চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে ইতিমধ্যেই আমের ফুল ফুটতে শুরু করেছে, যা দেশের বৃহত্তম আম উৎপাদন কেন্দ্রে সফল ফসলের আশার আলোকছটা জাগাচ্ছে। গত বছর সময়মতো ফল ধরার সময় অস্বাভাবিক আবহাওয়ার কারণে ক্ষতি হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা এ বছরের উৎপাদন পরিকল্পনায় নতুন সতর্কতা এনেছে।
প্রায় সব বাগানে ফোটা শুরু
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, জেলা জুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ আমগাছ ইতিমধ্যেই ফুলে ছেয়ে গেছে। অনুকূল তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ফুল ফোটার জন্য প্রায় আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা আশাবাদী, যদি আবহাওয়া মাসের শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে, বাকি বাগানগুলোও দ্রুত ফোটে উঠবে এবং পুরো অঞ্চল সোনালি ফুলে আচ্ছাদিত হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: দেশের আমের রাজধানী
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭,৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়, যেখানে ১৫০টিরও বেশি জাতের আম চাষ করা হয়। ফজলি, কেসর, গোপালভোগ এবং লংরা জাতের আম দেশের বাজারে সরবরাহিত হয় এবং মৌসুমী রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই আগাম ফুল ফুটা একটি আশার বার্তা বহন করছে, কারণ আম এই জেলার প্রধান নগদ ফসল ও অর্থনৈতিক প্রবাহের মূল চালিকা শক্তি।

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে কৃষকরা সতর্ক। গত বছর প্রচুর ফুল ফোটার পরও ফল ধরার সময় ভারী বর্ষণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল এবং দাম কমিয়ে দিয়েছিল। টিকরামপুরের আবাদি আবদুল মতিন বললেন, “আবহাওয়া মৌসুমের শুরু থেকে অনুকূল। যদি আগামী ১০ দিনও এমন থাকে, আরও বেশি ফুল ফুটবে।” তিনি উল্লেখ করলেন, স্থিতিশীল আবহাওয়া থাকলেই ভালো ফসল আশা করা যায়।
আরম্ভাগের কৃষক মুকুল হোসেন সরকারী সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, ধান, গম বা পাট চাষিদের মতো আম চাষিরা পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা পান না। তিনি বলেন, “যদি সরকার আম চাষিদের প্রণোদনা দেয়, আমরা উৎপাদন উন্নয়নে আরও আগ্রহী হব। ইনপুটের দাম নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ঋণে সহজ প্রবেশও প্রয়োজন।”

কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও প্রস্তুতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিএইচসি ডেপুটি ডিরেক্টর ড. ইয়াসিন আলি জানিয়েছেন, ৭০ শতাংশ গাছে ফুল ফুটেছে এবং আবহাওয়া মাসের শেষ পর্যন্ত সহায়ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বাগান পরিদর্শন করছেন, সঠিক সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই প্রতিরোধের পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক বাগান ইতিমধ্যেই ফাংগিসাইড ও কীটনাশক প্রয়োগ করেছে। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে মৌমাছির সংখ্যা রক্ষা করা হচ্ছে, যা পরাগায়ন নিশ্চিত করবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত কুয়াশা, আগাম বৃষ্টি বা তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন ফুল পড়া ঘটাতে পারে, যা ফল ধরাকে প্রভাবিত করবে। তবে আপাতত জেলার বাগানগুলো সতর্ক আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















