ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ থাকা রাশিয়ার জন্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজারবাইজানে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও উৎসব প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিতে গিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই আয়োজন তাদের সব সদস্য দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির জাতীয় দল ও ক্লাবগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রয়েছে। তবে রাশিয়ার ফুটবল ফেডারেশনের সদস্যপদ কখনও বাতিল করা হয়নি। সেই কারণেই নতুন এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নতুন টুর্নামেন্ট নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
ফিফা জানিয়েছে, আগামী ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর আজারবাইজানে অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের এই আন্তর্জাতিক আসর অনুষ্ঠিত হবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর চূড়ান্ত তালিকা পরে প্রকাশ করা হবে। তবে সদস্য দেশগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত রাখার ঘোষণাই সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাশিয়া এই বার্তাকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে রাশিয়ার দলগুলোর প্রত্যাবর্তনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ধারাবাহিকতা
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে রাশিয়া ও বেলারুশের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট শর্তে দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে।
প্রথমদিকে নিরপেক্ষ পতাকার অধীনে কেবল ব্যক্তিগত ইভেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আরও নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করে। কিছু ক্ষেত্রে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত ব্যবহারের সুযোগও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অলিম্পিক অঙ্গনেও পরিবর্তনের আভাস
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক আন্দোলনের নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা পর্যবেক্ষকদের একাংশ রাশিয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশটির ধীরে ধীরে পুনরাগমনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
আগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল
এর আগে ইউরোপীয় ফুটবলে রাশিয়ার বয়সভিত্তিক দলগুলোকে ফিরিয়ে আনার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন পরিকল্পনা ছিল জাতীয় পতাকা, সংগীত বা সরকারি পরিচয় ছাড়া তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। কিন্তু ইউক্রেনসহ একাধিক দেশের তীব্র আপত্তি এবং বয়কটের হুমকির মুখে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
তবে এবার ফিফার নতুন ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাশিয়ার যুব দলগুলোর প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও অংশগ্রহণকারী দেশের তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















