১২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলামাবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, পিটিআইয়ের মিছিলে যাচ্ছে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ পিংক বাসে যাত্রী নেই, প্রতিদিন ৫০-৬০ হাজার টাকা লোকসান জাতিসংঘে তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সফর, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নয়: হুমায়ূন কবির নেতানিয়াহুর নজিরবিহীন সংক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নেই ৯৮ বছরে ইন্তেকাল গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শোবেইরি জাঞ্জানি, শোকে ইরান ও শিয়া বিশ্ব ইরানের হুঁশিয়ারি: নতুন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে আরও কঠোর জবাব টাটা ট্রাস্ট–টাটা সন্স দ্বন্দ্বে মালিকানার অধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন ১২২ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাত্র ১১টি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ঢাকার কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার ৫ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ জাপানে অবৈধ বিদেশি শ্রম ঠেকাতে মন্ত্রণালয়গুলোর যৌথ অভিযান

সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলো, নতুন বছরে সংকটে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তরা

নতুন বছরের শুরুতেই জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমিয়েছে সরকার। এতে নিয়মিত আয়ের জন্য এসব সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল মধ্যবিত্ত পরিবার ও অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক চাপে পড়তে হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সংশোধিত সুদের হার কার্যকর হয়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর দ্বিতীয় দফা। ২০২৬ সালের শুরুতে এসে অনেক সঞ্চয়কারীর জন্য আর্থিক নিরাপত্তার জায়গাটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

সঞ্চয়পত্রে নির্ভরশীল পরিবার ও অবসরপ্রাপ্তরা
জাতীয় সঞ্চয়পত্র বা সঞ্চয়পত্র সাধারণত দৈনন্দিন সংসার খরচ, চিকিৎসা ব্যয় ও শিক্ষাব্যয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে পেনশনভোগী ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস।

পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে নতুন হার
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে। আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

পেনশনভোগীদের সঞ্চয়পত্রেও কাটছাঁট
পেনশনভোগী সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বড় অঙ্কের বিনিয়োগে এখানেও মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়ে পরিবর্তন
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আর এর বেশি বিনিয়োগে হার ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। তিন মাস মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এখন পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যেখানে আগে তা ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বেশি অঙ্কের বিনিয়োগে এই হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট
নতুন কাঠামো অনুযায়ী সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে মুনাফা কমার প্রভাব আরও বেশি পড়ছে। এতে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে কার্যত দুটি আলাদা শ্রেণি তৈরি হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য ও ব্যাখ্যা
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামগ্রিক রাজস্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে প্রতি ছয় মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হয়। সঞ্চয়পত্রের সুদ কমিয়ে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সরকারি ঋণের চাপ কমানো এবং মানুষকে ব্যাংকে অর্থ রাখার দিকে উৎসাহিত করা, যাতে ব্যাংক খাতে তারল্য ও ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বাড়ে।

পুরোনো সঞ্চয়পত্রে আগের হারই বহাল
তবে ২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ের আগে কেনা সঞ্চয়পত্রগুলো মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আগের নির্ধারিত মুনাফার হারেই চলবে। নতুন হার প্রযোজ্য হবে কেবল নতুন বিনিয়োগ বা মেয়াদ শেষে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামাবাদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, পিটিআইয়ের মিছিলে যাচ্ছে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ

সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলো, নতুন বছরে সংকটে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তরা

০৭:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের শুরুতেই জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমিয়েছে সরকার। এতে নিয়মিত আয়ের জন্য এসব সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল মধ্যবিত্ত পরিবার ও অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক চাপে পড়তে হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সংশোধিত সুদের হার কার্যকর হয়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর দ্বিতীয় দফা। ২০২৬ সালের শুরুতে এসে অনেক সঞ্চয়কারীর জন্য আর্থিক নিরাপত্তার জায়গাটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

সঞ্চয়পত্রে নির্ভরশীল পরিবার ও অবসরপ্রাপ্তরা
জাতীয় সঞ্চয়পত্র বা সঞ্চয়পত্র সাধারণত দৈনন্দিন সংসার খরচ, চিকিৎসা ব্যয় ও শিক্ষাব্যয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে পেনশনভোগী ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস।

পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে নতুন হার
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে। আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

পেনশনভোগীদের সঞ্চয়পত্রেও কাটছাঁট
পেনশনভোগী সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বড় অঙ্কের বিনিয়োগে এখানেও মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়ে পরিবর্তন
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আর এর বেশি বিনিয়োগে হার ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ। তিন মাস মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এখন পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যেখানে আগে তা ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বেশি অঙ্কের বিনিয়োগে এই হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট
নতুন কাঠামো অনুযায়ী সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে মুনাফা কমার প্রভাব আরও বেশি পড়ছে। এতে সঞ্চয়কারীদের মধ্যে কার্যত দুটি আলাদা শ্রেণি তৈরি হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য ও ব্যাখ্যা
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামগ্রিক রাজস্ব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে প্রতি ছয় মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হয়। সঞ্চয়পত্রের সুদ কমিয়ে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সরকারি ঋণের চাপ কমানো এবং মানুষকে ব্যাংকে অর্থ রাখার দিকে উৎসাহিত করা, যাতে ব্যাংক খাতে তারল্য ও ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বাড়ে।

পুরোনো সঞ্চয়পত্রে আগের হারই বহাল
তবে ২০২৫ সালের ১ জুলাইয়ের আগে কেনা সঞ্চয়পত্রগুলো মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আগের নির্ধারিত মুনাফার হারেই চলবে। নতুন হার প্রযোজ্য হবে কেবল নতুন বিনিয়োগ বা মেয়াদ শেষে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।