দুবাইয়ের আল শিনদাঘার সরু গলিপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে সিক্কা শিল্প ও নকশা উৎসব দুই হাজার ছাব্বিশ যেন কোনো প্রচলিত প্রদর্শনী নয়, বরং একের পর এক জীবন্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া। ঐতিহ্য আর সমসাময়িক শিল্পের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে এবারের আয়োজন দর্শকদের নিয়ে যায় চিন্তা, অনুভব আর ইচ্ছাকৃত অস্বস্তির ভেতর দিয়ে।

উৎসবের প্রেক্ষাপট
আল শিনদাঘার ঐতিহাসিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত সিক্কার চতুর্দশ আসর সাজানো হয়েছে ভবিষ্যৎ দুবাইয়ের পরিচয় কল্পনার ভাবনাকে সামনে রেখে। দুবাই সংস্কৃতি ও শিল্প কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এবং শেখা লতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের পৃষ্ঠপোষকতায় ঐতিহ্যবাহী ঘরগুলো রূপ নিয়েছে পরীক্ষানিরীক্ষা ও আত্মবিশ্লেষণের পরিসরে। প্রদর্শনী, কর্মশালা, পরিবেশনা ও আলোচনা মিলিয়ে উৎসবটি তুলে ধরছে শহরের বদলে যাওয়া সাংস্কৃতিক আখ্যান।
শিল্পী ও সৃষ্টির বিস্তার
এ বছর চার শতাধিক শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষ প্রায় আড়াই শত শিল্পকর্ম উপস্থাপন করেছেন ষোলোটি বাছাই করা ঘরে। প্রতিটি ঘর আলাদা আলাদা গল্প বলে, যা দুবাইয়ের সৃজনশীল মানচিত্রের পাশাপাশি বৈশ্বিক সমসাময়িক শিল্পচর্চার সঙ্গেও সংলাপ গড়ে তোলে।
গালফ হাউসের অভিজ্ঞতা
গালফ হাউস অন্য সব ঘরের চেয়ে আলাদা। এখানে একটিমাত্র শিল্পকর্মকে ঘিরেই পুরো আয়োজন। ইয়ারা আইয়ুবের তত্ত্বাবধানে তৈরি কাজটির নাম মাথাব্যথা। ঘরে ঘরে আলো, শব্দ আর পুনরাবৃত্ত দৃশ্যের মধ্য দিয়ে মাথাব্যথার চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এই অভিজ্ঞতা আরাম দেয় না, বরং দর্শককে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে ধরে। শিল্পীর ব্যাখ্যায় এটি কোনো সাময়িক অনুভূতি নয়, বরং আধুনিক জীবনের স্থায়ী মানসিক চাপের প্রতিফলন।
জাপান আন্তর্জাতিক ঘরের ভাবনা
এই বছর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ঘরে তুলে ধরা হয়েছে জাপানকে। কিউরেটর কোতারো ওয়াতানাবের পরিকল্পনায় এই ঘরে জাপানি নান্দনিকতার অস্থায়িত্ব ও অসম্পূর্ণতার সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। ঘরগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অসমাপ্ত মনে হয়, যেন দর্শক নিজের কল্পনা দিয়ে শূন্যতা পূরণ করেন। এখানে প্রযুক্তি ও প্রকৃতি, স্মৃতি ও হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি পাশাপাশি অবস্থান করে। এক স্থাপনায় আগের দিনের আকাশের ছবি থেকে জলভিত্তিক উপাদানে তৈরি মেঘের মতো অবয়ব ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়, স্মৃতির ক্ষণস্থায়িত্বের ইঙ্গিত দিয়ে।
সিরামিক্স হাউসের গল্প
সিরামিক্স হাউসে মাটি হয়ে ওঠে গল্প বলার মাধ্যম। কিউরেটর কামাল আল জুবাইদির তত্ত্বাবধানে এই ঘরে স্থানীয় ও প্রবাসী শিল্পীদের কাজের পাশাপাশি শিশুদের সৃষ্টিও স্থান পেয়েছে। ভাস্কর্য, ব্যবহারিক নকশা আর পরীক্ষামূলক পদ্ধতি একসঙ্গে দেখায় সিরামিক শিল্পের বহুমাত্রিকতা। একই সঙ্গে এখানে আয়োজিত সিরামিক বাজার উৎসবের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমাজভিত্তিক চরিত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















