কেরালার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। দীর্ঘ এক দশক বিরোধী আসনে থাকার পর এই জোট প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসন জিতে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছে। অন্যদিকে, সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) পেয়েছে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল।
ঐতিহাসিক ভোট ও আসন অর্জন
ইউডিএফ এবারের নির্বাচনে ৪৬.৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৪০ আসনের মধ্যে ১০২টি দখল করেছে, যা ২০০১ সালের পর তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। ২০২১ সালের তুলনায় তাদের ভোট শেয়ার বেড়েছে ৭.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট এবং আসন বেড়েছে ৬২টি। এই ফলাফল শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও এক বড় প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এলডিএফের নজিরবিহীন পতন
অন্যদিকে এলডিএফ পেয়েছে মাত্র ৩৭.৩৪ শতাংশ ভোট এবং আসন নেমে এসেছে ৩৫-এ, যা ২০২১ সালের ৯৯ থেকে এক ধাক্কায় ৬৪টি কম। ১৯৮২ সালের পর এই জোটের সবচেয়ে খারাপ ফল এটি। ২০২১ সালে এলডিএফ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ব্যতিক্রম তৈরি করলেও এবারের ফল সেই ধারাকে পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে।
জোট ও দলগুলোর পারফরম্যান্স
ইউডিএফের ভেতরে কংগ্রেস সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা ৯২টি আসনে লড়ে ৬৩টিতে জয় পেয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৪২টি বেশি। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) ২৬টি আসনে লড়ে ২২টিতে জয় পেয়েছে এবং তাদের ভোট শেয়ার ৫২.৫৪ শতাংশ, যা জোটের মধ্যে সর্বোচ্চ। কেরালা কংগ্রেসও ৮টির মধ্যে ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।
এলডিএফের ক্ষেত্রে সিপিআই(এম) ৭৭টি আসনে লড়ে মাত্র ২৬টিতে জিতেছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় বড় পতন। সিপিআইও ২৪টির মধ্যে মাত্র ৮টিতে জয় পেয়েছে। জোটের ছোট সহযোগী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি।
আঞ্চলিক চিত্রে ইউডিএফের দাপট
কেরালার তিনটি প্রধান অঞ্চল—মালাবার, কোচিন ও ত্রিবাঙ্কুর—সব জায়গাতেই ইউডিএফ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মালাবারে তাদের ভোট শেয়ার ৫০.২৯ শতাংশ, কোচিনে ৪৫.২৭ শতাংশ এবং ত্রিবাঙ্কুরে ৪৩.২১ শতাংশ। এই বিস্তৃত সমর্থনই তাদের বড় জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে এলডিএফের ভোট শেয়ার তিন অঞ্চলে ৩৬.৬ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বিশেষ করে ত্রিবাঙ্কুর অঞ্চলে তাদের পতন সবচেয়ে বেশি—২০২১ সালে যেখানে ৪০টি আসন ছিল, এবার তা নেমে এসেছে মাত্র ১১-তে।
বিজেপির সীমিত অগ্রগতি
বিজেপি যদিও বড় সাফল্য পায়নি, তবুও ২০২১ সালে শূন্য থেকে বেড়ে এবার ৩টি আসন পেয়েছে, যা রাজ্যে তাদের সর্বোচ্চ। এনডিএ জোটের ভোট শেয়ার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.২ শতাংশে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















