রাজনীতিতে অনিয়ম ও অবিচারের কোনো স্থান আর থাকবে না—এমন স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, পরিবারতন্ত্র ও ব্যাংক লুটের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লাল কার্ড দেখানো হবে।
কেরানীগঞ্জে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে শনিবার তিনি এসব কথা বলেন। শাক্তা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অবিচারকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে, কিন্তু এই সংস্কৃতি আর মেনে নেওয়া হবে না।
পুরোনো শাসকদের কড়া সমালোচনা
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান অতীতের শাসকদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা জনগণকে শোষণ করেছে, দেশের প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা ছিল না। গুম, হত্যা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশকে এক ধরনের শ্মশানে পরিণত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের আহ্বান
তিনি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যেই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
কেরানীগঞ্জ নিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে কেরানীগঞ্জকে একটি আদর্শ জনপদে রূপান্তর করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করা হবে এবং পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়ণের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গণভোটে হ্যাঁ ভোটের আহ্বান
আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত করতে আগামী বারো ফেব্রুয়ারি হ্যাঁ ভোট দেওয়া জরুরি। তিনি নাগরিকদের সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাঈদ ইসলাম।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 











