বিশ্বের অন্যতম বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বাজার হিসেবে ভারতের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত বিস্তৃত ইন্টারনেট সংযোগ, সস্তা ডেটা ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতায় দেশটি এখন বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্ষেত্রগুলোর একটি। তবে এই বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত অনলাইন নির্ভরতা এবং ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে উদ্বেগও জোরালো হচ্ছে।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর বিস্ফোরণ
গত এক দশকে ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অভাবনীয় হারে বেড়েছে। দুই হাজার চৌদ্দ সালে যেখানে ব্যবহারকারী ছিল প্রায় পঁচিশ কোটি, সেখানে দুই হাজার পঁচিশ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় একশ দুই কোটি। একই সঙ্গে দেশটি এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার, যেখানে সক্রিয় ডিভাইসের সংখ্যা প্রায় পঁচাত্তর কোটি। গবেষণা সংস্থা ডেটারিপোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় পঞ্চাশ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আধিপত্য
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের দেশভিত্তিক তথ্য প্রকাশ না করলেও গবেষণা তথ্য বলছে, ভারতে ভিডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ কোটি। ফেসবুকের ব্যবহারকারী প্রায় চল্লিশ কোটির বেশি, ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় আটচল্লিশ কোটি এবং স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করছেন প্রায় একুশ কোটি মানুষ। অন্যদিকে এক্স প্ল্যাটফর্মে ভারতের ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় দুই কোটি বিশ লাখের মতো।
ডেটা ব্যবহারে বিশ্বরেকর্ডের পথে
ইন্টারনেট ব্যবহারের মাত্রায় ভারত এখন বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গড় মাসিক ডেটা ব্যবহার দুই হাজার চৌদ্দ সালের তুলনায় প্রায় তিনশ নিরানব্বই গুণ বেড়ে দুই হাজার পঁচিশ সালে গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় চব্বিশ গিগাবাইটে। এই বিপুল ব্যবহারের পেছনে বড় কারণ হলো কম খরচ। ভারতে প্রতি গিগাবাইট ডেটার গড় মূল্য মাত্র কয়েক টাকার সমান, যা বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে কমের মধ্যে পড়ে। গবেষণা বলছে, একজন ভারতীয় গড়ে প্রতিদিন তিন ঘণ্টারও বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটান।

শিশুদের হাতে স্মার্টফোন, উদ্বেগ বাড়ছে
ভারতের জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশের বয়স চৌদ্দ বছরের নিচে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, চৌদ্দ থেকে ষোল বছর বয়সী প্রায় নব্বই শতাংশ শিশুর ঘরে স্মার্টফোনে প্রবেশাধিকার রয়েছে। এদের অধিকাংশই স্মার্টফোন ব্যবহার করছে বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটানোর জন্য। জরিপ অনুযায়ী, এই বয়সী শিশুদের প্রায় ছিয়াত্তর শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে, অথচ শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করেছে মাত্র সাতান্ন শতাংশ। এই চিত্র অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

মূল বার্তা
ভারতের দ্রুত বিস্তৃত ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বাজার একদিকে যেমন ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি সামনে এনে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এই খাতে নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বাড়ানোর দাবি আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















