০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
ভারতীয় রুপির নতুন বছরে হোঁচট, তিন বছরে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের ছায়া হাঁড়কাপানো শীতে রাস্তায় ফেলে যাওয়া দুই শিশু, নিষ্ঠুর বাবাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ অনলাইন ব্যবস্থায় ইউটিলাইজেশন পারমিশন চালু করল এনবিআর গাজীপুরে পুলিশের ওপর হামলা, আহত চার পুলিশ সদস্য পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, ধাপে ধাপে টাকা তুলতে পারছেন গ্রাহকরা ভারতের শেয়ারবাজারে নতুন বছরের শুরু শান্ত, গাড়ি খাতের উত্থানে সামলাল তামাক শেয়ারের ধাক্কা মসজিদভিত্তিক শিক্ষায় নতুন বছরের বই পেল ২৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের একশ তেইশতম জন্মবার্ষিকী আজ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের জানাজায় মানুষের ঢল ২০২৫ সালের বাজার কাঁপানো বছর: শুল্ক, ডলার, স্বর্ণ আর শক্তির দোলাচল

শিকাগো লস অ্যাঞ্জেলেস পোর্টল্যান্ড থেকে ন্যাশনাল গার্ড প্রত্যাহার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অপরাধ বাড়লেই আরও কঠোর প্রত্যাবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো লস অ্যাঞ্জেলেস ও পোর্টল্যান্ড শহর থেকে ন্যাশনাল গার্ড প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান এই তিন শহরে অপরাধ কমেছে বলেই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন অপরাধ বাড়তে শুরু করলে ফেডারেল বাহিনী আরও শক্ত রূপে আবার ফিরবে।

সেনা মোতায়েন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক
এই তিন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের তীব্র আপত্তি ছিল। তাঁদের অভিযোগ ফেডারেল সরকার অযথা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনার উদাহরণ দেখিয়ে সেনা নামানোর যৌক্তিকতা তৈরি করেছে। আদালতেও একের পর এক মামলায় এই মোতায়েন প্রশ্নের মুখে পড়ে।

ট্রাম্পের যুক্তি ও কঠোর বার্তা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি শিকাগো লস অ্যাঞ্জেলেস ও পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড থাকার কারণেই অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁর ভাষায় এই দেশপ্রেমিক বাহিনী না থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তিনি আরও বলেন অপরাধ আবার বেড়ে গেলে ফেডারেল সরকার শক্ত হাতে ফিরবে এবং তা কেবল সময়ের ব্যাপার।

Image

আদালতের অবস্থান ও আইনি ধাক্কা
এই ঘোষণার ঠিক আগেই একটি ফেডারেল আপিল আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার শত শত ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে রাজ্যের গভর্নরের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টও ইলিনয়ে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের চেষ্টা আটকে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয় ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া প্রেসিডেন্টের এমন ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ নেই এবং আইন প্রয়োগে সেনা ব্যবহারের যথেষ্ট কর্তৃত্ব সরকার দেখাতে পারেনি।

স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
যেসব শহরের নেতারা শুরু থেকেই এই মোতায়েনের বিরোধিতা করেছিলেন তাঁরা বলছেন আইনি চাপই ট্রাম্প প্রশাসনকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের দপ্তর কটাক্ষ করে জানায় এটি রাজনীতির সেই পরিস্থিতি যেখানে বলা হয় তুমি আমাকে বরখাস্ত করোনি আমি নিজেই ছেড়ে দিয়েছি।

Image

অপরাধ পরিসংখ্যানের পাল্টা দাবি
শিকাগোর মেয়রের দপ্তর জানিয়েছে সাম্প্রতিক বছরে শহরটিতে সহিংস অপরাধ এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। আগের বছরের তুলনায় অপরাধ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এই তথ্য প্রকাশ করে তারা বোঝাতে চেয়েছে সেনা মোতায়েন ছাড়াও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।

পটভূমি ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন শহরে সেনা মোতায়েন শুরু করে। এমনকি ওয়াশিংটনে স্থানীয় পুলিশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। তবে একাধিক মামলার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই মোতায়েন ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছিল। বর্তমান ঘোষণা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় রুপির নতুন বছরে হোঁচট, তিন বছরে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের ছায়া

শিকাগো লস অ্যাঞ্জেলেস পোর্টল্যান্ড থেকে ন্যাশনাল গার্ড প্রত্যাহার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অপরাধ বাড়লেই আরও কঠোর প্রত্যাবর্তন

০৫:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো লস অ্যাঞ্জেলেস ও পোর্টল্যান্ড শহর থেকে ন্যাশনাল গার্ড প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান এই তিন শহরে অপরাধ কমেছে বলেই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন অপরাধ বাড়তে শুরু করলে ফেডারেল বাহিনী আরও শক্ত রূপে আবার ফিরবে।

সেনা মোতায়েন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক
এই তিন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের তীব্র আপত্তি ছিল। তাঁদের অভিযোগ ফেডারেল সরকার অযথা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনার উদাহরণ দেখিয়ে সেনা নামানোর যৌক্তিকতা তৈরি করেছে। আদালতেও একের পর এক মামলায় এই মোতায়েন প্রশ্নের মুখে পড়ে।

ট্রাম্পের যুক্তি ও কঠোর বার্তা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি শিকাগো লস অ্যাঞ্জেলেস ও পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড থাকার কারণেই অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁর ভাষায় এই দেশপ্রেমিক বাহিনী না থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তিনি আরও বলেন অপরাধ আবার বেড়ে গেলে ফেডারেল সরকার শক্ত হাতে ফিরবে এবং তা কেবল সময়ের ব্যাপার।

Image

আদালতের অবস্থান ও আইনি ধাক্কা
এই ঘোষণার ঠিক আগেই একটি ফেডারেল আপিল আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার শত শত ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে রাজ্যের গভর্নরের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টও ইলিনয়ে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের চেষ্টা আটকে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয় ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া প্রেসিডেন্টের এমন ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ নেই এবং আইন প্রয়োগে সেনা ব্যবহারের যথেষ্ট কর্তৃত্ব সরকার দেখাতে পারেনি।

স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া
যেসব শহরের নেতারা শুরু থেকেই এই মোতায়েনের বিরোধিতা করেছিলেন তাঁরা বলছেন আইনি চাপই ট্রাম্প প্রশাসনকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের দপ্তর কটাক্ষ করে জানায় এটি রাজনীতির সেই পরিস্থিতি যেখানে বলা হয় তুমি আমাকে বরখাস্ত করোনি আমি নিজেই ছেড়ে দিয়েছি।

Image

অপরাধ পরিসংখ্যানের পাল্টা দাবি
শিকাগোর মেয়রের দপ্তর জানিয়েছে সাম্প্রতিক বছরে শহরটিতে সহিংস অপরাধ এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। আগের বছরের তুলনায় অপরাধ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এই তথ্য প্রকাশ করে তারা বোঝাতে চেয়েছে সেনা মোতায়েন ছাড়াও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।

পটভূমি ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন শহরে সেনা মোতায়েন শুরু করে। এমনকি ওয়াশিংটনে স্থানীয় পুলিশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। তবে একাধিক মামলার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই মোতায়েন ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছিল। বর্তমান ঘোষণা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।