নতুন শিক্ষাবর্ষে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ২৪ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
রাজধানীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বই বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন।
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়ন) প্রকল্পের অষ্টম পর্যায়ের আওতায় এ বছর মোট ৩৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৪টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। দেশের ৭৩ হাজার ৭৬৮টি কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা এই বই পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আবদুর সালাম খান।
প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা পেরিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই প্রকল্পকে রাজস্ব বাজেটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইসলামি আলেমদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আলেমদের জন্য পিএইচডি বৃত্তি চালু করা হবে। ইসলামি শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ইমাম ও আলেমরা দেশে ও বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অধ্যয়নের জন্য এই বৃত্তির সুযোগ পাবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইসলাম ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখা আলেমদের চলতি মাসেই কেন্দ্রীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়া হবে।
কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চারটি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের নিকাহ রেজিস্ট্রার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে খতিব, ইমাম ও ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে এসব সনদধারীদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান মেয়াদে এই প্রকল্পের আওতায় ধাপে ধাপে মোট এক কোটি ৪৫ লাখ শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, পবিত্র কোরআন শিক্ষা এবং নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ পাবে বলেও জানান ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















