০২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ কাটবে কবে? ইসলামের আগে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সভ্যতার রোজা রাখার সংস্কৃতি একীভূত হচ্ছে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়? অপটিক্সের বাইরে অভিযোজন গাজীপুরে মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে বাসে আগুন, আহত এক পাক–আফগান যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, দীর্ঘস্থায়ী হবে কি এ সংঘাত? আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’ নিহত ১৩৩ কাবুলে বিস্ফোরণ, সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত রমজানে বর্জনীয় কাজ: তাকওয়া অর্জনে যেসব আমল এড়িয়ে চলা জরুরি পাকিস্তানের বোমা হামলা আফগান শহরগুলোতে, মন্ত্রীর ভাষায় ‘ওপেন এয়ার যুদ্ধ

পাকিস্তানের বোমা হামলা আফগান শহরগুলোতে, মন্ত্রীর ভাষায় ‘ওপেন এয়ার যুদ্ধ

কাবুল/ইসলামাবাদ, ২৭ ফেব্রুয়ারি — পাকিস্তান রাতভর আফগানিস্তানের বড় বড় শহরে তালেবান সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে শুক্রবার দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সংঘাতকে ‘ওপেন এয়ার যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, সীমান্তের বিভিন্ন সেক্টরে তালেবান চৌকি, সদর দপ্তর ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে আকাশ ও স্থলপথে হামলা চালানো হয়।

দুই পক্ষই ব্যাপক হতাহতের দাবি করেছে, তবে তাদের দেওয়া পরিসংখ্যানে বড় ধরনের অমিল রয়েছে, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ শুক্রবার বলেন, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের ও তোমাদের মধ্যে ওপেন এয়ার যুদ্ধ চলছে।

দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ২,৬০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কাবুল পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে।

Pakistan bombs targets in Afghan cities; minister calls it 'open war' |  KSL.com

পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের শেয়ার করা ভিডিওতে সীমান্তজুড়ে রাতের আঁধারে গোলাগুলির ঝলকানি ও ভারী গোলন্দাজ হামলার শব্দ শোনা যায়। কাবুলে হামলার এক ভিডিওতে দুটি স্থানে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং রাজধানীর একটি অংশে ভয়াবহ আগুনের দৃশ্য দেখা যায়।

আরেকটি ভিডিওতে একটি ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়, যা কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী পাকতিয়া প্রদেশে তালেবানের একটি সদর দপ্তর।

পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, আফগানিস্তানের লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। তিনি এ অভিযানকে ‘উসকানিবিহীন আফগান হামলার’ জবাব হিসেবে বর্ণনা করেন।

কাবুলে অবস্থানরত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট বিস্ফোরণ ও জেট বিমানের শব্দের পর বহু অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শোনা যায়।

জাইদির দাবি, ১৩৩ আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০-র বেশি আহত হয়েছে। ২৭টি চৌকি ধ্বংস ও ৯টি দখল করা হয়েছে।

অন্যদিকে তালেবান মুখপাত্র মুজাহিদ বলেন, ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১৯টি চৌকি দখল করা হয়েছে। এছাড়া ৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত, ১১ জন আহত এবং নানগারহার প্রদেশে ১৩ বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা

চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তান পূর্ব আফগানিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের শিবির লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই দেশটি উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতায় রয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, ওই হামলা পাকিস্তানি তালেবান ও ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট ঘাঁটিতে চালানো হয়েছে।

কাবুল জানায়, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং তারা তাদের ভূখণ্ড থেকে জঙ্গিদের কার্যক্রম চালাতে দেয় না বলে পুনর্ব্যক্ত করে। তালেবানও কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দেয়।

নানগারহারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাখতার নিউজ এজেন্সি একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে তাদের দাবি অনুযায়ী আত্মঘাতী হামলাকারীদের একটি ব্যাটালিয়ন দেখা যায়। এক আফগান নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ওই হামলাকারীরা বিস্ফোরক বেল্ট ও গাড়িবোমা নিয়ে বড় লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শহরাঞ্চলে জঙ্গি হামলা বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্তজুড়ে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন তালেবান পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে। ওই লড়াইয়েও দুই পক্ষই সীমান্ত চৌকি ধ্বংসের দাবি করেছে।

( রয়টার্স থেকে অনূদিত)

ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ কাটবে কবে?

