০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

লন্ডনের অভিজাত মহলে ইমরানের প্রভাব, এপস্টেইন নথিতে জাতিসংঘ কর্মকর্তার বিস্ময়কর ইঙ্গিত

২০১৩ সালে পাকিস্তানের রাজনীতির পর্দার আড়ালে এক অপ্রকাশিত কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে সদ্য প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, জাতিসংঘের এক সাবেক কর্মকর্তা ইমরান খানকে লন্ডনের অভিজাত সমাজের প্রভাবশালী মুখ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বহু আগেই পশ্চিমা মহলে তাঁর সামাজিক যোগাযোগকে পাকিস্তানে প্রভাব বিস্তারের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

গোপন ইমেইলে উঠে এলো ইমরানের নাম

নথিতে অন্তর্ভুক্ত ২০১৩ সালের জুন মাসের এক ইমেইলে এই মন্তব্য করেন জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা নাসরা হাসান। তিনি নরওয়ের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন সভাপতি তেরজে রড লারসেনকে লিখেছিলেন, পাকিস্তানে পশ্চিমা সমর্থিত স্বাস্থ্য কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ইমরান খানের প্রভাব কাজে লাগানো যেতে পারে। ওই ইমেইলেই ইমরানকে লন্ডনের সমাজজীবনে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নওয়াজ শরিফ নয় কেন ইমরান

ইমেইলে নাসরা হাসান ইঙ্গিত দেন, সে সময় সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পরিবর্তে ইমরান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করাই কূটনৈতিকভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমা রাজধানীগুলোতে ইমরানের সামাজিক সম্পর্ক ও পরিচিতি তাঁকে সংবেদনশীল আলোচনায় বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

খাইবার পাখতুনখোয়া ও পোলিও সংকট

ওই সময় ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ খাইবার পাখতুনখোয়ার ক্ষমতা নিয়েছিল। সেখানে পোলিও তখনও বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে রয়ে গিয়েছিল এবং টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে স্থানীয় প্রতিরোধও ছিল প্রবল। ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, এই প্রেক্ষাপটে ইমরানের প্রভাব পোলিও নির্মূল উদ্যোগে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

এপস্টেইন তদন্তে নতুন মাত্রা

এই সব তথ্য উঠে এসেছে জেফ্রি এপস্টেইনের আর্থিক ও পেশাগত যোগাযোগ নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নথি থেকে। নথিতে আরও দেখা যায়, আলোচনায় বিল গেটস ও আফগানিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের নামও আসে, যা পুরো কূটনৈতিক যোগাযোগকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

লন্ডনের অভিজাত মহলে ইমরানের প্রভাব, এপস্টেইন নথিতে জাতিসংঘ কর্মকর্তার বিস্ময়কর ইঙ্গিত

০২:২৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০১৩ সালে পাকিস্তানের রাজনীতির পর্দার আড়ালে এক অপ্রকাশিত কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে সদ্য প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, জাতিসংঘের এক সাবেক কর্মকর্তা ইমরান খানকে লন্ডনের অভিজাত সমাজের প্রভাবশালী মুখ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বহু আগেই পশ্চিমা মহলে তাঁর সামাজিক যোগাযোগকে পাকিস্তানে প্রভাব বিস্তারের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

গোপন ইমেইলে উঠে এলো ইমরানের নাম

নথিতে অন্তর্ভুক্ত ২০১৩ সালের জুন মাসের এক ইমেইলে এই মন্তব্য করেন জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা নাসরা হাসান। তিনি নরওয়ের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন সভাপতি তেরজে রড লারসেনকে লিখেছিলেন, পাকিস্তানে পশ্চিমা সমর্থিত স্বাস্থ্য কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ইমরান খানের প্রভাব কাজে লাগানো যেতে পারে। ওই ইমেইলেই ইমরানকে লন্ডনের সমাজজীবনে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নওয়াজ শরিফ নয় কেন ইমরান

ইমেইলে নাসরা হাসান ইঙ্গিত দেন, সে সময় সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পরিবর্তে ইমরান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করাই কূটনৈতিকভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমা রাজধানীগুলোতে ইমরানের সামাজিক সম্পর্ক ও পরিচিতি তাঁকে সংবেদনশীল আলোচনায় বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

খাইবার পাখতুনখোয়া ও পোলিও সংকট

ওই সময় ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ খাইবার পাখতুনখোয়ার ক্ষমতা নিয়েছিল। সেখানে পোলিও তখনও বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে রয়ে গিয়েছিল এবং টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে স্থানীয় প্রতিরোধও ছিল প্রবল। ইমেইলে উল্লেখ করা হয়, এই প্রেক্ষাপটে ইমরানের প্রভাব পোলিও নির্মূল উদ্যোগে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

এপস্টেইন তদন্তে নতুন মাত্রা

এই সব তথ্য উঠে এসেছে জেফ্রি এপস্টেইনের আর্থিক ও পেশাগত যোগাযোগ নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নথি থেকে। নথিতে আরও দেখা যায়, আলোচনায় বিল গেটস ও আফগানিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের নামও আসে, যা পুরো কূটনৈতিক যোগাযোগকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।