০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
এশিয়ায় সতর্কতা, ট্রাম্পের শুল্ক ক্ষমতা সীমিত হলেও রূপকাঠামো অটুট মার্কিন পরিবারের জন্য ট্রাম্পের শুল্ক ফেরতের দাবি জোরালো সিঙ্গাপুরে জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব বেড়েছে: তাপমাত্রা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিপদের সংকেত ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শীর্ষ সম্মেলনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার সংমিশ্রণ রমজান মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলার কঠোর নিন্দা জানাল ভারত মার‑এ‑লাগোতে নিরাপত্তা ভেঙে প্রবেশ, অস্ত্রধারী ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ভারতের ‘বুং’ সিনেমা ইতিহাস সৃষ্টি করলো, BAFTA-এ জিতলো সেরা শিশু ও পারিবারিক সিনেমার পুরস্কার আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা: ৮০ জন সন্ত্রাসী নিহত , সীমান্ত উত্তেজনা তীব্র করাচি প্রদেশ বিরোধী সিন্ধ প্রস্তাব ‘সংবিধিবিরোধী’: এমকিউএম-পি তীব্র প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের বিস্তারের দাবি: মার্কিন দূতের মন্তব্যে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর কড়া প্রতিবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের আগাম ফোটা, আবাদিদের মনে নতুন আশা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে ইতিমধ্যেই আমের ফুল ফুটতে শুরু করেছে, যা দেশের বৃহত্তম আম উৎপাদন কেন্দ্রে সফল ফসলের আশার আলোকছটা জাগাচ্ছে। গত বছর সময়মতো ফল ধরার সময় অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে ক্ষতি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা এ বছরের উৎপাদন পরিকল্পনায় নতুন সতর্কতা এনেছে।

প্রায় সব বাগানে ফোটা শুরু

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, জেলা জুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ আমগাছ ইতিমধ্যেই ফুলে ছেয়ে গেছে। অনুকূল তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ফুল ফোটার জন্য প্রায় আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা আশাবাদী, যদি আবহাওয়া মাসের শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে, বাকি বাগানগুলোও দ্রুত ফোটে উঠবে এবং পুরো অঞ্চল সোনালি ফুলে আচ্ছাদিত হবে।

Primenewsbd.net

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: দেশের আমের রাজধানী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭,৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়, যেখানে ১৫০টিরও বেশি জাতের আম চাষ করা হয়। ফজলি, কেসর, গোপালভোগ এবং লংরা জাতের আম দেশের বাজারে সরবরাহিত হয় এবং মৌসুমী রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই আগাম ফুল ফুটা একটি আশার বার্তা বহন করছে, কারণ আম এই জেলার প্রধান নগদ ফসল ও অর্থনৈতিক প্রবাহের মূল চালিকা শক্তি।

Early mango bloom signals hope for Chapainawabganj growers | The Business  Standard

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে কৃষকরা সতর্ক। গত বছর প্রচুর ফুল ফোটার পরও ফল ধরার সময় ভারী বর্ষণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল এবং দাম কমিয়ে দিয়েছিল। টিকরামপুরের আবাদি আবদুল মতিন বললেন, “আবহাওয়া মৌসুমের শুরু থেকে অনুকূল। যদি আগামী ১০ দিনও এমন থাকে, আরও বেশি ফুল ফুটবে।” তিনি উল্লেখ করলেন, স্থিতিশীল আবহাওয়া থাকলেই ভালো ফসল আশা করা যায়।

আরম্ভাগের কৃষক মুকুল হোসেন সরকারী সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, ধান, গম বা পাট চাষিদের মতো আম চাষিরা পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা পান না। তিনি বলেন, “যদি সরকার আম চাষিদের প্রণোদনা দেয়, আমরা উৎপাদন উন্নয়নে আরও আগ্রহী হব। ইনপুটের দাম নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ঋণে সহজ প্রবেশও প্রয়োজন।”

