ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার বিশেষ লেনদেন দিনে শুরুতে পাওয়া উত্থান ধরে রাখতে পারেনি শেয়ারবাজার। উৎপাদন খাতে সরকারের নতুন বাজেট ভাবনা এবং অবকাঠামোয় রেকর্ড মূলধন ব্যয়ের ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের নজরে এলেও দিনের মাঝামাঝি সময়ে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বাজারে চাপ বাড়ে।
বাজারের সার্বিক চিত্র
রবিবারের বিশেষ সেশনে প্রধান সূচকগুলো সামান্য হলেও নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। বিনিয়োগকারীরা বাজেটে ঘোষিত খাতভিত্তিক প্রণোদনা ও ব্যয়ের দিকনির্দেশনা পর্যালোচনা করতে গিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। এর প্রভাবে অধিকাংশ খাতে লেনদেন লাল চিহ্নে নেমে আসে এবং সামগ্রিক বাজারের গতি মন্থর হয়।

খাতভিত্তিক চাপ ও ওঠানামা
প্রতিরক্ষা খাত দিনের শুরুতে পাওয়া লাভ পুরোপুরি হারিয়ে উল্লেখযোগ্য দরপতনের মুখে পড়ে। একইভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ারে বিক্রির চাপ স্পষ্ট হয়। তুলনামূলকভাবে অবকাঠামো খাতে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, যদিও বাজেটে অবকাঠামো ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা এই খাতের জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেকর্ড অবকাঠামো ব্যয়ের বার্তা
সরকার আগামী অর্থবছরে অবকাঠামো খাতে রেকর্ড বারো ট্রিলিয়নেরও বেশি রুপি ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চ মূলধন ব্যয় অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে সিমেন্ট ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট শিল্প এতে উপকৃত হতে পারে।

বস্ত্র খাতে স্বস্তি
বাজেটে বৃহৎ বস্ত্র বাজার স্থাপন ও বস্ত্র শিল্পের জন্য পাঁচ দফা পরিকল্পনা ঘোষণার পর এই খাতের বেশ কয়েকটি শেয়ারে উল্লম্ফন দেখা যায়। ঘোষণাকে শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো ও রপ্তানি সম্ভাবনা জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটের নীতিগত দিকনির্দেশনা ইতিবাচক হলেও স্বল্পমেয়াদে বাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। খাতভিত্তিক বাছাই ও ধৈর্য ধরে বিনিয়োগের কৌশলকেই এই সময়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















