বছরের শেষ প্রান্তে এসে মার্কিন শ্রমবাজারে কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলেছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন করে বেকার ভাতার আবেদন এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবু নিয়োগের গতি যে এখনো দুর্বল, তা স্পষ্ট করে বলছেন অর্থনীতিবিদরা। পুরো বছরজুড়ে ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাওয়া শ্রমবাজার এখনো স্থিতিশীলতার সন্ধানে রয়েছে
বেকার ভাতার আবেদনে হঠাৎ পতন
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নতুন বেকার ভাতার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে নেমে আসে, যা নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ছুটির মৌসুমে তথ্য সমন্বয়ের জটিলতার কারণে এই পতন পুরোপুরি বাস্তব চিত্র নাও দেখাতে পারে।
নিয়োগে স্থবিরতা, ছাঁটাই কম
নতুন আবেদন কমলেও দীর্ঘমেয়াদে বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা এখনো গত বছরের তুলনায় বেশি। অর্থনীতিবিদরা এই পরিস্থিতিকে ‘না নিয়োগ, না ছাঁটাই’ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ে যাচ্ছে না, আবার নতুন নিয়োগেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এর ফলে শ্রমবাজার কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
নীতি পরিবর্তনের প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। শুল্ক আরোপ ও অভিবাসন কড়াকড়ির কারণে একদিকে শ্রমিকের সরবরাহ সীমিত হয়েছে, অন্যদিকে নিয়োগকর্তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত ব্যবহার কর্মী চাহিদার ধরন বদলে দিচ্ছে।
বেকারত্বের হার ও বাস্তব চিত্র
বেকারত্বের হার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেড়ে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে মোট শ্রমশক্তির তুলনায় বেকার ভাতা গ্রহণকারীর অনুপাত খুব বেশি বাড়েনি। এই অস্বাভাবিক বৈপরীত্য শ্রমবাজারের বর্তমান জটিল বাস্তবতাকে তুলে ধরছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দোটানা
এই পরিস্থিতি সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে আরও কঠিন করে তুলেছে। একদিকে কর্মসংস্থানের গতি মন্থর, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো পুরোপুরি কমেনি। ফলে সুদের হার কমানো হবে নাকি অপরিবর্তিত রাখা হবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















