শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুকে চাপ লাগা বা মনে হওয়া বাতাস ঠিকমতো ঢুকছে না—এই অবস্থাকেই শ্বাসকষ্ট বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে, কিন্তু এটিকে কখনোই শুধু বয়সজনিত বলে অবহেলা করা উচিত নয়। শ্বাসকষ্ট কোনো রোগ নয়, এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্য সমস্যার লক্ষণ।
শ্বাসকষ্ট কেন হয়
শ্বাস নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুস একসঙ্গে কাজ করে। এই দুই অঙ্গ শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে আনে। এর যেকোনো একটি ঠিকভাবে কাজ না করলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। তখন স্বাভাবিক কাজ করতেও শ্বাস নিতে বেশি কষ্ট হয়।
কখনো কখনো ভারী ব্যায়াম, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা আবহাওয়া, পাহাড়ি এলাকায় ওঠা কিংবা সর্দি-কাশির সময় অল্প সময়ের জন্য শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্ট থাকলে বা বারবার ফিরে এলে সেটি কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
/assets/images/provider/photos/2312977.jpeg)
শ্বাসকষ্টের সাধারণ কারণ
হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা যেমন বুকে ব্যথা, হৃদ্যন্ত্রের দুর্বলতা বা হৃদ্স্পন্দনের অস্বাভাবিকতা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া কিংবা ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলেও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রক্তস্বল্পতা হলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন বহন করতে পারে না, সেখান থেকেও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা হঠাৎ আতঙ্কের সময় শ্বাস আটকে আসার অনুভূতিও অনেকের হয়। অতিরিক্ত ওজন, শরীরচর্চার অভাবও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে।
অনেক সময় একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। শ্বাসকষ্টের কারণে মানুষ ব্যায়াম কম করে , আবার ব্যায়াম কম হলে শরীর দুর্বল হয় এবং সামান্য কাজেই বেশি অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে।
দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
শ্বাসকষ্ট জীবনের স্বাভাবিক গতি নষ্ট করে দিতে পারে। কাপড় পরা, ঘর পরিষ্কার করা বা বাইরে বের হওয়াও কষ্টকর হয়ে ওঠে। কারও কারও ক্ষেত্রে রাতে ঘুমের মাঝেও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, যা বিশ্রামকে বাধাগ্রস্ত করে।

কখন সতর্ক হবেন
বিশ্রামের সময়ও যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা অল্প কাজেই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বাজারের ব্যাগ তুলতে বা ডাকবাক্স পর্যন্ত হাঁটতেই যদি হাঁপিয়ে যেতে হয়, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। হঠাৎ শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে ব্যথা বা বমিভাব দেখা দিলে তা জীবনঘাতী পরিস্থিতির লক্ষণ হতে পারে, তখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
শ্বাসকষ্ট নির্ণয়ে কী পরীক্ষা হয়
শ্বাসকষ্টের কারণ জানতে চিকিৎসকেরা ফুসফুসের ছবি তুলতে পারেন কিংবা রক্ত পরীক্ষা করে রক্তস্বল্পতা বা অন্য অসুখ খুঁজে দেখেন। প্রয়োজনে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা যাচাইয়ের বিশেষ পরীক্ষাও করা হয়, যাতে ফুসফুস কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে তা বোঝা যায়।
চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের উপায়
শ্বাসকষ্ট কমাতে হলে মূল কারণের চিকিৎসাই সবচেয়ে জরুরি। হৃদ্যন্ত্র বা ফুসফুসের জন্য দেওয়া ওষুধ নিয়ম মেনে খেতে হবে। ধূমপান বন্ধ করা, দূষিত পরিবেশ এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা থেকে সতর্ক থাকা উপকারী। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চললেও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমে।
হৃদ্যন্ত্র দুর্বল হলে রাতের শ্বাসকষ্ট
হৃদ্যন্ত্র দুর্বল থাকলে অনেক সময় রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শুয়ে থাকলে ফুসফুসে তরল জমে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। ঘুমানোর সময় মাথা ও বুক সামান্য উঁচু করে রাখলেও কিছুটা আরাম মিলতে পারে।

শ্বাস প্রশ্বাসের সহজ ব্যায়াম
কিছু সহজ শ্বাসের ব্যায়াম শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে। ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ার অভ্যাস ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়াতে পারে। আবার গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে পেট ফুলিয়ে তারপর ধীরে ধীরে বাতাস ছাড়াও উপকারী। নিয়মিত এই ব্যায়াম করলে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 















