সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে গভীর শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের রদবদল ও সিদ্ধান্তগুলো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের চাহিদা অনুযায়ী হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
প্রশাসনের রদবদল নিয়ে অভিযোগ
শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চৌদ্দগ্রামে হামলায় আহত জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সম্প্রতি কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগ ছিল, তারা নাকি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কথা বলেছেন। দাড়ি ও টুপি থাকা কর্মকর্তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলি করার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা
এই ধরনের পদক্ষেপকে প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণ আখ্যা দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশাহত হওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে যেসব অভিযোগ আসছে, তাতে মনে হচ্ছে একটি পক্ষকে বাড়তি সুযোগ দেওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেরপুরের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ
শেরপুরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেভাবে অতীতে পৈশাচিক হামলা চালিয়ে দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল, একই কায়দায় রেজাউল করিমের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। নারী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনাতেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন তিনি।
চৌদ্দগ্রামের সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার দাবি
চৌদ্দগ্রামে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। এ সময় মহানগর ছাত্রশিবির ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার পটভূমি
উল্লেখ্য, চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের আমিরের সমাবেশ থেকে ফেরার পথে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত বারো জন আহত হন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 










