সংযুক্ত আরব আমিরাতে সোনার দামের ধারাবাহিক রেকর্ডের চাপে গয়নার বাজারে বড় ধস নেমেছে। গত বছরে দেশটিতে সোনার গয়নার চাহিদা কমেছে পনেরো শতাংশ। উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতারা ভারী গয়না ছেড়ে হালকা অলংকার, সোনার কয়েন ও বার কেনার দিকে ঝুঁকছেন বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
গয়নার বাজারে ধাক্কা, বিনিয়োগে ঝোঁক
গত বছরে আমিরাতে সোনার গয়নার চাহিদা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ঊনত্রিশ দশমিক চার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সময়ে সোনার কয়েন ও বারের চাহিদা বেড়েছে প্রায় চব্বিশ শতাংশ। দাম আরও বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় অনেকেই গয়নার বদলে বিনিয়োগমুখী সোনা কিনছেন। এর ফলে কয়েন ও বারের মোট চাহিদা প্রায় চৌদ্দ দশমিক আট টনে পৌঁছেছে।

মোট চাহিদা কমলেও শেষ প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়ানো
গয়না, কয়েন ও বার মিলিয়ে আমিরাতে মোট সোনার চাহিদা বছরে চার শতাংশ কমে প্রায় চুয়াল্লিশ দশমিক দুই টনে নেমেছে। তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে চাহিদা কিছুটা বেড়েছে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎসব ও বিনিয়োগ প্রত্যাশাই এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে কাজ করেছে।
বিশ্ববাজারে ভিন্ন চিত্র
বিশ্বজুড়ে সোনার গয়নার পরিমাণগত চাহিদা কমলেও মূল্যের দিক থেকে ব্যয় বেড়েছে। রেকর্ড দামের কারণে কম পরিমাণ কিনেও ক্রেতাদের খরচ বেড়েছে। অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক সোনার মোট চাহিদা পাঁচ হাজার টন ছাড়িয়েছে।

রেকর্ড বিনিয়োগে সোনার উত্থান
বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ চাহিদা পৌঁছেছে প্রায় দুই হাজার একশ পঁচাত্তর টনে। নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে বিনিয়োগকারীরা সোনার তহবিল, বার ও কয়েনের দিকে ঝুঁকেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কেনাকাটা ও উচ্চমাত্রায় ছিল, যা বৈশ্বিক চাহিদা কে আর ও শক্তিশালী করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















