০৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
পাঞ্জাবে কমেছে চেনাবের বন্যা, ২৯ জুলাই থেকে নতুন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন আল-আজম’: ১৬ সশস্ত্র সদস্য নিহত, সন্ত্রাস দমনে অভিযান আরও জোরদার পলকের দাবি: আমার বিরুদ্ধে ৯৮ মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম; কারাগারে সুযোগ-সুবিধা চেয়ে আদালতে আবেদন এক লাখ টাকার ঋণ, এক বছরের বন্দিজীবন: পাথর কাটতে কাটতে মুক্তি পেলেন চার শ্রমিক ভোটের আগে আশীর্বাদ, ভোটের পর অনিশ্চয়তা: মহারাষ্ট্রের বিধবা কৃষাণীদের ভরসা কি হারাচ্ছে? ডিএনএর ভুলে আর নয়! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরে জিন চিকিৎসায় খুলছে নতুন দিগন্ত বৈশ্বিক দক্ষিণেই আগ্রাসী প্রজাতির পরিবেশগত ক্ষতি বেশি, বাড়ছে ভয়াবহ ঝুঁকি একটি পরীক্ষার ওপর ভবিষ্যৎ নির্ভর করা উচিত নয় ধানক্ষেতেই বাড়ছে জলবায়ুর বিপদ, ভারতের ধান চাষে মিথেন নিঃসরণে বড় উদ্বেগ এক যুগ পর আবার বিশ্বজয়, মাঝমাঠের জাদুতে স্পেনের ফুটবলে নতুন সূর্যোদয়

এক যুগ পর আবার বিশ্বজয়, মাঝমাঠের জাদুতে স্পেনের ফুটবলে নতুন সূর্যোদয়

এক যুগেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে স্পেনের জয়গান। ২০১০ সালের সেই সোনালি দিনের স্মৃতি যেন নতুন করে ফিরে এসেছে ২০২৬ সালে। তবে এবারের স্পেন আগের সেই দল নয়। পুরোনো দর্শনকে সঙ্গে রেখেও তারা বদলে নিয়েছে নিজেদের খেলার ধরন। বল দখল, নিখুঁত পাস আর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আগ্রাসী রক্ষণ, দ্রুত আক্রমণ এবং প্রয়োজনমতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস।

এই পরিবর্তনই স্পেনকে এনে দিয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।

২০১০ সালে স্পেন যখন প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখন তাদের ফুটবল ছিল বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়। জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাবি আলোনসো ও সের্হিও বুসকেতসদের নিয়ে গড়া সেই দল বলকে নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে অসহায় করে তুলত। ছোট ছোট পাসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

কিন্তু সময় বদলেছে। সেই প্রজন্মও বিদায় নিয়েছে। এরপর বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনকে বারবার হতাশ হতে হয়েছে। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্বেই বিদায়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে শেষ ষোলো থেকেই ফেরত যেতে হয়েছে। ফলে স্প্যানিশ ফুটবলের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—সেই সোনালি প্রজন্মের ছায়া থেকে তারা কবে বেরোতে পারবে?

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।

স্পেন এবার অতীতকে নকল করেনি। বরং অতীতের শক্তিকে নতুন যুগের ফুটবলের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছে। আর সেই মিশ্রণই হয়ে উঠেছে তাদের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি।

Spain Rewrite World Cup History As La Roja Produce Greatest Defensive  Campaign Ever | Football News - News18

পুরোনো স্পেনের স্মৃতি, নতুন স্পেনের সাহস

স্পেনের ফুটবল দর্শনের কেন্দ্রে বরাবরই ছিল বল। কিন্তু বল পায়ে রাখা তাদের কাছে কখনোই শুধুই পরিসংখ্যান ছিল না। বল নিজেদের কাছে রাখার অর্থ ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা।

২০২৬ সালের দলটিও সেই বিশ্বাস ধরে রেখেছে। তবে তারা বুঝেছে, শুধু বল দখল করে ম্যাচ জেতা যায় না। প্রয়োজনের সময় দ্রুত আক্রমণ করতে হয়, প্রতিপক্ষের শরীরী লড়াইয়ের জবাব দিতে হয় এবং কখনও কখনও সৌন্দর্যের চেয়ে ফলকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।

এবারের স্পেন তাই একদিকে যেমন সুন্দর ফুটবল খেলেছে, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে কঠিন ফুটবলও খেলেছে।

