০১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইরানকে সামরিক হুমকিতে তেলের দামে বড় লাফ, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা চীনের ডিজিটাল প্রান্তে মুক্তির খোঁজ, সাধারণ মানুষের গল্পে ভাঙছে শক্তির মিথ বাজেট ঘোষণার দিনে উত্থান হারিয়ে নামল শেয়ারবাজার, প্রতিরক্ষা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চাপ অবৈধ তেল লেনদেনের অভিযোগে মালয়েশিয়ার জলসীমায় বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল জব্দ মার্কিন চাপের চাপে কিউবায় নিত্যদিনের জীবন সংকটে, জ্বালানি ও খাদ্য নিয়ে টিকে থাকার লড়াই শ্বাসকষ্ট কি বয়সের স্বাভাবিক সমস্যা, নাকি নীরব বিপদের সংকেত মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় রদবদলের ঘোষণা, কিন্তু বাস্তবতায় কঠিন পথচলা মসজিদের ঘোষণায় ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক, তিরাহ উপত্যকা ফাঁকা হতে শুরু করল ইরানের বন্দর আব্বাসে গ্যাস লিকের ভয়াবহ বিস্ফোরণ, উত্তেজনার আবহে নিহত ও আহত বহু অনিয়ম ও অবিচারের রাজনীতি আর চলবে না: নির্বাচনী মঞ্চে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

মসজিদের ঘোষণায় ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক, তিরাহ উপত্যকা ফাঁকা হতে শুরু করল

উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান–এর দুর্গম পাহাড়ি জনপদ তিরাহ উপত্যকায় হঠাৎ করেই নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মসজিদে মাইকিং করে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র শীত ও তুষারপাতের মধ্যেও সংঘর্ষের আশঙ্কায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাহাড় ছেড়ে শহরমুখী হচ্ছে।

আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের এই উপত্যকা বহুদিন ধরেই নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনার কেন্দ্র। বরফে ঢাকা সরু পাহাড়ি পথে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবার সংকট, শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থতা, সঙ্গে অজানা ভবিষ্যতের ভয়—সব মিলিয়ে এই সরে যাওয়া এখন স্পষ্ট মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

মসজিদে ঘোষণা আর মুহূর্তেই জনপদে নীরবতা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মসজিদে ঘোষণায় সবাইকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছিল। সেই ঘোষণার পরই পরিবারগুলো দলে দলে রওনা দেয়। তিরাহ ছেড়ে বারা শহরে আশ্রয় নেওয়া গুল আফ্রিদি বলেন, ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ ছিল না বলেই সন্তানদের নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হয়েছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন আরও অনেকেই।

প্রশাসনের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে হাজার হাজার পরিবার নিকটবর্তী শহর ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে। নিবন্ধন ও সহায়তা প্রক্রিয়া ধীর হওয়ায় স্কুল ভবন ও খোলা জায়গায় ভিড় বাড়ছে। শীতের মধ্যে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

সংবেদনশীল অঞ্চল, সরকারি বক্তব্যে ভিন্ন সুর
তিরাহ উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উচ্ছেদ বা বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয়নি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ দাবি করেছেন, এই এলাকায় নতুন কোনো অভিযান পরিকল্পিত নয় এবং চলমান যাতায়াত শীতকালীন স্বাভাবিক অভিবাসনের অংশ। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বলছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাময়িকভাবে এলাকা ছাড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে।

প্রাদেশিক পর্যায়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি জানান, এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রাদেশিক সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। তার মতে, তীব্র শীতের মধ্যেও নিরাপত্তার অজুহাতে পরিবারগুলো বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

শীত নয়, ভয়ের কথাই বলছেন বাসিন্দারা
বাসিন্দাদের বড় অংশই বলছেন, শুধু ঠান্ডার জন্য তারা এলাকা ছাড়েননি। আবদুর রহিম নামের এক বাসিন্দা জানান, বহু বছর ধরেই সেখানে তুষারপাত হয়, তবু তারা থেকেছেন। এবার মূল কারণ ছিল ঘোষণাজনিত আতঙ্ক। বরফঢাকা পথে দীর্ঘ যাত্রায় খাবার সংকট তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করছেন।

বারা শহরের একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা পরিবারগুলো জানাচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি, কাজকর্ম সব পেছনে ফেলে আসতে হয়েছে। কবে ফিরতে পারবে, আদৌ ফিরতে পারবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে না।

