আজ বৃহস্পতিবার খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিক পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের একশ তেইশতম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। গ্রামবাংলার জীবন, অনুভব ও সংস্কৃতিকে কবিতায় ও গদ্যে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরার জন্য তিনি আজও সমানভাবে স্মরণীয়।
জন্ম ও শৈশব
১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন জসীমউদ্দীন। তাঁর পিতা আনসার উদ্দিন মোল্লা ছিলেন স্কুলশিক্ষক এবং মাতা আমিনা খাতুন। শৈশব থেকেই গ্রামজীবনের সান্নিধ্য তাঁর লেখায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি
দিনটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে দশটার দিকে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। জেলা প্রশাসন, জসীম ফাউন্ডেশন, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়। পরে সেখানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন, রামানন্দ পাল, প্রেস ক্লাব সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, অধ্যাপক এম এ সামাদ ও মাফিজ ইমাম মিলনসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। দিনভর নানা স্তরের মানুষ ও সংগঠন কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
সাহিত্যকীর্তি ও অবদান
বাংলা সাহিত্যের দুই কালজয়ী সৃষ্টি নকশীকাঁথার মাঠ এবং সোজন বাদিয়ার ঘাট আজও পাঠকের হৃদয়ে অমলিন। এই দুটি গ্রন্থ বিশ্বের নানা ভাষায় অনূদিত হয়ে বাংলাসাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করেছে। কবিতা, পালাগান, গান, নাটক, উপন্যাস, গল্প, স্মৃতিকথা ও ভ্রমণকাহিনিসহ বহুমাত্রিক সৃষ্টিতে তিনি রেখে গেছেন অসামান্য অবদান।
গান ও জনপ্রিয়তা
গীতিকার হিসেবেও জসীমউদ্দীন অত্যন্ত সমাদৃত। আমার সোনার ময়না পাখি, প্রাণ সখীরে, আমায় এত রাতে, নিশীথে যাইয়ো ফুলবনে, আমার হার কালা করলাম রে, আমায় ভাসাইলি রে—এমন বহু জনপ্রিয় গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড ফর প্রাইড অব পারফরম্যান্স, ১৯৬৯ সালে ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি লিট, ১৯৭৬ সালে একুশে পদক এবং ১৯৭৮ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলা একাডেমি আজীবন সাহিত্যসাধনার জন্য জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তনের ঘোষণা দেয়।
শিক্ষাজীবন ও প্রয়াণ
ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২১ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে স্নাতক এবং ১৯৩১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ এই মহৎ কবি ইহলোক ত্যাগ করেন।
গ্রামবাংলার আত্মা যিনি সাহিত্যে চিরস্থায়ী করে তুলেছেন, সেই পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মরণে আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