প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার মতো দ্রুত আক্রমণ করেছে। রক্ষণে শারীরিক লড়াই থেকে পিছিয়ে যায়নি। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষকে জায়গা দেয়নি। আবার গোল না এলেও তাড়াহুড়ো করেনি।

এই পরিণত মানসিকতাই তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

শুরুতে ধাক্কা, তারপর অপ্রতিরোধ্য যাত্রা

বিশ্বকাপের শুরুটা স্পেনের জন্য খুব স্বস্তির ছিল না। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এত বড় আসরে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে নামা দলটি কেন এমনভাবে শুরু করল—এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

কিন্তু স্পেন সেই সমালোচনায় কান দেয়নি।

বরং পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের আসল চেহারা দেখাতে শুরু করে তারা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ছিল কর্তৃত্বপূর্ণ ফুটবল। পর্তুগালের বিপক্ষে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। আর ফ্রান্সের বিপক্ষে ছিল প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

একটি বিষয় প্রতিটি ম্যাচেই পরিষ্কার হয়েছে—স্পেন একইভাবে খেলেনি।

প্রতিপক্ষ যেমন ছিল, কৌশলও তেমন বদলেছে। কখনও ধীরে, কখনও দ্রুত। কখনও বল ধরে, কখনও সরাসরি আক্রমণে। কখনও নিখুঁত পাসে, আবার কখনও শারীরিক লড়াইয়ে।

তবু তাদের মূল পরিচয় হারায়নি।

গোল্ডেন বল পেলেন স্পেন অধিনায়ক রদ্রি

মাঝমাঠেই লেখা হয়েছে বিশ্বকাপ জয়ের গল্প

স্পেনের ফুটবল মানেই মাঝমাঠ। ২০২৬ সালের দলেও সেই ঐতিহ্য সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে দেখা গেছে।

অধিনায়ক রদ্রি মাঝমাঠে থেকে পুরো দলের ছন্দ ঠিক করেছেন। কখন গতি কমাতে হবে, কখন প্রতিপক্ষকে সামনে টেনে আনতে হবে, কখন আক্রমণ বাড়াতে হবে—এসব সিদ্ধান্তে তার উপস্থিতি স্পেনকে দিয়েছে স্থিরতা।

ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী গতি বদলানো ছিল তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র।

প্রতিপক্ষ যদি নিচে নেমে রক্ষণ করে, স্পেন ধৈর্য ধরেছে। আর সামান্য জায়গা পেলেই দ্রুত বল সামনে নিয়ে গেছে। এতে প্রতিপক্ষের জন্য স্পেনকে পড়া কঠিন হয়ে উঠেছে।

এখানেই এবারের দলের সঙ্গে ২০১০ সালের দলের বড় পার্থক্য।

আগের দল বলের নিয়ন্ত্রণকে প্রায় নিখুঁত শিল্পে পরিণত করেছিল। এবারের দল সেই নিয়ন্ত্রণকে ব্যবহার করেছে আক্রমণের পথ খুলতে।

একতরফা খেলে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ফাইনালে ১০৫ মিনিটের অপেক্ষা

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনাল ছিল স্পেনের ধৈর্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

একদিকে আর্জেন্টিনার দৃঢ় রক্ষণ, অন্যদিকে গোলের জন্য মরিয়া স্পেন। সময় যত গড়িয়েছে, চাপ তত বেড়েছে। কিন্তু স্পেনের খেলোয়াড়েরা নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যায়নি।

১০৫ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্পেনের আক্রমণ ঠেকিয়ে রেখেছিল। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও একের পর এক সুযোগ আটকে দলকে টিকিয়ে রেখেছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক দলই হয়তো অস্থির হয়ে যেত। কিন্তু স্পেন জানত, সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই তারা ধৈর্য ধরে আক্রমণ চালিয়ে গেছে।

একজনের পর একজন গোলের চেষ্টা করেছেন। কখনও মাঝখান দিয়ে, কখনও দুই প্রান্ত দিয়ে। আর্জেন্টিনার রক্ষণ যতই বাধা তৈরি করেছে, স্পেন ততই চাপ বাড়িয়েছে।

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান।

শেষ পর্যন্ত নায়ক ফেরান তোরেস

বিশ্বকাপের শুরুতে যাকে নিয়ে সংশয় ছিল, ফাইনালের শেষদিকে সেই ফেরান তোরেসই হয়ে উঠলেন স্পেনের নায়ক।

