হাভানার অলিগলি থেকে শহরতলির পাড়া—কিউবার সর্বত্র এখন টিকে থাকার লড়াই। দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয়ের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি আর জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে ঠেলে দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তায়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও তেল সরবরাহে বাধার প্রভাবে এই চাপ আরও গভীর হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
হাভানায় সংকটের ছায়া
দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হাভানা—যেখানে একসময় পরিস্থিতি তুলনামূলক সহনীয় ছিল—সেখানেও এখন জ্বালানির অভাব স্পষ্ট। ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকো থেকে তেল আসা বন্ধ হওয়ায় শহরের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, অনেক জায়গায় ডলার ছাড়া জ্বালানি মিলছে না। যার ফলে যাতায়াত, রান্না আর দৈনন্দিন প্রয়োজন সবই হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
মুদ্রার দরপতন ও বাজারের আগুন
মাত্র তিন সপ্তাহে কিউবার পেসোর মান ডলারের বিপরীতে দশ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। হাভানার গৃহিণীরা বলছেন, মাসিক আয়ে সংসার চালানো এখন প্রায় অসম্ভব। খাদ্য কিনতে গিয়ে প্রতিদিনই নতুন করে হিসাব মেলাতে হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটে থমকে যাতায়াত
জ্বালানি না থাকায় সরকারি বাস কমে গেছে, ব্যক্তিগত ট্যাক্সিও চলছে সীমিত পরিসরে। ফলে ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুণ। অনেকে বাধ্য হয়ে ঘরে থাকছেন। বিদ্যুৎচালিত যানকেও ভরসা করা যাচ্ছে না, কারণ দিনে আট থেকে বারো ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জ দেওয়ার সুযোগ মিলছে কম।
বিদ্যুৎ গেলে থেমে যায় শহর
বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। শহরতলির বাসিন্দারা বলছেন, আগে সপ্তাহে দু-তিন দিন বিদ্যুৎ যেত, এখন প্রায় প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। পানি তোলা, ইন্টারনেট ব্যবহার—সবকিছুতেই ভোগান্তি।
পরিবর্তনের প্রয়োজন, তবু নীরবতা
কিউবায় ভিন্নমত দীর্ঘদিন ধরেই দমন করা হয়। তাই এত কষ্টের মধ্যেও প্রকাশ্য প্রতিবাদ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তবে যাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তারা সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন—পরিবর্তন দরকার। বৃদ্ধ ফেরিওয়ালারা কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, রেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর খাবার জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

মার্কিন চাপ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে কিউবার ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। এর জবাবে কিউবা আন্তর্জাতিক জরুরি পরিস্থিতির কথা বললেও মানবিক সংকট সামাল দেওয়ার স্পষ্ট পথ এখনো দেখাতে পারেনি সরকার।
কাস্ত্রো বিপ্লবের পর থেকে বহু অর্থনৈতিক ঝড় সামলেও কিউবার মানুষ বলছে, এবারের ধাক্কা আলাদা। অনেকে দেশ ছাড়ছেন, যারা রয়ে গেছেন তারা বলছেন—এটা রাজনীতির প্রশ্ন নয়, এটা টিকে থাকার প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















