ঝিনাইদহে ব্যাটারিচালিত রিকশার চাকার সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক কলেজছাত্রী। রোববার বিকেলে সদর উপজেলার বোরাই এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহ মুহূর্ত
সারাক্ষণ রিপোর্ট
নিহত কলেজছাত্রীর নাম সুমাইয়া খাতুন। বয়স তেইশ বছর। তিনি ঝিনাইদহ কেশব চন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সম্মান শিক্ষার্থী ছিলেন। সুমাইয়া ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুমাইয়া স্বামী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে রোববার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বদরগঞ্জ এলাকায় আক্কাছ লেকভিউ পার্কে ঘুরতে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে ব্যাটারিচালিত রিকশায় ওঠেন তারা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বোরাই এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ সুমাইয়ার ওড়না রিকশার চাকার সঙ্গে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। সঙ্গে থাকা শিশুটিও ছিটকে পড়ে।
হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শেষ আশা
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত সুমাইয়াকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর।
পুলিশের বক্তব্য
ঝিনাইদহ হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রোববার সন্ধ্যায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ওড়না ও ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