এর আগে কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। এমনকি একটি সুযোগে বল জালে না গিয়ে গোলপোস্টে লেগেছিল। ফলে বড় ম্যাচে তার ওপর ভরসা করা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

কিন্তু ফাইনাল অন্য গল্প লিখেছে।

স্পেনের ২০তম শটের পর অবশেষে গোলের দেখা মেলে। আর সেই মুহূর্তে তোরেস হয়ে ওঠেন স্পেনের জয়ের প্রতীক।

তার গোলটি শুধু একটি ম্যাচের ফল বদলায়নি। এটি যেন পুরো স্প্যানিশ দলের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে—সুযোগ না এলেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, ব্যর্থতার পরও আত্মবিশ্বাস না হারানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের পরিকল্পনায় বিশ্বাস রাখা।

মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ডে জমবে বিশ্বকাপের আজকের লড়াই | STAR NEWS

তারকার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে দল

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত প্রতিভার অভাব ছিল না। মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ডের মতো তারকারা নিজেদের আলো ছড়িয়েছেন।

কিন্তু স্পেনের সাফল্য এসেছে অন্য পথে।

তারা দেখিয়েছে, ফুটবল শেষ পর্যন্ত ১১ জনের খেলা। একজন খেলোয়াড় ম্যাচ জেতাতে পারেন, কিন্তু একটি দলই বিশ্বকাপ জেতে।

স্পেনের প্রতিটি খেলোয়াড় যেন জানতেন, তার পরের কাজটি কী। একজন বল পেয়েছেন, আরেকজন জায়গা তৈরি করেছেন। কেউ সামনে এগিয়েছেন, কেউ পিছনে থেকে ভারসাম্য রেখেছেন। কেউ আক্রমণে গেছেন, আবার কেউ মুহূর্তেই রক্ষণে ফিরে এসেছেন।

এই সমন্বয়ই স্পেনকে করেছে ভয়ংকর।

তিকিতাকা বদলেছে, হারায়নি

স্পেনের ফুটবল নিয়ে কথা উঠলেই তিকিতাকার কথা আসে। ছোট পাস, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষকে বলের পেছনে ছুটিয়ে রাখাই ছিল সেই ফুটবলের পরিচিত ছবি।

কিন্তু ২০২৬ সালের স্পেন দেখিয়েছে, তিকিতাকা মানেই শুধু পাশ থেকে পাশে বল দেওয়া নয়।

তারা বল দখল করেছে, কিন্তু সুযোগ পেলেই সামনে এগিয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক দেখলেই আক্রমণ করেছে। কখনও কয়েকটি পাসে প্রতিপক্ষকে ঘুরিয়েছে, আবার পরের মুহূর্তেই দ্রুত গোলের দিকে ছুটেছে।

অর্থাৎ পুরোনো দর্শনের ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে নতুন ফুটবল।

২০১০ সালের স্পেনকে যদি নিখুঁতভাবে সাজানো একটি সংগীতের সঙ্গে তুলনা করা যায়, তাহলে ২০২৬ সালের দল অনেকটা এমন সুরের মতো, যেখানে কাঠামো আছে, কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের স্বাধীনতাও আছে।

ফাইনালটা উপভোগের আশা ফুয়েন্তের

দে লা ফুয়েন্তের দীর্ঘ অপেক্ষার ফল

এই সাফল্যের পেছনে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অবদানও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তার যাত্রা খুব সহজ ছিল না। ২০১১ সালে আলাভেসের চাকরি হারানোর পর স্পেনের বয়সভিত্তিক দলের কোচের একটি পদে আবেদন করেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ পথচলা।

বয়সভিত্তিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ে ইউরোপীয় সাফল্যও পান। এরপর জাতীয় দলের দায়িত্ব।

দে লা ফুয়েন্তে স্পেনকে শুধু একটি দল হিসেবে গড়ে তোলেননি। তিনি এমন একটি মানসিকতা তৈরি করেছেন, যেখানে তরুণ খেলোয়াড়েরা চাপের মধ্যেও নিজেদের ফুটবল খেলতে পারে।

৬৫ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে তিনি দেখিয়ে দিলেন, অভিজ্ঞতা ও আধুনিক চিন্তার সমন্বয় কতটা শক্তিশালী হতে পারে।

