রমজান তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। মহান আল্লাহ এই মাসেই দান করেছেন লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। কিন্তু কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকাই রমজানের পূর্ণতা নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল পরিত্যাগ করতে পারে না, তার কেবল না খেয়ে থাকা আল্লাহর কাছে মূল্যহীন। তাই রোজার প্রকৃত সার্থকতা অর্জনে কিছু কাজ থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য।
রমজানের চেতনা ও আত্মশুদ্ধির লক্ষ্য
রমজান আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার মাস। এ মাসের মূল লক্ষ্য সংযম, ধৈর্য ও আল্লাহভীতি অর্জন। কিন্তু অনেকেই কেবল বাহ্যিক রোজায় সীমাবদ্ধ থেকে অন্তরের সংশোধন ভুলে যান। ফলে রোজার আসল উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে যায়।
ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গের ভয়াবহতা
রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত পানাহার বা দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। এতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এবং কাজা ও কাফফারা আদায় করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এটি শুধু বিধানভঙ্গ নয়, বরং রোজার পবিত্রতার অবমাননা।
মিথ্যা, গিবত ও পাপাচার থেকে বিরত থাকা
মিথ্যা বলা, পরনিন্দা করা বা অন্যের দোষ চর্চা করা রোজার আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কোরআনে গিবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অনেকে রোজা রাখেন, কিন্তু জবান সংযত না করায় তাদের প্রাপ্তি হয় কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা।
অশ্লীলতা ও কুদৃষ্টি রোজার পরিপন্থী
রমজানে শুধু পেটের নয়, চোখ, কান ও অন্তরেরও রোজা থাকা জরুরি। অশ্লীল দৃশ্য দেখা, কুদৃষ্টি দেওয়া কিংবা অশোভন আচরণ করা সিয়ামের মূল চেতনার বিরোধী। আল্লাহ প্রকাশ্য ও গোপন সব অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

নামাজে অবহেলা ও ইবাদতে শৈথিল্য
নামাজ ইসলামের স্তম্ভ। রোজা রেখে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা তারাবি অবহেলা করা বড় ভুল। অনেকেই ইফতার আয়োজন, কেনাকাটা বা আড্ডায় ব্যস্ত হয়ে রাতের ইবাদত থেকে দূরে সরে যান। অথচ রমজানের আসল শক্তি নিহিত ইবাদতে মনোযোগে।
হারাম উপার্জন ও কৃত্রিম সংকট
রমজানে মজুতদারি, অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা অন্যায় উপার্জন রোজার বরকত নষ্ট করে। সেহরি ও ইফতার যদি হারাম উপার্জনে হয়, তবে সে আমলে কল্যাণ থাকে না। নবীজি সতর্ক করেছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী আল্লাহর কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হয়।
রিয়া, অপচয় ও সময় নষ্টের ক্ষতি
দান-সদকা বা ইফতার করানোর সময় লোক দেখানো মনোভাব আমল নষ্ট করে দেয়। একইভাবে ইফতারে বিলাসিতা ও অপচয় সংযমের শিক্ষার পরিপন্থী। কোরআন অপব্যয়কারীদের শয়তানের ভাই বলে আখ্যায়িত করেছে। পাশাপাশি সিনেমা, গেম বা অকারণ ঘুমে মূল্যবান সময় নষ্ট করাও রমজানের বড় ক্ষতি।
রমজান কেবল আচার নয়, আত্মশুদ্ধির অনন্য সুযোগ। তাই ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গ, মিথ্যা, গিবত, অশ্লীলতা, অপচয় ও সময় নষ্ট থেকে দূরে থাকাই তাকওয়া অর্জনের পথ।
Sarakhon Report 

















