নতুন বছরের প্রথম প্রহরে সুইজারল্যান্ডের জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট ক্রাঁ-মন্তানার একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় একশ জন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনা বিশ্বজুড়ে নাইটক্লাব, বার ও সংগীতভেন্যুতে ঘটে যাওয়া দীর্ঘদিনের প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ সংযোজন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর ভয়াবহ দুর্ঘটনা
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতের গোয়ার একটি নাইটক্লাবে আগুনে প্রাণ হারান ২৫ জন। একই বছরের মার্চে উত্তর মেসিডোনিয়ার পালস ক্লাবে আগুনে নিহত হন ৬৩ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ইস্তাম্বুলের মাস্কারেড নাইটক্লাবে সংস্কারকাজ চলাকালে আগুনে মারা যান ২৯ জন শ্রমিক।
পুরোনো কিন্তু ভোলার নয় এমন ট্র্যাজেডি
এই ধরনের দুর্ঘটনার ইতিহাস আরও দীর্ঘ। ২০১৫ সালে রোমানিয়ার কোয়েলেক্টিভ নাইটক্লাবে আগুনে ৬৪ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৩ সালে ব্রাজিলের কিস নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণ যায়। ২০০০ সালে চীনের লুয়াং শহরের একটি ডিস্কোতে আগুনে নিহত হন ৩০৯ জন।
অগ্নিকাণ্ডের পেছনের সাধারণ কারণ
বেশিরভাগ ঘটনায় দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে আতশবাজি ব্যবহার, দাহ্য নির্মাণসামগ্রী কিংবা ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ভিড়, পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমনের অভাব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড
বিশ্ব ইতিহাসে কিছু অগ্নিকাণ্ড ভয়াবহতার দিক থেকে আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ১৯৪২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে কোকোনাট গ্রোভে আগুনে মারা যান ৪৯২ জন। ১৯৭৭ সালে কেন্টাকির বেভারলি হিলস সাপার ক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১৬৫ জন।
নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মর্মান্তিক ঘটনা প্রমাণ করে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে কঠোর অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি মানা, পর্যাপ্ত ও কার্যকর জরুরি নির্গমন পথ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো কতটা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতেও জনসমাগমপূর্ণ এসব স্থানে এমন ট্র্যাজেডি ঠেকানো কঠিন হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















