সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকায় উপস্থিত বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে কোনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের প্রশ্ন নাকচ করে তিনি বলেন, এটি ছিল শোক ও সৌজন্যের সময়, কোনো রাজনৈতিক আলোচনার পরিসর সেখানে ছিল না।
মূল প্রতিবেদন
খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের প্রতি সংহতি ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই উপস্থিতি ছিল একটি ইতিবাচক বার্তা, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আঞ্চলিক সম্মানই মূল বিষয়।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কোনো আলাদা বৈঠক হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান, সেখানে একান্ত আলোচনার সুযোগ ছিল না। তাঁর ভাষায়, অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এবং সবাই সৌজন্য বজায় রেখেছেন। কোনো দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি।
খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ঢাকায় এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শোকের এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ইন্তেকাল করেন। বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাঁর স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের তত্ত্বাবধানে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, এই পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শোক, সম্মান ও মানবিক সংহতি—কোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক আলোচনা নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















