০১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইরানকে সামরিক হুমকিতে তেলের দামে বড় লাফ, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা চীনের ডিজিটাল প্রান্তে মুক্তির খোঁজ, সাধারণ মানুষের গল্পে ভাঙছে শক্তির মিথ বাজেট ঘোষণার দিনে উত্থান হারিয়ে নামল শেয়ারবাজার, প্রতিরক্ষা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চাপ অবৈধ তেল লেনদেনের অভিযোগে মালয়েশিয়ার জলসীমায় বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল জব্দ মার্কিন চাপের চাপে কিউবায় নিত্যদিনের জীবন সংকটে, জ্বালানি ও খাদ্য নিয়ে টিকে থাকার লড়াই শ্বাসকষ্ট কি বয়সের স্বাভাবিক সমস্যা, নাকি নীরব বিপদের সংকেত মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় রদবদলের ঘোষণা, কিন্তু বাস্তবতায় কঠিন পথচলা মসজিদের ঘোষণায় ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক, তিরাহ উপত্যকা ফাঁকা হতে শুরু করল ইরানের বন্দর আব্বাসে গ্যাস লিকের ভয়াবহ বিস্ফোরণ, উত্তেজনার আবহে নিহত ও আহত বহু অনিয়ম ও অবিচারের রাজনীতি আর চলবে না: নির্বাচনী মঞ্চে কড়া বার্তা জামায়াত আমিরের

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় রদবদলের ঘোষণা, কিন্তু বাস্তবতায় কঠিন পথচলা

ওয়াশিংটনে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তনের ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে যতটা জোরালো, বাস্তবতায় তা ততটাই জটিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কেভিন ওয়ারশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে আসতে চলেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগ, ওয়াল স্ট্রিটের গভীর সম্পর্ক এবং অভিজাত উপস্থিতি তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুললেও, সুদের হার কমানো ও প্রতিষ্ঠানগত কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সুদের হার কমানো নিয়ে দ্বিধা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার সুদের হার সংকটকালীন মাত্রায় নামিয়ে আনার কথা বলেছেন। তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী হার এক শতাংশের কাছাকাছি নামানো হলেও বাস্তবে তা সহজ নয়। অতীতে কেভিন ওয়ারশ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। বর্তমান অর্থনৈতিক তথ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী কমিটির মতামত এবং বাজারের প্রত্যাশা মিলিয়ে দেখলে দ্রুত ও গভীর হারে সুদ কমানো কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বাজারে ভবিষ্যৎ সুদের হারের পূর্বাভাসেও বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।

সমালোচক থেকে বাস্তব রূপকার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে ওয়ারশ নিয়মিতভাবে ব্যাংকের নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এসেছেন। থিঙ্ক ট্যাংকের বক্তৃতা ও মতামত লেখায় তিনি যে সংস্কারের কথা বলেছেন, এখন সেই ভাবনাকে বাস্তব সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড, ট্রাম্প প্রশাসন, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনে কংগ্রেসের সম্মতি প্রয়োজন হবে। ফলে ঘোষণার তুলনায় বাস্তবায়নের পথ অনেক দীর্ঘ।

প্রতিষ্ঠানগত বিস্তার ও ক্ষমতার প্রশ্ন
গত দুই দশকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু মুদ্রানীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আর্থিক সংকট ও মহামারির সময় তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নীতিনির্ধারণ, তদারকি ও আইনগত কাঠামোর এই মিশ্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে। এই অবস্থাকে অনেকে প্রতিষ্ঠানগত বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন। ওয়ারশ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক লেখালেখিতে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

ভেতর থেকেই কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বর্তমান নেতৃত্বের সময়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগে অংশগ্রহণ কমিয়েছে এবং বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত কাজ সীমিত করেছে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়ারশ চাইলে ব্যাংকের যোগাযোগের ভাষা ও ধরন বদলাতে পারেন। আঞ্চলিক ব্যাংকগুলোর বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং নীতিগত বার্তা আরও কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ তাঁর হাতে থাকবে।

অর্থনৈতিক মডেল ও পূর্বাভাসের চ্যালেঞ্জ
ওয়ারশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থনৈতিক মডেল ও পূর্বাভাস পদ্ধতি নিয়ে। তিনি মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নীতিকে দুর্বল করে। বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে বলেছেন, উন্নত মডেলের প্রস্তাব এলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই ক্ষেত্রেই প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যালান্স শিট নিয়ে সীমাবদ্ধতা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশাল ব্যালান্স শিট নিয়েও ওয়ারশ বরাবরই সমালোচক। তবে বাস্তবে এটি সুদের হার নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতে তারল্য এবং বৈশ্বিক ডলারের জোগানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অর্থনীতির আকার বাড়লে ব্যালান্স শিটও বাড়তে হয়—এই বাস্তবতায় দ্রুত ও বড় পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত।