দ্বিতীয় তারকা, কিন্তু গল্পটা আরও বড়

স্পেনের জার্সিতে প্রথম বিশ্বকাপের তারকা এসেছিল এক সোনালি প্রজন্মের হাত ধরে। সেই দল বিশ্ব ফুটবলকে শিখিয়েছিল, বলকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কীভাবে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

দ্বিতীয় তারকা এসেছে এমন এক দলের হাত ধরে, যারা দেখিয়ে দিল—নিয়ন্ত্রণের সেই ধারণাকে নতুনভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

এবার স্পেন শুধু বল দখল করেনি। তারা ম্যাচের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেছে। প্রতিপক্ষের চাপ সামলেছে। প্রয়োজন হলে খেলার গতি বদলেছে। কঠিন মুহূর্তে রক্ষণ শক্ত করেছে। আবার সুযোগ এলে মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণে উঠে গেছে।

এটাই তাদের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

বিশ্বকাপ জিতে কত টাকা পেল স্পেন | কালের কণ্ঠ

বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের নতুন বার্তা

সারাক্ষণ রিপোর্টের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬ সালের স্পেনের বিশ্বকাপ জয়কে শুধু আরেকটি শিরোপা হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

এটি স্প্যানিশ ফুটবলের বিবর্তনের গল্প।

২০১০ সালের সাফল্য ছিল বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের প্রতীক। ২০২৬ সালের সাফল্য হলো সেই নিয়ন্ত্রণকে আরও বাস্তব, দ্রুত ও আক্রমণাত্মক করে তোলার ফল।

স্পেন দেখিয়েছে, ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে অতীতের হুবহু পুনরাবৃত্তি করতে হয় না। বরং সময়ের সঙ্গে বদলাতে হয়। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শক্তি বুঝতে হয়। প্রতিপক্ষের কৌশল পড়তে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, নিজের মূল পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে নতুন পথ তৈরি করতে হয়।

এই বিশ্বকাপ তাই স্পেনের জন্য শুধু দ্বিতীয় তারকা নয়।

এটি নতুন এক সূর্যোদয়।

২০১০ সালের সোনালি প্রজন্ম যদি স্প্যানিশ ফুটবলের প্রথম স্বপ্ন পূরণ করে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের তরুণ দল সেই স্বপ্নকে নতুন রূপ দিয়েছে।

মাঝমাঠে রদ্রির নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণে ফেরান তোরেসের নির্ভরতা, রক্ষণে আগ্রাসন এবং পুরো দলের অসাধারণ ধৈর্য—সব মিলিয়ে স্পেন আবারও বিশ্ব ফুটবলের রাজা।

আর সবচেয়ে বড় কথা, তারা প্রমাণ করেছে—সোনালি প্রজন্মের গল্প শেষ হয়নি। শুধু গল্পের ভাষা বদলেছে।

স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ তাই পুরোনো গৌরবের পুনরাবৃত্তি নয়; এটি নতুন প্রজন্মের হাতে স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন জন্ম।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঞ্জাবে কমেছে চেনাবের বন্যা, ২৯ জুলাই থেকে নতুন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাকিস্তানের

এক যুগ পর আবার বিশ্বজয়, মাঝমাঠের জাদুতে স্পেনের ফুটবলে নতুন সূর্যোদয়

০২:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

এক যুগেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে স্পেনের জয়গান। ২০১০ সালের সেই সোনালি দিনের স্মৃতি যেন নতুন করে ফিরে এসেছে ২০২৬ সালে। তবে এবারের স্পেন আগের সেই দল নয়। পুরোনো দর্শনকে সঙ্গে রেখেও তারা বদলে নিয়েছে নিজেদের খেলার ধরন। বল দখল, নিখুঁত পাস আর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আগ্রাসী রক্ষণ, দ্রুত আক্রমণ এবং প্রয়োজনমতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস।

এই পরিবর্তনই স্পেনকে এনে দিয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।

২০১০ সালে স্পেন যখন প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখন তাদের ফুটবল ছিল বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়। জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাবি আলোনসো ও সের্হিও বুসকেতসদের নিয়ে গড়া সেই দল বলকে নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে অসহায় করে তুলত। ছোট ছোট পাসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

কিন্তু সময় বদলেছে। সেই প্রজন্মও বিদায় নিয়েছে। এরপর বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনকে বারবার হতাশ হতে হয়েছে। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্বেই বিদায়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে শেষ ষোলো থেকেই ফেরত যেতে হয়েছে। ফলে স্প্যানিশ ফুটবলের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—সেই সোনালি প্রজন্মের ছায়া থেকে তারা কবে বেরোতে পারবে?

