পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর আসনে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ভোট গণনার শেষ দিকে এসে এই ফল নিশ্চিত হওয়ার পর মমতা অভিযোগ করেন, এটি “অনৈতিক” এবং “অবৈধ” জয়।
ফলাফল অনুযায়ী, ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী পান ৭৩,৯১৭ ভোট, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্ত ভোট ৫৮,৮১২। অর্থাৎ ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জয় পান অধিকারী। দিনের শুরুতে গণনার প্রাথমিক ধাপে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়েন মমতা।
অভিযোগে তীব্র মমতা
গণনা কেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি “১০০-র বেশি আসন লুট করেছে” এবং নির্বাচন কমিশনও পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর দাবি, “এটি কোনও নৈতিক জয় নয়, সম্পূর্ণ অনৈতিক জয়। যা হয়েছে তা অবৈধ।”
![]()
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি বেআইনি ভাবে পরিচালিত হয়েছে। “এটা লুট, লুট, লুট—আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব,” বলেন তিনি।
গণনা কেন্দ্রে উত্তেজনা
ভোট গণনার দিন বিকেল প্রায় সাড়ে তিনটার সময় কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলে অবস্থিত গণনা কেন্দ্রে পৌঁছান মমতা। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি। এই সময় তিনি একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
মমতার দাবি, তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। তাঁর দলের এজেন্টদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দিনভর রাজনৈতিক চাপানউতোর
দিনের শুরু থেকেই তৃণমূল কর্মীদের ওপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচারের অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, দলীয় অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে এবং দখল নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
&imwidth=800&imheight=600&format=webp&quality=medium)
অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর জয়কে দলের কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁকে সমর্থন করেছেন। পাশাপাশি, অতীতে দলীয় সংগ্রামে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
পুরনো লড়াই, নতুন ফল
২০২১ সালেও নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, যদিও অল্প ব্যবধানে। পরে উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। এবার সেই ভবানীপুরেই বড় ব্যবধানে হারলেন তিনি। একই দিনে নন্দীগ্রাম আসনেও জয় পান শুভেন্দু।
এই ফলাফলের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হল, যেখানে শাসক দলের প্রধান নেত্রীর পরাজয় বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















