দেশের ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা একটি কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, অল্পসংখ্যক মানুষের কথাবার্তা নিয়ন্ত্রণ করতেও সময় লাগে, সেখানে পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ নয়। তবু সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে রয়েছে।
চট্টগ্রামে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগামী বারো ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সন্তোষজনক এবং নির্বাচন ঘিরে বড় কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সহিংসতা ও জনসচেতনতার প্রসঙ্গ
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর বেশিরভাগই দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই অনুষ্ঠানে সিদ্ধান্তের অমিল হলে নিজেদের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। এ অবস্থায় জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে ব্যবস্থা
প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও ছোটখাটো লঙ্ঘন হচ্ছে, তবে তা নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ইন্টারনেট ও গুজব নিয়ে সতর্কতা
নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নাকচ করে তিনি বলেন, ভোটের দিন ইন্টারনেট খোলা থাকবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ বন্ধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গুজব ও মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগে অনেক সময় স্বাধীনভাবে লেখা বা প্রশ্ন করা সম্ভব ছিল না। বর্তমানে মতপ্রকাশের সুযোগ রয়েছে, তবে মিথ্যার পরিবর্তে সত্য ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।
নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে নারীরাও পুরুষদের মতোই নিরাপদ থাকবেন। চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে এবং কোথায় কী ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নেওয়া হচ্ছে। কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