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে।

স্পেন এবার অতীতকে নকল করেনি। বরং অতীতের শক্তিকে নতুন যুগের ফুটবলের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছে। আর সেই মিশ্রণই হয়ে উঠেছে তাদের বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি।

Spain Rewrite World Cup History As La Roja Produce Greatest Defensive  Campaign Ever | Football News - News18

পুরোনো স্পেনের স্মৃতি, নতুন স্পেনের সাহস

স্পেনের ফুটবল দর্শনের কেন্দ্রে বরাবরই ছিল বল। কিন্তু বল পায়ে রাখা তাদের কাছে কখনোই শুধুই পরিসংখ্যান ছিল না। বল নিজেদের কাছে রাখার অর্থ ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা।

২০২৬ সালের দলটিও সেই বিশ্বাস ধরে রেখেছে। তবে তারা বুঝেছে, শুধু বল দখল করে ম্যাচ জেতা যায় না। প্রয়োজনের সময় দ্রুত আক্রমণ করতে হয়, প্রতিপক্ষের শরীরী লড়াইয়ের জবাব দিতে হয় এবং কখনও কখনও সৌন্দর্যের চেয়ে ফলকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়।

এবারের স্পেন তাই একদিকে যেমন সুন্দর ফুটবল খেলেছে, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে কঠিন ফুটবলও খেলেছে।

প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার মতো দ্রুত আক্রমণ করেছে। রক্ষণে শারীরিক লড়াই থেকে পিছিয়ে যায়নি। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষকে জায়গা দেয়নি। আবার গোল না এলেও তাড়াহুড়ো করেনি।

এই পরিণত মানসিকতাই তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

শুরুতে ধাক্কা, তারপর অপ্রতিরোধ্য যাত্রা

বিশ্বকাপের শুরুটা স্পেনের জন্য খুব স্বস্তির ছিল না। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এত বড় আসরে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে নামা দলটি কেন এমনভাবে শুরু করল—এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

কিন্তু স্পেন সেই সমালোচনায় কান দেয়নি।

বরং পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের আসল চেহারা দেখাতে শুরু করে তারা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ছিল কর্তৃত্বপূর্ণ ফুটবল। পর্তুগালের বিপক্ষে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। আর ফ্রান্সের বিপক্ষে ছিল প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

একটি বিষয় প্রতিটি ম্যাচেই পরিষ্কার হয়েছে—স্পেন একইভাবে খেলেনি।

প্রতিপক্ষ যেমন ছিল, কৌশলও তেমন বদলেছে। কখনও ধীরে, কখনও দ্রুত। কখনও বল ধরে, কখনও সরাসরি আক্রমণে। কখনও নিখুঁত পাসে, আবার কখনও শারীরিক লড়াইয়ে।

তবু তাদের মূল পরিচয় হারায়নি।

গোল্ডেন বল পেলেন স্পেন অধিনায়ক রদ্রি

মাঝমাঠেই লেখা হয়েছে বিশ্বকাপ জয়ের গল্প

স্পেনের ফুটবল মানেই মাঝমাঠ। ২০২৬ সালের দলেও সেই ঐতিহ্য সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে দেখা গেছে।

অধিনায়ক রদ্রি মাঝমাঠে থেকে পুরো দলের ছন্দ ঠিক করেছেন। কখন গতি কমাতে হবে, কখন প্রতিপক্ষকে সামনে টেনে আনতে হবে, কখন আক্রমণ বাড়াতে হবে—এসব সিদ্ধান্তে তার উপস্থিতি স্পেনকে দিয়েছে স্থিরতা।

ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী গতি বদলানো ছিল তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র।

প্রতিপক্ষ যদি নিচে নেমে রক্ষণ করে, স্পেন ধৈর্য ধরেছে। আর সামান্য জায়গা পেলেই দ্রুত বল সামনে নিয়ে গেছে। এতে প্রতিপক্ষের জন্য স্পেনকে পড়া কঠিন হয়ে উঠেছে।

এখানেই এবারের দলের সঙ্গে ২০১০ সালের দলের বড় পার্থক্য।

আগের দল বলের নিয়ন্ত্রণকে প্রায় নিখুঁত শিল্পে পরিণত করেছিল। এবারের দল সেই নিয়ন্ত্রণকে ব্যবহার করেছে আক্রমণের পথ খুলতে।

