বিমান ছাড়া পৃথিবীর প্রতিটি দেশ ঘুরে ইতিহাস গড়া ডেনিশ অভিযাত্রী ও লেখক থর পেডারসেন পৌঁছেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এমিরেটস লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে দুবাইয়ে আসা এই ভ্রমণপিয়াসী মানুষটির ঝুলিতে শুধু পাসপোর্টের সিল নয়, রয়েছে মৃত্যু ছুঁয়ে ফেরা, ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম আর মানবিকতার অগণিত গল্প।
নয় বছর ছাড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব এক যাত্রা
যে যাত্রা চার বছরে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল, তা শেষ হতে লেগেছে নয় বছর নয় মাস ষোল দিন। এই সময়ে থর পেডারসেন ঘুরেছেন দুই শত তিনটি দেশ। জাতিসংঘ স্বীকৃত দেশের বাইরে আরও কয়েকটি অঞ্চলকে নিজের তালিকায় যুক্ত করেছিলেন তিনি। দ্বীপ রাষ্ট্র থেকে দুর্গম সীমান্ত, সবখানেই পৌঁছেছেন তিনি আকাশপথ ছাড়া।
মৃত্যুভয় আর অচেনা মানুষের সহানুভূতি
এই দীর্ঘ পথে তাকে তাক করে ধরা হয়েছে বন্দুক, ভুগেছেন মস্তিষ্কে ম্যালেরিয়ায়, উঠেছেন এমন জাহাজে যা পরে ডুবে গেছে এবং প্রাণহানিও হয়েছে। মধ্য আফ্রিকার এক চেকপোস্টে সশস্ত্র ও মদ্যপ লোকজনের হাতে বন্দুকের মুখে পড়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন তিনি। পরে অলৌকিকভাবে সেই রাত পার হয়ে ফিরেছেন জীবিত। আজও সেই স্মৃতি তাড়া করে ফেরে বলে জানান তিনি।
মহামারিতে আটকে পড়া আর ভালোবাসার পরীক্ষা
বিশ্বব্যাপী মহামারির সময় লক্ষ্য থেকে মাত্র কয়েক দেশ দূরে থাকতে হংকংয়ে দুই বছরের বেশি আটকে পড়েন থর। সেখানে থাকার কথা ছিল মাত্র কয়েক দিন। এই সময়েই দূরত্বে থাকা প্রেমিকা লে-এর সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার মুখে পড়লেও দুজনের চেষ্টায় তা টিকে যায়। পরে অনলাইনে, দ্বীপ রাষ্ট্রে এবং শেষ পর্যন্ত নিজ দেশের সিটি হলে তিনবার বিয়ে করতে হয় তাদের। থর হাসতে হাসতে বলেন, লে তাকে চারবার হ্যাঁ বলেছেন।
পরিবারের নতুন অধ্যায়
দীর্ঘ অভিযানের শেষে দুহাজার চব্বিশ সালের ডিসেম্বরে তাদের জীবনে আসে প্রথম সন্তান। থরের ভাষায়, এটিই ছিল তার যাত্রার সবচেয়ে সুন্দর সমাপ্তি।

দুবাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা
দুবাইয়ে ফিরে এসে থর স্মৃতিচারণা করেন তার ভ্রমণের কঠিন সময়ের কথা। মধ্য আফ্রিকার বিপর্যয়ের পর এই শহরই তাকে নতুন করে এগোতে সাহায্য করেছিল। এখান থেকেই তিনি ইয়েমেন ও সৌদি আরবের ভিসা পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কারণে শহরটির প্রতি তার ভালোবাসা আজও অটুট।
নতুন স্বপ্নের পথে
ভ্রমণ শেষ হলেও থরের ঘোরাঘুরি থামেনি। এবার তিনি নিজের বই আরবি ভাষায় প্রকাশ করতে চান। ইতিমধ্যে ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় প্রকাশিত বইটি জার্মানিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পাঠকদের কাছেও নিজের গল্প পৌঁছে দিতে চান এই অভিযাত্রী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