সব মিলিয়ে, নেতৃত্বে পরিবর্তনের ঘোষণায় বড় প্রত্যাশা তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরের কাঠামো, বাজারের আস্থা এবং আইনগত সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে কেভিন ওয়ারশের সামনে পথটা সহজ নয়। পরিবর্তনের কথা বলা যতটা সহজ, বাস্তবে তা কার্যকর করা ততটাই কঠিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানকে সামরিক হুমকিতে তেলের দামে বড় লাফ, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় রদবদলের ঘোষণা, কিন্তু বাস্তবতায় কঠিন পথচলা

১১:৪৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ওয়াশিংটনে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তনের ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে যতটা জোরালো, বাস্তবতায় তা ততটাই জটিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কেভিন ওয়ারশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে আসতে চলেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যোগাযোগ, ওয়াল স্ট্রিটের গভীর সম্পর্ক এবং অভিজাত উপস্থিতি তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুললেও, সুদের হার কমানো ও প্রতিষ্ঠানগত কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সুদের হার কমানো নিয়ে দ্বিধা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার সুদের হার সংকটকালীন মাত্রায় নামিয়ে আনার কথা বলেছেন। তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী হার এক শতাংশের কাছাকাছি নামানো হলেও বাস্তবে তা সহজ নয়। অতীতে কেভিন ওয়ারশ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে কড়া অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। বর্তমান অর্থনৈতিক তথ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী কমিটির মতামত এবং বাজারের প্রত্যাশা মিলিয়ে দেখলে দ্রুত ও গভীর হারে সুদ কমানো কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বাজারে ভবিষ্যৎ সুদের হারের পূর্বাভাসেও বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।

সমালোচক থেকে বাস্তব রূপকার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে ওয়ারশ নিয়মিতভাবে ব্যাংকের নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এসেছেন। থিঙ্ক ট্যাংকের বক্তৃতা ও মতামত লেখায় তিনি যে সংস্কারের কথা বলেছেন, এখন সেই ভাবনাকে বাস্তব সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড, ট্রাম্প প্রশাসন, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনে কংগ্রেসের সম্মতি প্রয়োজন হবে। ফলে ঘোষণার তুলনায় বাস্তবায়নের পথ অনেক দীর্ঘ।

প্রতিষ্ঠানগত বিস্তার ও ক্ষমতার প্রশ্ন
গত দুই দশকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু মুদ্রানীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আর্থিক সংকট ও মহামারির সময় তার ক্ষমতা ও দায়িত্ব ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নীতিনির্ধারণ, তদারকি ও আইনগত কাঠামোর এই মিশ্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে। এই অবস্থাকে অনেকে প্রতিষ্ঠানগত বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন। ওয়ারশ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক লেখালেখিতে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

ভেতর থেকেই কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বর্তমান নেতৃত্বের সময়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগে অংশগ্রহণ কমিয়েছে এবং বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত কাজ সীমিত করেছে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ওয়ারশ চাইলে ব্যাংকের যোগাযোগের ভাষা ও ধরন বদলাতে পারেন। আঞ্চলিক ব্যাংকগুলোর বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং নীতিগত বার্তা আরও কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ তাঁর হাতে থাকবে।

অর্থনৈতিক মডেল ও পূর্বাভাসের চ্যালেঞ্জ
ওয়ারশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থনৈতিক মডেল ও পূর্বাভাস পদ্ধতি নিয়ে। তিনি মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নীতিকে দুর্বল করে। বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে বলেছেন, উন্নত মডেলের প্রস্তাব এলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই ক্ষেত্রেই প্রথম বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যালান্স শিট নিয়ে সীমাবদ্ধতা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশাল ব্যালান্স শিট নিয়েও ওয়ারশ বরাবরই সমালোচক। তবে বাস্তবে এটি সুদের হার নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতে তারল্য এবং বৈশ্বিক ডলারের জোগানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অর্থনীতির আকার বাড়লে ব্যালান্স শিটও বাড়তে হয়—এই বাস্তবতায় দ্রুত ও বড় পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত।

সব মিলিয়ে, নেতৃত্বে পরিবর্তনের ঘোষণায় বড় প্রত্যাশা তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরের কাঠামো, বাজারের আস্থা এবং আইনগত সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে কেভিন ওয়ারশের সামনে পথটা সহজ নয়। পরিবর্তনের কথা বলা যতটা সহজ, বাস্তবে তা কার্যকর করা ততটাই কঠিন।