০৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
যখন ঢাকা ঘুমায়: অস্থির পৃথিবীর মাঝে এক বিরল বিরতি আমাদের খাবারের পেছনের নৈতিক প্রশ্ন ঈদের চামড়ায় ধস: বিক্রি না হওয়ায় মাটিচাপা, নদীতে ভাসানোর আশঙ্কা ডিম-পাথর-জুতা নিক্ষেপ: পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ ইসলামী রাষ্ট্রের আসল পরীক্ষা: স্লোগান নয়, মানুষের জীবন নতুন যুদ্ধের মুখ: ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর অচলাবস্থার যুগে বিশ্ব সংঘাতের নতুন বাস্তবতা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ঘিরে তেহরানে রক্ষণশীলদের চাপ গিলগিট-বালতিস্তানে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে পিটিআই নেতাদের বহিষ্কার, বিতর্কে নির্বাচনী পরিবেশ ঈদের উৎসব নয়, হাসপাতালের শয্যায় লড়াই হামে উদ্বেগ বাড়ছে: ছুটির মধ্যেও দিনে আক্রান্ত ১,০০০-এর বেশি, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৮ শিশুর

হাঁড়কাপানো শীতে রাস্তায় ফেলে যাওয়া দুই শিশু, নিষ্ঠুর বাবাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

হাঁড়কাপানো শীতের মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা দুই শিশুকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চার বছরের অসুস্থ বোন ছোট ভাইকে আগলে রাখার সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুদের বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সারা দেশে শীতের তীব্রতায় জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার এক সড়কের পাশে চার বছরের আয়েশা আক্তার ও তার ১৪ মাস বয়সী ভাই মোরশেদকে ফেলে রেখে যান তাদের বাবা মো. খোরশেদ আলম। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাঁশখালী উপজেলা থেকে খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাবা খোরশেদ আলম ও মা ঝিনুক আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার আনোয়ারা থানার এসআই মোমেন কান্তি দে বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিন আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকায় সড়কের পাশে কাঁপতে থাকা দুই শিশুকে দেখতে পান। সে সময় তীব্র শীতে বড় বোন আয়েশা তার ছোট ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল। মানবিক তাড়নায় তিনি শিশু দুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে শিশু দুটির দায়িত্ব নেয়। চিকিৎসকরা জানান, ছোট শিশুটি জন্মগত রোগে এবং বড় শিশুটি চর্মরোগে আক্রান্ত।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদ আলম জানান, তার মূল বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মহামনি এলাকায়। পেশায় তিনি একজন অটোরিকশাচালক এবং মাঝে মাঝে বাঁশখালীতে ভাঙারির দোকানে কাজ করতেন। পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি আলাদা থাকতে শুরু করেন বলেও দাবি করেন।

খোরশেদের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং পরে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন। বিষয়টি জানার পর তিনি বিভিন্ন জায়গায় জরিমানাও দিতে বাধ্য হন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, শিশুদের প্রতি চরম অবহেলার দায়ে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার খোরশেদ আলমকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যখন ঢাকা ঘুমায়: অস্থির পৃথিবীর মাঝে এক বিরল বিরতি

হাঁড়কাপানো শীতে রাস্তায় ফেলে যাওয়া দুই শিশু, নিষ্ঠুর বাবাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

০৭:১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

হাঁড়কাপানো শীতের মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা দুই শিশুকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চার বছরের অসুস্থ বোন ছোট ভাইকে আগলে রাখার সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুদের বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সারা দেশে শীতের তীব্রতায় জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার এক সড়কের পাশে চার বছরের আয়েশা আক্তার ও তার ১৪ মাস বয়সী ভাই মোরশেদকে ফেলে রেখে যান তাদের বাবা মো. খোরশেদ আলম। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাঁশখালী উপজেলা থেকে খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাবা খোরশেদ আলম ও মা ঝিনুক আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার আনোয়ারা থানার এসআই মোমেন কান্তি দে বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অটোরিকশাচালক মহিম উদ্দিন আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকায় সড়কের পাশে কাঁপতে থাকা দুই শিশুকে দেখতে পান। সে সময় তীব্র শীতে বড় বোন আয়েশা তার ছোট ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল। মানবিক তাড়নায় তিনি শিশু দুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে শিশু দুটির দায়িত্ব নেয়। চিকিৎসকরা জানান, ছোট শিশুটি জন্মগত রোগে এবং বড় শিশুটি চর্মরোগে আক্রান্ত।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদ আলম জানান, তার মূল বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মহামনি এলাকায়। পেশায় তিনি একজন অটোরিকশাচালক এবং মাঝে মাঝে বাঁশখালীতে ভাঙারির দোকানে কাজ করতেন। পারিবারিক বিরোধ ও স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি আলাদা থাকতে শুরু করেন বলেও দাবি করেন।

খোরশেদের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং পরে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন। বিষয়টি জানার পর তিনি বিভিন্ন জায়গায় জরিমানাও দিতে বাধ্য হন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, শিশুদের প্রতি চরম অবহেলার দায়ে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার খোরশেদ আলমকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।