সারাদেশে মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে, অথচ প্রত্যাশিত বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না।
শুক্রবার দুপুরে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসে সমাবেশে মিলিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জুলাই পরবর্তী প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটি সহিংসতামুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আশা তৈরি হয়েছিল। জনগণ এমন একটি সরকার চেয়েছিল, যা দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নরসিংদীর ঘটনা ও বিচারহীনতার অভিযোগ
নরসিংদীর সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, ভিন্নমত দমন এবং অপরাধ আড়াল করার সংস্কৃতি চলতে থাকলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
আওয়ামী লীগ ও সরকারের প্রতি অভিযোগ

সমাবেশে ভিপি অভিযোগ করেন, অতীতে সংঘটিত সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সরকারের কাছে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বার্তা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, হুমকি দিয়ে ছাত্রসমাজকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তরুণ প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
জিএসের বক্তব্য: রাজনৈতিক প্রভাব ও মিডিয়ার ভূমিকা
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, নরসিংদীর ঘটনায় একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আড়াল করার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ হয়, অথচ সারাদেশে সংঘটিত সহিংসতার বহু ঘটনা গুরুত্ব পায় না।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়ার দাবি করা কোনো রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় গিয়ে যেন অত্যাচারী না হয়ে ওঠে। ধর্ষণ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে ছাত্রসমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

এজিএসের বক্তব্য: নারীর নিরাপত্তা রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, নারীর নিরাপত্তা এখন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের সময় সব দলই নারীর সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবে ধর্ষকদের বিচারের বদলে অনেক ক্ষেত্রে তাদেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, প্রশাসনের উদ্যোগেই অপরাধের তথ্য জনগণের সামনে আসা উচিত। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ এবং ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন। তারা সকলেই ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