Mango orchards fill up with blossoms in Rajshahi | Agriculture News |  Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও প্রস্তুতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিএইচসি ডেপুটি ডিরেক্টর ড. ইয়াসিন আলি জানিয়েছেন, ৭০ শতাংশ গাছে ফুল ফুটেছে এবং আবহাওয়া মাসের শেষ পর্যন্ত সহায়ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বাগান পরিদর্শন করছেন, সঠিক সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই প্রতিরোধের পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক বাগান ইতিমধ্যেই ফাংগিসাইড ও কীটনাশক প্রয়োগ করেছে। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে মৌমাছির সংখ্যা রক্ষা করা হচ্ছে, যা পরাগায়ন নিশ্চিত করবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত কুয়াশা, আগাম বৃষ্টি বা তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন ফুল পড়া ঘটাতে পারে, যা ফল ধরাকে প্রভাবিত করবে। তবে আপাতত জেলার বাগানগুলো সতর্ক আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এশিয়ায় সতর্কতা, ট্রাম্পের শুল্ক ক্ষমতা সীমিত হলেও রূপকাঠামো অটুট

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের আগাম ফোটা, আবাদিদের মনে নতুন আশা

১২:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে ইতিমধ্যেই আমের ফুল ফুটতে শুরু করেছে, যা দেশের বৃহত্তম আম উৎপাদন কেন্দ্রে সফল ফসলের আশার আলোকছটা জাগাচ্ছে। গত বছর সময়মতো ফল ধরার সময় অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে ক্ষতি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা এ বছরের উৎপাদন পরিকল্পনায় নতুন সতর্কতা এনেছে।

প্রায় সব বাগানে ফোটা শুরু

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, জেলা জুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ আমগাছ ইতিমধ্যেই ফুলে ছেয়ে গেছে। অনুকূল তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ফুল ফোটার জন্য প্রায় আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা আশাবাদী, যদি আবহাওয়া মাসের শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে, বাকি বাগানগুলোও দ্রুত ফোটে উঠবে এবং পুরো অঞ্চল সোনালি ফুলে আচ্ছাদিত হবে।

Primenewsbd.net

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: দেশের আমের রাজধানী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭,৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়, যেখানে ১৫০টিরও বেশি জাতের আম চাষ করা হয়। ফজলি, কেসর, গোপালভোগ এবং লংরা জাতের আম দেশের বাজারে সরবরাহিত হয় এবং মৌসুমী রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই আগাম ফুল ফুটা একটি আশার বার্তা বহন করছে, কারণ আম এই জেলার প্রধান নগদ ফসল ও অর্থনৈতিক প্রবাহের মূল চালিকা শক্তি।

Early mango bloom signals hope for Chapainawabganj growers | The Business  Standard

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে কৃষকরা সতর্ক। গত বছর প্রচুর ফুল ফোটার পরও ফল ধরার সময় ভারী বর্ষণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল এবং দাম কমিয়ে দিয়েছিল। টিকরামপুরের আবাদি আবদুল মতিন বললেন, “আবহাওয়া মৌসুমের শুরু থেকে অনুকূল। যদি আগামী ১০ দিনও এমন থাকে, আরও বেশি ফুল ফুটবে।” তিনি উল্লেখ করলেন, স্থিতিশীল আবহাওয়া থাকলেই ভালো ফসল আশা করা যায়।

আরম্ভাগের কৃষক মুকুল হোসেন সরকারী সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, ধান, গম বা পাট চাষিদের মতো আম চাষিরা পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা পান না। তিনি বলেন, “যদি সরকার আম চাষিদের প্রণোদনা দেয়, আমরা উৎপাদন উন্নয়নে আরও আগ্রহী হব। ইনপুটের দাম নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ঋণে সহজ প্রবেশও প্রয়োজন।”

Mango orchards fill up with blossoms in Rajshahi | Agriculture News |  Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও প্রস্তুতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিএইচসি ডেপুটি ডিরেক্টর ড. ইয়াসিন আলি জানিয়েছেন, ৭০ শতাংশ গাছে ফুল ফুটেছে এবং আবহাওয়া মাসের শেষ পর্যন্ত সহায়ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বাগান পরিদর্শন করছেন, সঠিক সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই প্রতিরোধের পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক বাগান ইতিমধ্যেই ফাংগিসাইড ও কীটনাশক প্রয়োগ করেছে। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে মৌমাছির সংখ্যা রক্ষা করা হচ্ছে, যা পরাগায়ন নিশ্চিত করবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত কুয়াশা, আগাম বৃষ্টি বা তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন ফুল পড়া ঘটাতে পারে, যা ফল ধরাকে প্রভাবিত করবে। তবে আপাতত জেলার বাগানগুলো সতর্ক আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।