দক্ষিণ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস-এ একটি ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্যাস লিক থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় দমকল বিভাগের বরাতে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হঠাৎ এই বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিস্ফোরণে হতাহতের চিত্র
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও চৌদ্দজন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতি হয় আশপাশে থাকা একাধিক যানবাহনের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সামনে মানুষ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অনেকেই প্রিয়জনের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছে।

দমকল বিভাগের প্রাথমিক বক্তব্য
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় স্থানীয় দমকল বিভাগের প্রধান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি গ্যাস লিকজনিত বিস্ফোরণ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে গ্যাস লিক হলো এবং কেন এত বড় বিস্ফোরণ ঘটল, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আহভাজ শহরেও বিস্ফোরণের খবর
একই দিনে ইরাক সীমান্তের কাছের শহর আহভাজ-এ আরেকটি গ্যাস বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে চারজন নিহত হয়েছেন। তবে এই ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
এই বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চরমে। সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি, বিক্ষোভ দমন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও স্নায়ুচাপপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গুজব, দাবি ও অস্বীকৃতি
বিস্ফোরণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, বন্দর আব্বাসের ঘটনায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। তবে ইরানের একটি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এই বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

কৌশলগত গুরুত্ব ও আগের অভিজ্ঞতা
বন্দর আব্বাস ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার বন্দর এবং হরমুজ প্রণালীর তীরে অবস্থিত। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় একটি অংশের সামুদ্রিক তেল পরিবহন হয়ে থাকে। এর আগেও এই বন্দরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। তখনকার তদন্তে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কথা উঠে এসেছিল।
চলমান অস্থিরতা ও উদ্বেগ
ইরানজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতা এমনিতেই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যেই একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 