একতরফা খেলে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ফাইনালে ১০৫ মিনিটের অপেক্ষা

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনাল ছিল স্পেনের ধৈর্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

একদিকে আর্জেন্টিনার দৃঢ় রক্ষণ, অন্যদিকে গোলের জন্য মরিয়া স্পেন। সময় যত গড়িয়েছে, চাপ তত বেড়েছে। কিন্তু স্পেনের খেলোয়াড়েরা নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে যায়নি।

১০৫ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা স্পেনের আক্রমণ ঠেকিয়ে রেখেছিল। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও একের পর এক সুযোগ আটকে দলকে টিকিয়ে রেখেছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক দলই হয়তো অস্থির হয়ে যেত। কিন্তু স্পেন জানত, সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই তারা ধৈর্য ধরে আক্রমণ চালিয়ে গেছে।

একজনের পর একজন গোলের চেষ্টা করেছেন। কখনও মাঝখান দিয়ে, কখনও দুই প্রান্ত দিয়ে। আর্জেন্টিনার রক্ষণ যতই বাধা তৈরি করেছে, স্পেন ততই চাপ বাড়িয়েছে।

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান।

শেষ পর্যন্ত নায়ক ফেরান তোরেস

বিশ্বকাপের শুরুতে যাকে নিয়ে সংশয় ছিল, ফাইনালের শেষদিকে সেই ফেরান তোরেসই হয়ে উঠলেন স্পেনের নায়ক।

এর আগে কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। এমনকি একটি সুযোগে বল জালে না গিয়ে গোলপোস্টে লেগেছিল। ফলে বড় ম্যাচে তার ওপর ভরসা করা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

কিন্তু ফাইনাল অন্য গল্প লিখেছে।

স্পেনের ২০তম শটের পর অবশেষে গোলের দেখা মেলে। আর সেই মুহূর্তে তোরেস হয়ে ওঠেন স্পেনের জয়ের প্রতীক।

তার গোলটি শুধু একটি ম্যাচের ফল বদলায়নি। এটি যেন পুরো স্প্যানিশ দলের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে—সুযোগ না এলেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, ব্যর্থতার পরও আত্মবিশ্বাস না হারানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের পরিকল্পনায় বিশ্বাস রাখা।

মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ডে জমবে বিশ্বকাপের আজকের লড়াই | STAR NEWS

তারকার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে দল

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত প্রতিভার অভাব ছিল না। মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ডের মতো তারকারা নিজেদের আলো ছড়িয়েছেন।

কিন্তু স্পেনের সাফল্য এসেছে অন্য পথে।

তারা দেখিয়েছে, ফুটবল শেষ পর্যন্ত ১১ জনের খেলা। একজন খেলোয়াড় ম্যাচ জেতাতে পারেন, কিন্তু একটি দলই বিশ্বকাপ জেতে।

স্পেনের প্রতিটি খেলোয়াড় যেন জানতেন, তার পরের কাজটি কী। একজন বল পেয়েছেন, আরেকজন জায়গা তৈরি করেছেন। কেউ সামনে এগিয়েছেন, কেউ পিছনে থেকে ভারসাম্য রেখেছেন। কেউ আক্রমণে গেছেন, আবার কেউ মুহূর্তেই রক্ষণে ফিরে এসেছেন।

এই সমন্বয়ই স্পেনকে করেছে ভয়ংকর।

তিকিতাকা বদলেছে, হারায়নি

স্পেনের ফুটবল নিয়ে কথা উঠলেই তিকিতাকার কথা আসে। ছোট পাস, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষকে বলের পেছনে ছুটিয়ে রাখাই ছিল সেই ফুটবলের পরিচিত ছবি।

কিন্তু ২০২৬ সালের স্পেন দেখিয়েছে, তিকিতাকা মানেই শুধু পাশ থেকে পাশে বল দেওয়া নয়।

তারা বল দখল করেছে, কিন্তু সুযোগ পেলেই সামনে এগিয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক দেখলেই আক্রমণ করেছে। কখনও কয়েকটি পাসে প্রতিপক্ষকে ঘুরিয়েছে, আবার পরের মুহূর্তেই দ্রুত গোলের দিকে ছুটেছে।

অর্থাৎ পুরোনো দর্শনের ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়েছে নতুন ফুটবল।

