পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনে আবারও ক্ষমতা ধরে রাখল ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)। মুখ্যমন্ত্রী এন. রঙ্গাসামির নেতৃত্বে অল ইন্ডিয়া এন. আর. কংগ্রেস (এআইএনআরসি) জোট ৩০টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথ সুগম করেছে। ফলাফল বলছে, রঙ্গাসামির নেতৃত্বে জোটটি আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
জোটের শক্তি ও আসন বণ্টন
এই নির্বাচনে এআইএনআরসি একাই ১২টি আসন জিতে আগের চেয়ে দুই আসন বাড়িয়েছে। জোটসঙ্গী বিজেপি চারটি আসন পেলেও তাদের আসনসংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। এছাড়া অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজগম এবং লক্ষ্মিয়া জননায়গা কাচ্চি একটি করে আসন জিতেছে। ব্যবসায়ী হোসে চার্লস মার্টিনের নেতৃত্বাধীন লক্ষ্মিয়া জননায়গা কাচ্চির এই সাফল্য নজর কেড়েছে।

অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে ইন্ডিয়া জোটের অংশ হিসেবে লড়াই করা দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজগম পাঁচটি আসন পেয়েছে। তবে কংগ্রেসের ফলাফল হতাশাজনক—তারা মাত্র একটি আসনে জয় পেয়েছে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় কম। তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজগম দুটি আসন জিতেছে এবং তাদের মিত্র নেয়্যম মাক্কাল কাজগম একটি আসন পেয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। কাদিরগামাম থেকে আজাগানাথন, মাহে থেকে টি. অশোক কুমার এবং কারাইকাল অঞ্চলের সংরক্ষিত নেডুঙ্গাডু আসন থেকে ভি. ভিগনেশ্বরন জয় পেয়েছেন।
রঙ্গাসামির জোড়া জয়
এই নির্বাচনের অন্যতম বড় দিক হলো মুখ্যমন্ত্রী এন. রঙ্গাসামির ব্যক্তিগত সাফল্য। তিনি যে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন—থাট্টানচাভাডি ও মঙ্গলাম—দুটিতেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। থাট্টানচাভাডিতে তিনি ৪,৪৪১ ভোটে জয়ী হন, আর মঙ্গলামে তার জয়ের ব্যবধান ছিল ৭,০৫০ ভোট।

থাট্টানচাভাডি আসনের লড়াই বিশেষভাবে আলোচিত ছিল। কারণ এখানে তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পুদুচেরি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ ভি. বৈথিলিঙ্গম। কিন্তু তিনি মোট ২৩,৫৭৮ ভোটের মধ্যে মাত্র ২,৯৯০ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন। এই আসনে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন নেয়্যম মাক্কাল কাজগমের ই. বিনয়াগম এবং তৃতীয় হন স্বতন্ত্র প্রার্থী কে. সেতু সেলভম।
রাজনৈতিক বার্তা
ফলাফল থেকে স্পষ্ট, পুদুচেরিতে এনডিএর সংগঠন ও নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী জোটের দুর্বলতাও এই নির্বাচনে প্রকাশ পেয়েছে, বিশেষ করে কংগ্রেসের আসনসংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে দুর্বল হয়েছে।
পুদুচেরির এই ফলাফল দক্ষিণ ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















