সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে “ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব” বলে আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘বদলা নয়, বদল’-এর বার্তা সামনে আনলেন। তাঁর মতে, এই ফল শুধু রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন।
নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরির ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের মধ্যেও মানুষ যে স্থিতিশীল শাসনের পক্ষে রায় দিয়েছে, তা গণতন্ত্রের শক্তির পরিচয় বলেই উল্লেখ করেন তিনি।
গণতন্ত্র ও সংবিধানের জয়
মোদি বলেন, ভারতের কাছে গণতন্ত্র কেবল একটি ব্যবস্থা নয়, এটি একটি ঐতিহ্য। তাঁর কথায়, “আজ শুধু ভারতের গণতন্ত্র নয়, সংবিধানও জয়ী হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ারও জয় হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে ২০টির বেশি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার রয়েছে, এবং তাদের মূলমন্ত্র ‘নাগরিক দেবো ভব’—অর্থাৎ নাগরিকই সর্বোচ্চ।

বঙ্গ নিয়ে নতুন আশ্বাস
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাফল্যকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করে মোদি বলেন, এটি হবে “ভয়মুক্ত ও আশ্বাসভরা” এক নতুন যাত্রা। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির স্বপ্নের “শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলা” গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে এবং অভিবাসন কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের বাংলা
মোদি বলেন, নতুন সরকার এমন এক বাংলা গড়ে তুলতে কাজ করবে যেখানে “মনের ভয় থাকবে না, মাথা থাকবে উঁচু”—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কল্পনার বাস্তবায়নই হবে লক্ষ্য।

রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান
বক্তব্যে তিনি রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি আহ্বান জানান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহিংসতার চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে। তাঁর ভাষায়, “এখন প্রতিশোধের কথা নয়, পরিবর্তনের কথা বলতে হবে। ভয়ের নয়, ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।”
বিরোধীদের আক্রমণ
এই সুযোগে বিরোধী দলগুলির সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর করার উদ্যোগে কংগ্রেসসহ কয়েকটি দল বাধা দিয়েছিল। তাঁর মতে, এর ফলে নারী ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে ওই দলগুলিকে।
মোদি আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