২০১০ সালের স্পেনকে যদি নিখুঁতভাবে সাজানো একটি সংগীতের সঙ্গে তুলনা করা যায়, তাহলে ২০২৬ সালের দল অনেকটা এমন সুরের মতো, যেখানে কাঠামো আছে, কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের স্বাধীনতাও আছে।

ফাইনালটা উপভোগের আশা ফুয়েন্তের

দে লা ফুয়েন্তের দীর্ঘ অপেক্ষার ফল

এই সাফল্যের পেছনে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অবদানও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তার যাত্রা খুব সহজ ছিল না। ২০১১ সালে আলাভেসের চাকরি হারানোর পর স্পেনের বয়সভিত্তিক দলের কোচের একটি পদে আবেদন করেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ পথচলা।

বয়সভিত্তিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়ে ইউরোপীয় সাফল্যও পান। এরপর জাতীয় দলের দায়িত্ব।

দে লা ফুয়েন্তে স্পেনকে শুধু একটি দল হিসেবে গড়ে তোলেননি। তিনি এমন একটি মানসিকতা তৈরি করেছেন, যেখানে তরুণ খেলোয়াড়েরা চাপের মধ্যেও নিজেদের ফুটবল খেলতে পারে।

৬৫ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে তিনি দেখিয়ে দিলেন, অভিজ্ঞতা ও আধুনিক চিন্তার সমন্বয় কতটা শক্তিশালী হতে পারে।

দ্বিতীয় তারকা, কিন্তু গল্পটা আরও বড়

স্পেনের জার্সিতে প্রথম বিশ্বকাপের তারকা এসেছিল এক সোনালি প্রজন্মের হাত ধরে। সেই দল বিশ্ব ফুটবলকে শিখিয়েছিল, বলকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কীভাবে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

দ্বিতীয় তারকা এসেছে এমন এক দলের হাত ধরে, যারা দেখিয়ে দিল—নিয়ন্ত্রণের সেই ধারণাকে নতুনভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

এবার স্পেন শুধু বল দখল করেনি। তারা ম্যাচের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেছে। প্রতিপক্ষের চাপ সামলেছে। প্রয়োজন হলে খেলার গতি বদলেছে। কঠিন মুহূর্তে রক্ষণ শক্ত করেছে। আবার সুযোগ এলে মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণে উঠে গেছে।

এটাই তাদের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

বিশ্বকাপ জিতে কত টাকা পেল স্পেন | কালের কণ্ঠ

বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের নতুন বার্তা

সারাক্ষণ রিপোর্টের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬ সালের স্পেনের বিশ্বকাপ জয়কে শুধু আরেকটি শিরোপা হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

এটি স্প্যানিশ ফুটবলের বিবর্তনের গল্প।

২০১০ সালের সাফল্য ছিল বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের প্রতীক। ২০২৬ সালের সাফল্য হলো সেই নিয়ন্ত্রণকে আরও বাস্তব, দ্রুত ও আক্রমণাত্মক করে তোলার ফল।

স্পেন দেখিয়েছে, ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে অতীতের হুবহু পুনরাবৃত্তি করতে হয় না। বরং সময়ের সঙ্গে বদলাতে হয়। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের শক্তি বুঝতে হয়। প্রতিপক্ষের কৌশল পড়তে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, নিজের মূল পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে নতুন পথ তৈরি করতে হয়।

এই বিশ্বকাপ তাই স্পেনের জন্য শুধু দ্বিতীয় তারকা নয়।

এটি নতুন এক সূর্যোদয়।

২০১০ সালের সোনালি প্রজন্ম যদি স্প্যানিশ ফুটবলের প্রথম স্বপ্ন পূরণ করে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের তরুণ দল সেই স্বপ্নকে নতুন রূপ দিয়েছে।

মাঝমাঠে রদ্রির নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণে ফেরান তোরেসের নির্ভরতা, রক্ষণে আগ্রাসন এবং পুরো দলের অসাধারণ ধৈর্য—সব মিলিয়ে স্পেন আবারও বিশ্ব ফুটবলের রাজা।

আর সবচেয়ে বড় কথা, তারা প্রমাণ করেছে—সোনালি প্রজন্মের গল্প শেষ হয়নি। শুধু গল্পের ভাষা বদলেছে।

স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ তাই পুরোনো গৌরবের পুনরাবৃত্তি নয়; এটি নতুন প্রজন্মের হাতে স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন জন্ম।