০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার মেধাতালিকা ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের

গ্রামীণ ঝড় ও শহুরে উত্থানে তৃণমূলকে ছাপিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর অবশেষে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। ভোটগণনার শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১০২টিতে জয় পেয়েছে এবং আরও ১০৪টিতে এগিয়ে থেকে মোট ২০৬ আসনের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এর ফলে তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস অনেক পিছিয়ে ৮১ আসনে সীমাবদ্ধ থেকেছে।

ভোটের শতাংশের দিক থেকেও বিজেপির বড় উত্থান দেখা গেছে। ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৭.৫ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি পেয়ে দলটির ভোটশেয়ার দাঁড়িয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশে। তৃণমূল পেয়েছে ৪১.১ শতাংশ ভোট, যা বিজেপির চেয়ে চার শতাংশের বেশি কম।

গ্রামীণ দক্ষিণ-পশ্চিমে বড় ধাক্কা

এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, যা মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা। বর্ধমান, মেদিনীপুর, বীরভূম এবং পুরুলিয়ার অংশজুড়ে বিজেপি ৯৯টি আসনে এগিয়ে ছিল, যেখানে তৃণমূল মাত্র ১৮টিতে সীমাবদ্ধ। এটি ২০২১ সালের ফলাফলের প্রায় উল্টো চিত্র।

Hegemonic power': How Modi's BJP won India's Bengal for the first time |  Elections | Al Jazeera

উত্তরবঙ্গেও বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান

উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও দিনাজপুর এলাকায় বিজেপি ৪০টি আসনে এগিয়ে ছিল, যেখানে তৃণমূল পেয়েছে ১৪টি। এখানে বিজেপির ভোটশেয়ার প্রায় ৪৯ শতাংশ, যা প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

শহুরে ভোটে বড় অগ্রগতি

এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কলকাতা ও তার আশপাশে বিজেপির উত্থান। বৃহত্তর কলকাতায় দলটি ২৮টি আসনে এগিয়ে ছিল, যেখানে তৃণমূল পেয়েছে ১৪টি। ভোটের শতাংশেও বিজেপি সামান্য এগিয়ে থেকে ৪৪.৭ শতাংশ পেয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে এই অঞ্চলে বিজেপির কোনো আসন ছিল না, সেখানে এবার এই অগ্রগতি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই প্রাধান্য

ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামীণ ও আধা-গ্রামীণ এলাকায় বিজেপির সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলেও তাদের ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উচ্চ নগরায়িত আসনগুলোতেও বিজেপি এগিয়ে থেকে তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে।

How Muslim Voters In Bengal Will Shape The 2026 Assembly Poll Outcome

সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ভাঙন

যেসব আসনে মুসলিম ভোটার ২৫ শতাংশের বেশি, সেখানে বিজেপি ৯১টি আসনে এগিয়ে ছিল এবং তৃণমূল পেয়েছে ৬৮টি। ভোটের শতাংশে দুই দলের ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু মুসলিম ভোট তৃণমূল থেকে সরে গিয়ে অন্য দলগুলোর দিকে গেছে, যা আসন ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

তফসিলি আসনে বিজেপির দাপট

এসসি ও এসটি সংরক্ষিত আসনগুলোতে বিজেপির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ৮৪টি আসনের মধ্যে ৬৮টিতে এগিয়ে থেকে দলটি প্রায় ৫০.২ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা তৃণমূলের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ অঞ্চলে ব্যাপক জয়, শহুরে এলাকায় উন্নতি, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ভাঙন এবং সংরক্ষিত আসনে শক্ত অবস্থান—এই সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ

গ্রামীণ ঝড় ও শহুরে উত্থানে তৃণমূলকে ছাপিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল

০৩:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর অবশেষে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। ভোটগণনার শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১০২টিতে জয় পেয়েছে এবং আরও ১০৪টিতে এগিয়ে থেকে মোট ২০৬ আসনের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এর ফলে তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস অনেক পিছিয়ে ৮১ আসনে সীমাবদ্ধ থেকেছে।

ভোটের শতাংশের দিক থেকেও বিজেপির বড় উত্থান দেখা গেছে। ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৭.৫ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি পেয়ে দলটির ভোটশেয়ার দাঁড়িয়েছে ৪৫.৭৫ শতাংশে। তৃণমূল পেয়েছে ৪১.১ শতাংশ ভোট, যা বিজেপির চেয়ে চার শতাংশের বেশি কম।

গ্রামীণ দক্ষিণ-পশ্চিমে বড় ধাক্কা

এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, যা মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা। বর্ধমান, মেদিনীপুর, বীরভূম এবং পুরুলিয়ার অংশজুড়ে বিজেপি ৯৯টি আসনে এগিয়ে ছিল, যেখানে তৃণমূল মাত্র ১৮টিতে সীমাবদ্ধ। এটি ২০২১ সালের ফলাফলের প্রায় উল্টো চিত্র।

Hegemonic power': How Modi's BJP won India's Bengal for the first time |  Elections | Al Jazeera

উত্তরবঙ্গেও বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান

উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও দিনাজপুর এলাকায় বিজেপি ৪০টি আসনে এগিয়ে ছিল, যেখানে তৃণমূল পেয়েছে ১৪টি। এখানে বিজেপির ভোটশেয়ার প্রায় ৪৯ শতাংশ, যা প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

শহুরে ভোটে বড় অগ্রগতি

এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কলকাতা ও তার আশপাশে বিজেপির উত্থান। বৃহত্তর কলকাতায় দলটি ২৮টি আসনে এগিয়ে ছিল, যেখানে তৃণমূল পেয়েছে ১৪টি। ভোটের শতাংশেও বিজেপি সামান্য এগিয়ে থেকে ৪৪.৭ শতাংশ পেয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে এই অঞ্চলে বিজেপির কোনো আসন ছিল না, সেখানে এবার এই অগ্রগতি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই প্রাধান্য

ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রামীণ ও আধা-গ্রামীণ এলাকায় বিজেপির সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলেও তাদের ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উচ্চ নগরায়িত আসনগুলোতেও বিজেপি এগিয়ে থেকে তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে।

How Muslim Voters In Bengal Will Shape The 2026 Assembly Poll Outcome

সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ভাঙন

যেসব আসনে মুসলিম ভোটার ২৫ শতাংশের বেশি, সেখানে বিজেপি ৯১টি আসনে এগিয়ে ছিল এবং তৃণমূল পেয়েছে ৬৮টি। ভোটের শতাংশে দুই দলের ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু মুসলিম ভোট তৃণমূল থেকে সরে গিয়ে অন্য দলগুলোর দিকে গেছে, যা আসন ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

তফসিলি আসনে বিজেপির দাপট

এসসি ও এসটি সংরক্ষিত আসনগুলোতে বিজেপির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ৮৪টি আসনের মধ্যে ৬৮টিতে এগিয়ে থেকে দলটি প্রায় ৫০.২ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা তৃণমূলের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ অঞ্চলে ব্যাপক জয়, শহুরে এলাকায় উন্নতি, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ভাঙন এবং সংরক্ষিত আসনে শক্ত অবস্থান—এই সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়েছে।