পাকিস্তানের বোমা হামলা আফগান শহরগুলোতে, মন্ত্রীর ভাষায় ‘ওপেন এয়ার যুদ্ধ

১২:৫১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কাবুল/ইসলামাবাদ, ২৭ ফেব্রুয়ারি — পাকিস্তান রাতভর আফগানিস্তানের বড় বড় শহরে তালেবান সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে শুক্রবার দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সংঘাতকে ‘ওপেন এয়ার যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, সীমান্তের বিভিন্ন সেক্টরে তালেবান চৌকি, সদর দপ্তর ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে আকাশ ও স্থলপথে হামলা চালানো হয়।

দুই পক্ষই ব্যাপক হতাহতের দাবি করেছে, তবে তাদের দেওয়া পরিসংখ্যানে বড় ধরনের অমিল রয়েছে, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ শুক্রবার বলেন, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের ও তোমাদের মধ্যে ওপেন এয়ার যুদ্ধ চলছে।

দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ২,৬০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কাবুল পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে।

Pakistan bombs targets in Afghan cities; minister calls it 'open war' |  KSL.com

পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের শেয়ার করা ভিডিওতে সীমান্তজুড়ে রাতের আঁধারে গোলাগুলির ঝলকানি ও ভারী গোলন্দাজ হামলার শব্দ শোনা যায়। কাবুলে হামলার এক ভিডিওতে দুটি স্থানে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং রাজধানীর একটি অংশে ভয়াবহ আগুনের দৃশ্য দেখা যায়।

আরেকটি ভিডিওতে একটি ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়, যা কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী পাকতিয়া প্রদেশে তালেবানের একটি সদর দপ্তর।

পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, আফগানিস্তানের লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। তিনি এ অভিযানকে ‘উসকানিবিহীন আফগান হামলার’ জবাব হিসেবে বর্ণনা করেন।

কাবুলে অবস্থানরত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট বিস্ফোরণ ও জেট বিমানের শব্দের পর বহু অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শোনা যায়।

জাইদির দাবি, ১৩৩ আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০-র বেশি আহত হয়েছে। ২৭টি চৌকি ধ্বংস ও ৯টি দখল করা হয়েছে।

অন্যদিকে তালেবান মুখপাত্র মুজাহিদ বলেন, ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১৯টি চৌকি দখল করা হয়েছে। এছাড়া ৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত, ১১ জন আহত এবং নানগারহার প্রদেশে ১৩ বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা

চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তান পূর্ব আফগানিস্তানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের শিবির লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই দেশটি উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতায় রয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, ওই হামলা পাকিস্তানি তালেবান ও ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট ঘাঁটিতে চালানো হয়েছে।

কাবুল জানায়, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং তারা তাদের ভূখণ্ড থেকে জঙ্গিদের কার্যক্রম চালাতে দেয় না বলে পুনর্ব্যক্ত করে। তালেবানও কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দেয়।

নানগারহারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাখতার নিউজ এজেন্সি একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে তাদের দাবি অনুযায়ী আত্মঘাতী হামলাকারীদের একটি ব্যাটালিয়ন দেখা যায়। এক আফগান নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ওই হামলাকারীরা বিস্ফোরক বেল্ট ও গাড়িবোমা নিয়ে বড় লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শহরাঞ্চলে জঙ্গি হামলা বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্তজুড়ে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন তালেবান পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে। ওই লড়াইয়েও দুই পক্ষই সীমান্ত চৌকি ধ্বংসের দাবি করেছে।

( রয়টার্স থেকে অনূদিত)