আসামে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নর্থ-ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনইডিএ) একতরফা জয় তুলে নিয়ে আবারও সরকার গঠনের পথে। ১২৬ আসনের মধ্যে ১০২টিতে জয় পেয়ে জোটটি আগের চেয়ে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে, যা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে টানা তৃতীয় মেয়াদের পথ খুলে দিয়েছে।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন আসোম সনমিলিত মোর্চা (এএসএম) এই নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়ে মাত্র ২১ আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) পেয়েছে ২টি আসন এবং তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ১টি আসনে জয়ী হয়েছে।
ভোটের হিসেবে এনইডিএ পেয়েছে ৪৮.২৭ শতাংশ ভোট, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৩.৭৬ শতাংশ বেশি। বিপরীতে এএসএমের ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫.৪১ শতাংশে। বিজেপি একাই ৯০টি আসনে লড়ে ৮২টিতে জয় পেয়েছে এবং তাদের ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৫৪.৯৫ শতাংশ, যা আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

আঞ্চলিক চিত্রে আধিপত্য
আসামকে সাধারণভাবে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়—উত্তর অসম, নিম্ন অসম এবং বরাক উপত্যকা। সাম্প্রতিক সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে আগের নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি তুলনা কঠিন হলেও সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ও নিম্ন অসমে এনইডিএর একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রয়েছে।
তবে বরাক উপত্যকা কিছুটা ব্যতিক্রম। এখানে বাঙালি মুসলিম ও বাঙালি হিন্দু ভোটারের প্রাধান্য থাকায় ভোটের হিসেবে এএসএম এগিয়ে ছিল। তবুও আসনের দিক থেকে এনইডিএই এগিয়ে থাকে, যা তাদের সামগ্রিক জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চা-বাগান অঞ্চলে নিরঙ্কুশ সাফল্য
আসামের চা-বাগান অঞ্চল, যেখানে আদিবাসী ও ‘টি-ট্রাইব’ সম্প্রদায়ের ভোটাররা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে, সেই ৪৫টি আসনের মধ্যে ৪৩টিতেই জয় পেয়েছে এনইডিএ। এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, এবং এখানকার ভোটব্যাঙ্ককে দৃঢ়ভাবে নিজেদের পক্ষে টানতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি জোট।
সংরক্ষিত আসনেও স্পষ্ট ব্যবধান
তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংরক্ষিত ২৪টি আসনের মধ্যেও এনইডিএর প্রাধান্য স্পষ্ট। তারা ২১টি আসনে জয় পেয়েছে, যেখানে এএসএম পেয়েছে মাত্র ২টি। এই আসনগুলিতে এনইডিএর ভোটের হার ছিল ৫১.৭ শতাংশ, যা তাদের জয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়েছে।
বিরোধী জোটের ভরাডুবি
এএসএম জোটের ভেতরে কংগ্রেস ৯৯টি আসনে লড়ে মাত্র ১৯টিতে জয় পেয়েছে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় কম। নতুনভাবে জোটে যোগ দেওয়া রাইজর দল ১৩টি আসনে লড়ে ২টিতে জয় পায়। অন্যদিকে, অসম জাতীয় পরিষদ কোনো আসনই পায়নি, যা বিরোধী শিবিরের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ও নিম্ন অসমে শক্ত অবস্থান, চা-বাগান অঞ্চলে প্রভাব এবং সংরক্ষিত আসনে স্পষ্ট আধিপত্য—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই এনইডিএ তাদের এই বিপুল জয় নিশ্চিত করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