পুরোনো বিস্ফোরণের স্মৃতি নতুন আতঙ্ক
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সন্দেহভাজন বোমা তৈরির স্থানে বিস্ফোরণের পর তিরাহ উপত্যকা জাতীয় আলোচনায় আসে। সেই ঘটনার স্মৃতি নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পাহাড়ি জনপদের মানুষ শীত, ক্ষুধা আর ভয়ের মধ্যেই অপেক্ষা করছে স্থিতিশীলতার।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানকে সামরিক হুমকিতে তেলের দামে বড় লাফ, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা

মসজিদের ঘোষণায় ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক, তিরাহ উপত্যকা ফাঁকা হতে শুরু করল

১১:৪১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান–এর দুর্গম পাহাড়ি জনপদ তিরাহ উপত্যকায় হঠাৎ করেই নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মসজিদে মাইকিং করে সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার সতর্কবার্তা দেওয়ার পর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র শীত ও তুষারপাতের মধ্যেও সংঘর্ষের আশঙ্কায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাহাড় ছেড়ে শহরমুখী হচ্ছে।

আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের এই উপত্যকা বহুদিন ধরেই নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনার কেন্দ্র। বরফে ঢাকা সরু পাহাড়ি পথে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবার সংকট, শিশু ও বয়স্কদের অসুস্থতা, সঙ্গে অজানা ভবিষ্যতের ভয়—সব মিলিয়ে এই সরে যাওয়া এখন স্পষ্ট মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

মসজিদে ঘোষণা আর মুহূর্তেই জনপদে নীরবতা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মসজিদে ঘোষণায় সবাইকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছিল। সেই ঘোষণার পরই পরিবারগুলো দলে দলে রওনা দেয়। তিরাহ ছেড়ে বারা শহরে আশ্রয় নেওয়া গুল আফ্রিদি বলেন, ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ ছিল না বলেই সন্তানদের নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হয়েছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন আরও অনেকেই।

প্রশাসনের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে হাজার হাজার পরিবার নিকটবর্তী শহর ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে। নিবন্ধন ও সহায়তা প্রক্রিয়া ধীর হওয়ায় স্কুল ভবন ও খোলা জায়গায় ভিড় বাড়ছে। শীতের মধ্যে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

সংবেদনশীল অঞ্চল, সরকারি বক্তব্যে ভিন্ন সুর
তিরাহ উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উচ্ছেদ বা বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয়নি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ দাবি করেছেন, এই এলাকায় নতুন কোনো অভিযান পরিকল্পিত নয় এবং চলমান যাতায়াত শীতকালীন স্বাভাবিক অভিবাসনের অংশ। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বলছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাময়িকভাবে এলাকা ছাড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে।

প্রাদেশিক পর্যায়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি জানান, এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রাদেশিক সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। তার মতে, তীব্র শীতের মধ্যেও নিরাপত্তার অজুহাতে পরিবারগুলো বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

শীত নয়, ভয়ের কথাই বলছেন বাসিন্দারা
বাসিন্দাদের বড় অংশই বলছেন, শুধু ঠান্ডার জন্য তারা এলাকা ছাড়েননি। আবদুর রহিম নামের এক বাসিন্দা জানান, বহু বছর ধরেই সেখানে তুষারপাত হয়, তবু তারা থেকেছেন। এবার মূল কারণ ছিল ঘোষণাজনিত আতঙ্ক। বরফঢাকা পথে দীর্ঘ যাত্রায় খাবার সংকট তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করছেন।

বারা শহরের একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা পরিবারগুলো জানাচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি, কাজকর্ম সব পেছনে ফেলে আসতে হয়েছে। কবে ফিরতে পারবে, আদৌ ফিরতে পারবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে না।

পুরোনো বিস্ফোরণের স্মৃতি নতুন আতঙ্ক
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সন্দেহভাজন বোমা তৈরির স্থানে বিস্ফোরণের পর তিরাহ উপত্যকা জাতীয় আলোচনায় আসে। সেই ঘটনার স্মৃতি নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পাহাড়ি জনপদের মানুষ শীত, ক্ষুধা আর ভয়ের মধ্যেই অপেক্ষা করছে স্থিতিশীলতার।