প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক তোফায়েল আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের।
সোমবার এক শোকবার্তায় জিএম কাদের বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে তোফায়েল আহমদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনানি
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণকারী তোফায়েল আহমদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে ছয় দফা আন্দোলনের সমর্থনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে নেতৃত্বের পরিচয় দেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন
তোফায়েল আহমদের রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য। ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি ভোলা-১, ভোলা-২ এবং বাকেরগঞ্জ-১ আসন থেকে মোট আটবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭০ সালে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর বিভিন্ন কারাগারে প্রায় পাঁচ বছর বন্দি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সংসদে তাঁর বক্তব্য ও অংশগ্রহণ জাতীয় নানা ইস্যুতে বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং তিনি সহকর্মী সংসদ সদস্যসহ সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
তোফায়েল আহমদ ১৯৯৬ সালের জুন থেকে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০১ সাল পর্যন্ত শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শোক ও সমবেদনা
মৃত্যুকালে তোফায়েল আহমদ তাঁর একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নিকে রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা আহমদ ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
শোকবার্তায় জিএম কাদের মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য অনুসারীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
#তোফায়েল_আহমদ #জিএম_কাদের #জাতীয়_পার্টি #বাংলাদেশ_রাজনীতি #মুক্তিযুদ্ধ #গণঅভ্যুত্থান #বাণিজ্যমন্ত্রী #সংসদ_সদস্য #বাংলাদেশ_সংবাদ #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















