ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরেছে
২০২৬ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশের পাঁচটি সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন সত্তায় কার্যক্রম শুরু করায় বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ কয়েক মাস অনিশ্চয়তার পর আমানতকারীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে তাদের জমা অর্থ তুলতে পারছেন।
পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ
এই একীভূতকরণের আওতায় এসেছে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো সাইনবোর্ড সরিয়ে নতুন নামের ব্যানার টানানো হয়েছে, যা একীভূত ব্যাংকের নতুন যাত্রার বার্তা দিচ্ছে।
গ্রাহকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
বহু গ্রাহকের কাছে বৃহস্পতিবারটি ছিল স্বস্তির দিন। ধানমন্ডিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এক শাখার গ্রাহক মোনির হোসেন জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি তার প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতে পেরেছেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সীমার মধ্যে হলেও টাকা তুলতে পারা তার জন্য বড় স্বস্তির বিষয়, কারণ এই অর্থ তার জরুরি কাজে প্রয়োজন ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধান ও ধাপে ধাপে টাকা তোলার নিয়ম
একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট উত্তোলন কাঠামো নির্ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত এবং গ্রাহকরা যেকোনো সময় পুরো অর্থ তুলতে পারবেন। দুই লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা প্রতি তিন মাসে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে ধাপে ধাপে দুই বছরের মধ্যে তাদের অর্থ তুলতে পারবেন। এতে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় হঠাৎ চাপ সৃষ্টি না হয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরবে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে ষাটোর্ধ্ব নাগরিক এবং ক্যানসার বা কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে নির্ধারিত সীমার বাইরে অর্থ তুলতে পারবেন।
সম্পদ ও দায়ভার হস্তান্তর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের সব সম্পদ, দায় ও চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর ফলে আইনি ও আর্থিক দিক থেকে নতুন ব্যাংকটি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আমানতের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে যে সব আমানত নিরাপদ রয়েছে। যারা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা তুলবেন না, তারা বাজারভিত্তিক মুনাফা পেতে থাকবেন এবং প্রয়োজনে জমা অর্থের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগও পাবেন। এতে গ্রাহকদের আর্থিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ
দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপে থাকা এই পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে স্থিতিশীল করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই একীভূতকরণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে টাকা তোলার সুযোগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই নতুন কাঠামো শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে স্থিতি ও আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















