০১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

লন্ডনের অভিজাত মহলে ইমরানের প্রভাব, এপস্টেইন নথিতে জাতিসংঘ কর্মকর্তার বিস্ময়কর ইঙ্গিত

২০১৩ সালে পাকিস্তানের রাজনীতির পর্দার আড়ালে এক অপ্রকাশিত কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে সদ্য প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, জাতিসংঘের এক সাবেক কর্মকর্তা ইমরান খানকে লন্ডনের অভিজাত সমাজের প্রভাবশালী মুখ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বহু আগেই পশ্চিমা মহলে তাঁর সামাজিক যোগাযোগকে পাকিস্তানে প্রভাব বিস্তারের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

গোপন ইমেইলে উঠে এলো ইমরানের নাম

নথিতে অন্তর্ভুক্ত ২০১৩ সালের জুন মাসের এক ইমেইলে এই মন্তব্য করেন জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা নাসরা হাসান। তিনি নরওয়ের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন সভাপতি তেরজে রড লারসেনকে লিখেছিলেন, পাকিস্তানে পশ্চিমা সমর্থিত স্বাস্থ্য কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ইমরান খানের প্রভাব কাজে লাগানো যেতে পারে। ওই ইমেইলেই ইমরানকে লন্ডনের সমাজজীবনে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নওয়াজ শরিফ নয় কেন ইমরান

ইমেইলে নাসরা হাসান ইঙ্গিত দেন, সে সময় সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পরিবর্তে ইমরান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করাই কূটনৈতিকভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমা রাজধানীগুলোতে ইমরানের সামাজিক সম্পর্ক ও পরিচিতি তাঁকে সংবেদনশীল আলোচনায় বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

খাইবার পাখতুনখোয়া ও পোলিও সংকট

ওই সময় ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ খাইবার পাখতুনখোয়ার ক্ষমতা নিয়েছিল। সেখানে পোলিও তখনও বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে রয়ে গিয়েছিল এবং টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে স্থানীয় প্রতিরোধও ছিল প্রবল। ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, এই প্রেক্ষাপটে ইমরানের প্রভাব পোলিও নির্মূল উদ্যোগে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

এপস্টেইন তদন্তে নতুন মাত্রা

এই সব তথ্য উঠে এসেছে জেফ্রি এপস্টেইনের আর্থিক ও পেশাগত যোগাযোগ নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নথি থেকে। নথিতে আরও দেখা যায়, আলোচনায় বিল গেটস ও আফগানিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের নামও আসে, যা পুরো কূটনৈতিক যোগাযোগকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

লন্ডনের অভিজাত মহলে ইমরানের প্রভাব, এপস্টেইন নথিতে জাতিসংঘ কর্মকর্তার বিস্ময়কর ইঙ্গিত

০২:২৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০১৩ সালে পাকিস্তানের রাজনীতির পর্দার আড়ালে এক অপ্রকাশিত কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে সদ্য প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, জাতিসংঘের এক সাবেক কর্মকর্তা ইমরান খানকে লন্ডনের অভিজাত সমাজের প্রভাবশালী মুখ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বহু আগেই পশ্চিমা মহলে তাঁর সামাজিক যোগাযোগকে পাকিস্তানে প্রভাব বিস্তারের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

গোপন ইমেইলে উঠে এলো ইমরানের নাম

নথিতে অন্তর্ভুক্ত ২০১৩ সালের জুন মাসের এক ইমেইলে এই মন্তব্য করেন জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা নাসরা হাসান। তিনি নরওয়ের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন সভাপতি তেরজে রড লারসেনকে লিখেছিলেন, পাকিস্তানে পশ্চিমা সমর্থিত স্বাস্থ্য কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ইমরান খানের প্রভাব কাজে লাগানো যেতে পারে। ওই ইমেইলেই ইমরানকে লন্ডনের সমাজজীবনে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নওয়াজ শরিফ নয় কেন ইমরান

ইমেইলে নাসরা হাসান ইঙ্গিত দেন, সে সময় সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পরিবর্তে ইমরান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করাই কূটনৈতিকভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমা রাজধানীগুলোতে ইমরানের সামাজিক সম্পর্ক ও পরিচিতি তাঁকে সংবেদনশীল আলোচনায় বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

খাইবার পাখতুনখোয়া ও পোলিও সংকট

ওই সময় ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ খাইবার পাখতুনখোয়ার ক্ষমতা নিয়েছিল। সেখানে পোলিও তখনও বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে রয়ে গিয়েছিল এবং টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে স্থানীয় প্রতিরোধও ছিল প্রবল। ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, এই প্রেক্ষাপটে ইমরানের প্রভাব পোলিও নির্মূল উদ্যোগে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

এপস্টেইন তদন্তে নতুন মাত্রা

এই সব তথ্য উঠে এসেছে জেফ্রি এপস্টেইনের আর্থিক ও পেশাগত যোগাযোগ নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নথি থেকে। নথিতে আরও দেখা যায়, আলোচনায় বিল গেটস ও আফগানিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের নামও আসে, যা পুরো কূটনৈতিক যোগাযোগকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।