০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
সুইজারল্যান্ডের ক্রাঁ-মন্তানায় বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নতুন বছরের প্রথম প্রহরে বহু প্রাণহানির আশঙ্কা নগদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ লেনদেন, ২০২৫ সালে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার মাইলফলক জামায়াত আমিরের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা ইসলামী ব্যাংকে এক হাজার প্রশিক্ষণ সহকারী কর্মকর্তার বরণ শীর্ষ উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে পুনর্নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক সায়েদুর রহমান অর্থনৈতিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় ইরানে বিপ্লবী গার্ডের এক স্বেচ্ছাসেবক নিহত সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলো, নতুন বছরে সংকটে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তরা জয়শঙ্করের সঙ্গে একান্ত বৈঠক নয়, শোকের মুহূর্তে সৌজন্য রক্ষা করেছে সবাই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিউইয়র্কের রাজনীতিতে মুসলিমদের উত্থান, মামদানির জয়ে শহরের ক্ষমতার মানচিত্রে নতুন অধ্যায় শান্তির পথে কঠিন বাঁক, নতুন বছরে রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত আরও জটিল

ভারতীয় রুপির নতুন বছরে হোঁচট, তিন বছরে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের ছায়া

২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতীয় মুদ্রাবাজারে অস্বস্তির সুর। বিদায়ী বছরে ধারাবাহিক দুর্বলতার মধ্য দিয়ে ভারতীয় রুপি নতুন বছরে প্রবেশ করেছে চাপের অবস্থায়। ২০২৫ সালে রুপির বার্ষিক দরপতন প্রায় চার দশমিক সাত শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শেয়ারবাজার থেকে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা এই দুর্বলতার প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

বছরজুড়ে রুপির ওপর চাপ
গত বছরের শেষ দিনে রুপির বিনিময় হার প্রায় প্রতি ডলারে নব্বই টাকার কাছাকাছি অবস্থান করে। ২০২৫ সালজুড়ে একাধিকবার রুপি নতুন নতুন নিম্নস্তর স্পর্শ করেছে এবং এক পর্যায়ে একানব্বই টাকার সীমাও অতিক্রম করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ওঠানামা দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের চাপেরই প্রতিফলন।

পুঁজি প্রত্যাহার ও বৈদেশিক লেনদেনের সংকট
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রুপির দুর্বলতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পুঁজি প্রবাহের সংকোচন। গত বছর ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিপুল অর্থ তুলে নেন। একই সঙ্গে ঋণ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক অর্থ প্রবাহ প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। এপ্রিল থেকে নভেম্বর সময়ে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ায় মুদ্রাবাজারে চাপ আরও বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য অনিশ্চয়তা
এশিয়ার অনেক দেশের মুদ্রা যখন তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল, তখন রুপির দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় ভারতের বাণিজ্য ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে এবং রুপিকে অন্য এশীয় মুদ্রার তুলনায় পিছিয়ে দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে নমনীয়তা
নতুন গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুপির বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় আরও নমনীয় কৌশল গ্রহণ করেছে। অতিরিক্ত জল্পনা বা একমুখী চাপ তৈরি হলে হস্তক্ষেপ করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো হার ধরে রাখার চেষ্টা কম দেখা গেছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রুপি একানব্বই টাকার সীমা ছুঁলে জল্পনামূলক চাপ কমাতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হলেও বাজারকে স্বাভাবিক গতিতেই চলতে দেওয়া হয়।

ডলারের দুর্বলতা, তবু রুপির সুবিধা সীমিত
২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার কমার ফলে ডলার তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল এবং অনেক এশীয় মুদ্রা এর সুফল পায়। তবে ভারী পুঁজি প্রত্যাহার ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে ভারতীয় রুপি সেই সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারেনি।

রপ্তানিতে সম্ভাব্য স্বস্তির ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের ফলে রুপি আর অতিমূল্যায়িত অবস্থায় নেই। বরং সামান্য দুর্বল রুপি রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। মৃদু অবমূল্যায়নের ফলে রপ্তানি আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা মাঝামাঝি মেয়াদে অর্থনীতির কিছু খাতে সহায়ক হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুইজারল্যান্ডের ক্রাঁ-মন্তানায় বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নতুন বছরের প্রথম প্রহরে বহু প্রাণহানির আশঙ্কা

ভারতীয় রুপির নতুন বছরে হোঁচট, তিন বছরে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের ছায়া

০৭:১৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতীয় মুদ্রাবাজারে অস্বস্তির সুর। বিদায়ী বছরে ধারাবাহিক দুর্বলতার মধ্য দিয়ে ভারতীয় রুপি নতুন বছরে প্রবেশ করেছে চাপের অবস্থায়। ২০২৫ সালে রুপির বার্ষিক দরপতন প্রায় চার দশমিক সাত শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শেয়ারবাজার থেকে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা এই দুর্বলতার প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

বছরজুড়ে রুপির ওপর চাপ
গত বছরের শেষ দিনে রুপির বিনিময় হার প্রায় প্রতি ডলারে নব্বই টাকার কাছাকাছি অবস্থান করে। ২০২৫ সালজুড়ে একাধিকবার রুপি নতুন নতুন নিম্নস্তর স্পর্শ করেছে এবং এক পর্যায়ে একানব্বই টাকার সীমাও অতিক্রম করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ওঠানামা দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের চাপেরই প্রতিফলন।

পুঁজি প্রত্যাহার ও বৈদেশিক লেনদেনের সংকট
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রুপির দুর্বলতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পুঁজি প্রবাহের সংকোচন। গত বছর ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিপুল অর্থ তুলে নেন। একই সঙ্গে ঋণ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক অর্থ প্রবাহ প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। এপ্রিল থেকে নভেম্বর সময়ে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতি তৈরি হওয়ায় মুদ্রাবাজারে চাপ আরও বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য অনিশ্চয়তা
এশিয়ার অনেক দেশের মুদ্রা যখন তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল, তখন রুপির দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় ভারতের বাণিজ্য ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে এবং রুপিকে অন্য এশীয় মুদ্রার তুলনায় পিছিয়ে দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে নমনীয়তা
নতুন গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুপির বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় আরও নমনীয় কৌশল গ্রহণ করেছে। অতিরিক্ত জল্পনা বা একমুখী চাপ তৈরি হলে হস্তক্ষেপ করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো হার ধরে রাখার চেষ্টা কম দেখা গেছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রুপি একানব্বই টাকার সীমা ছুঁলে জল্পনামূলক চাপ কমাতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হলেও বাজারকে স্বাভাবিক গতিতেই চলতে দেওয়া হয়।

ডলারের দুর্বলতা, তবু রুপির সুবিধা সীমিত
২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার কমার ফলে ডলার তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল এবং অনেক এশীয় মুদ্রা এর সুফল পায়। তবে ভারী পুঁজি প্রত্যাহার ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে ভারতীয় রুপি সেই সুবিধা পুরোপুরি নিতে পারেনি।

রপ্তানিতে সম্ভাব্য স্বস্তির ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের ফলে রুপি আর অতিমূল্যায়িত অবস্থায় নেই। বরং সামান্য দুর্বল রুপি রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। মৃদু অবমূল্যায়নের ফলে রপ্তানি আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা মাঝামাঝি মেয়াদে অর্থনীতির কিছু খাতে সহায়ক হতে পারে।