টাঙ্গাইলে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
জানাজায় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি
নামাজে জানাজায় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু ও আহমেদ আযম খান, সাবেকমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। এছাড়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আহসান হাবিব মাসুদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছেলে রাশেদ হাসানও উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে তাকে টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষ এলাকায় দাফন করা হয়।
মৃত্যুর খবর
বুধবার বিকেলে ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মাহমুদুল হাসান মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল নব্বই বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
মাহমুদুল হাসান ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৫৬ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
সামরিক কর্মজীবন
১৯৫৯ সালের ১৩ জুন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে কাশ্মীরের আখনুর সেক্টরে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ার শেষে তিনি মেজর জেনারেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান
রাজনীতিতে তিনি ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের উপনির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবদান
শিক্ষা বিস্তারে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৯ সালে তিনি টাঙ্গাইলে মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৯৩ সালে তিনি একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















