স্বীকৃত অভয়ারণ্যে স্থানান্তরের আহ্বান জানান, যেখানে সে প্রাকৃতিক পরিবেশে আরও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।
দর্শনার্থীর ঢল, বিক্রি বেড়েছে খেলনা
পাঞ্চকে এক নজর দেখার জন্য দীর্ঘ ছুটির সপ্তাহান্তে দর্শনার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়েছেন। একদিনেই পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রাণীদের চাপ কমাতে খাঁচার একটি অংশে সীমিত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে যে ওরাংওটান খেলনাটি পাঞ্চ আঁকড়ে ধরে আছে, সেটির চাহিদাও হঠাৎ বেড়ে গেছে। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কিছু দেশে সাময়িকভাবে মজুত শেষ হয়ে গেছে।
দলে ফেরার চেষ্টা
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ আপডেটে জানানো হয়েছে, দুইটি বানর পাঞ্চকে যত্নসহকারে পরিচর্যা করছে এবং সে ধীরে ধীরে দলে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকেই অর্থ ও সামগ্রী দিয়ে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে বিতর্ক থামছে না। প্রশ্ন উঠছে, সামাজিক ও বুদ্ধিমান প্রাণীদের বন্দি পরিবেশে রাখা কতটা ন্যায্য। পাঞ্চের গল্প এখন শুধু এক শাবকের নয়, বরং চিড়িয়াখানার নীতির বিরুদ্ধে নতুন করে উচ্চারিত এক প্রতিবাদের প্রতীক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















