০৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
জামায়াত আমিরের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা ইসলামী ব্যাংকে এক হাজার প্রশিক্ষণ সহকারী কর্মকর্তার বরণ শীর্ষ উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে পুনর্নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক সায়েদুর রহমান অর্থনৈতিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় ইরানে বিপ্লবী গার্ডের এক স্বেচ্ছাসেবক নিহত সঞ্চয়পত্রের সুদ কমলো, নতুন বছরে সংকটে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তরা জয়শঙ্করের সঙ্গে একান্ত বৈঠক নয়, শোকের মুহূর্তে সৌজন্য রক্ষা করেছে সবাই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিউইয়র্কের রাজনীতিতে মুসলিমদের উত্থান, মামদানির জয়ে শহরের ক্ষমতার মানচিত্রে নতুন অধ্যায় শান্তির পথে কঠিন বাঁক, নতুন বছরে রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত আরও জটিল ভারতীয় রুপির নতুন বছরে হোঁচট, তিন বছরে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতনের ছায়া হাঁড়কাপানো শীতে রাস্তায় ফেলে যাওয়া দুই শিশু, নিষ্ঠুর বাবাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

২০২৫ সালের বাজার কাঁপানো বছর: শুল্ক, ডলার, স্বর্ণ আর শক্তির দোলাচল

২০২৫ সাল বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারের জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত ও টালমাটাল এক বছর। প্রযুক্তি, জ্বালানি ও ভূরাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনে বিনিয়োগকারীদের চেনা ধারণা একের পর এক ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি থেকে শুরু করে ডলারের দরপতন, স্বর্ণের রেকর্ড উত্থান আর নবায়নযোগ্য শক্তির বিস্ফোরক অগ্রগতি—সব মিলিয়ে এই বছর বাজারকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে

বাণিজ্যনীতি ও শুল্কের ঝাঁকুনি
বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কড়া বাস্তবায়ন বাজারে বড় ধাক্কা দেয়। আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ফলে নীতি অনিশ্চয়তা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর গড় শুল্কহার প্রায় সতেরো শতাংশে উঠে গেছে, যা প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ। তবুও আশ্চর্যজনকভাবে মার্কিন অর্থনীতি এই ধাক্কা সামলে তৃতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে, যদিও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় কাটেনি।

ডলারের দুর্বল বছর
বছর শুরুর পূর্বাভাস ছিল ডলার আরও শক্তিশালী হবে। বাস্তবে হয়েছে ঠিক উল্টো। প্রধান মুদ্রার ঝুড়ির বিপরীতে ডলারের মান প্রায় দশ শতাংশ কমেছে। বছরের প্রথমার্ধেই এই পতন ছিল গত অর্ধশতকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। ফলে বিশ্ববাজারে পুঁজি প্রবাহ ও পণ্যমূল্যে বড় প্রভাব পড়ে।

প্রযুক্তি শেয়ার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বিধা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে উন্মাদনায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার শুরুতে তীব্র উত্থান দেখায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিপুল বিনিয়োগ ব্যয় ও ঋণনির্ভর সম্প্রসারণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর প্রতিফলন দেখা যায় কয়েকটি বড় প্রযুক্তি শেয়ারের হঠাৎ পতনে, যা বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

স্বর্ণ ও রুপার ঐতিহাসিক উত্থান
নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা আর সুদহ্রাসের প্রত্যাশায় স্বর্ণ ও রুপার দাম ২০২৫ সালে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। রুপা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আশি ডলারের ঘর ছুঁয়েছে, আর স্বর্ণ বছরের হিসাবে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা দিয়েছে। যদিও বছরের শেষদিকে কিছুটা সংশোধন দেখা গেছে, তবু বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন সম্ভাব্য উল্টো ঘুরে দাঁড়ানোর ঝুঁকিতে।

ইউরোপের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চিত্র
ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে বহুগুণ। জার্মানির বিপুল ব্যয় ঘোষণায় প্রতিরক্ষা কোম্পানির শেয়ার চাঙ্গা হয়েছে এবং ইউরোপীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম সাময়িক বাড়লেও সরবরাহ ব্যাহত না হওয়ায় দাম দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে যায়।

নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
ব্যাটারি সংরক্ষণ ও সৌরবিদ্যুতে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। এশিয়া বৈশ্বিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও এগিয়ে গেছে। তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশে বড় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখিয়েছে আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থার দুর্বলতা, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা

২০২৫ সালের বাজার কাঁপানো বছর: শুল্ক, ডলার, স্বর্ণ আর শক্তির দোলাচল

০৬:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৫ সাল বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারের জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত ও টালমাটাল এক বছর। প্রযুক্তি, জ্বালানি ও ভূরাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনে বিনিয়োগকারীদের চেনা ধারণা একের পর এক ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি থেকে শুরু করে ডলারের দরপতন, স্বর্ণের রেকর্ড উত্থান আর নবায়নযোগ্য শক্তির বিস্ফোরক অগ্রগতি—সব মিলিয়ে এই বছর বাজারকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে

বাণিজ্যনীতি ও শুল্কের ঝাঁকুনি
বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কড়া বাস্তবায়ন বাজারে বড় ধাক্কা দেয়। আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ফলে নীতি অনিশ্চয়তা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর গড় শুল্কহার প্রায় সতেরো শতাংশে উঠে গেছে, যা প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ। তবুও আশ্চর্যজনকভাবে মার্কিন অর্থনীতি এই ধাক্কা সামলে তৃতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে, যদিও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় কাটেনি।

ডলারের দুর্বল বছর
বছর শুরুর পূর্বাভাস ছিল ডলার আরও শক্তিশালী হবে। বাস্তবে হয়েছে ঠিক উল্টো। প্রধান মুদ্রার ঝুড়ির বিপরীতে ডলারের মান প্রায় দশ শতাংশ কমেছে। বছরের প্রথমার্ধেই এই পতন ছিল গত অর্ধশতকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। ফলে বিশ্ববাজারে পুঁজি প্রবাহ ও পণ্যমূল্যে বড় প্রভাব পড়ে।

প্রযুক্তি শেয়ার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বিধা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে উন্মাদনায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার শুরুতে তীব্র উত্থান দেখায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিপুল বিনিয়োগ ব্যয় ও ঋণনির্ভর সম্প্রসারণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর প্রতিফলন দেখা যায় কয়েকটি বড় প্রযুক্তি শেয়ারের হঠাৎ পতনে, যা বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

স্বর্ণ ও রুপার ঐতিহাসিক উত্থান
নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা আর সুদহ্রাসের প্রত্যাশায় স্বর্ণ ও রুপার দাম ২০২৫ সালে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। রুপা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আশি ডলারের ঘর ছুঁয়েছে, আর স্বর্ণ বছরের হিসাবে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফা দিয়েছে। যদিও বছরের শেষদিকে কিছুটা সংশোধন দেখা গেছে, তবু বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন সম্ভাব্য উল্টো ঘুরে দাঁড়ানোর ঝুঁকিতে।

ইউরোপের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চিত্র
ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে বহুগুণ। জার্মানির বিপুল ব্যয় ঘোষণায় প্রতিরক্ষা কোম্পানির শেয়ার চাঙ্গা হয়েছে এবং ইউরোপীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম সাময়িক বাড়লেও সরবরাহ ব্যাহত না হওয়ায় দাম দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে যায়।

নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
ব্যাটারি সংরক্ষণ ও সৌরবিদ্যুতে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। এশিয়া বৈশ্বিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও এগিয়ে গেছে। তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশে বড় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখিয়েছে আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থার দুর্বলতা, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।