০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে বেশি আগ্রহী: মার্কিন গোয়েন্দা দিল্লিতে বসতে চেয়েছিল পাকিস্তানের গণপরিষদ, আপত্তিতে ভেস্তে যায় জিন্নাহর পরিকল্পনা সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবসের আয়োজনে মাসকটদের দুর্দান্ত নাচ, সামাজিক মাধ্যমে ঝড় সিঙ্গাপুরের ৬০ হাজার তরুণের মতামতে বদলাচ্ছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের বাধা পেরিয়ে ফিরছে ট্রাম্পের শুল্ক, চাপে মার্কিন অর্থনীতি ও ভোক্তা সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি: ইরান, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে মার্কিন ভোটারদের, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা পারমাণবিক ভারসাম্যের নতুন যুগ সিন্ধু পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ কৌশল নিয়ে বিতর্ক: বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী? তাইওয়ান ঘিরে চীনের ‘ছায়া নৌবাহিনী’, একসঙ্গে হাজার মাছধরা নৌকার মহড়া

ইসলামি নীতিতে শীর্ষ নেতৃত্বে নারী নয়: জামায়াত নারী বিভাগের ব্যাখ্যা

ইসলামি আদর্শের আলোকে শীর্ষ নেতৃত্বে নারীর দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নারী বিভাগ। রোববার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াতে ইসলামি একটি ইসলামি দল এবং ইসলামি দলের জন্য কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করা স্বাভাবিক। কোরআনে পুরুষকে নারীর অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতৃত্বে নারী দায়িত্ব নিতে পারেন না।

এর আগে নারী বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারা দলীয় নারী কর্মীদের ওপর নির্বাচনী কার্যক্রমে হামলা, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেন।

শীর্ষ পদ নয়, অধিকার নিশ্চিতই মূল কথা

নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, শীর্ষ পদে থাকা আসল বিষয় নয়, বরং নারীর অধিকার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশ দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু তাতে কি নারীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে, নারীর ওপর সহিংসতা কমেছে বা অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে—এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায়। তাই কেবল শীর্ষ পদে নারী থাকলেই বাস্তব পরিবর্তন আসে, এমনটি তারা মনে করেন না।

তিনি আরও জানান, সংগঠনের ভেতরে নারীদের অংশগ্রহণ কম নয়। জামায়াতের মজলিসে শূরা নামের উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ সদস্য নারী, যা তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতির প্রমাণ।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ ও শঙ্কা

নারী বিভাগের প্রতিনিধি দলে থাকা রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ গত পনেরো থেকে ষোলো বছরে অনেক নারী শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এখন আবার একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নারীদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও নথি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। নারীরা দুর্বল নয়, তারা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস

ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী জানান, নির্বাচন কমিশনাররা তাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। নারী ভোটারদের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে বেশি আগ্রহী: মার্কিন গোয়েন্দা

ইসলামি নীতিতে শীর্ষ নেতৃত্বে নারী নয়: জামায়াত নারী বিভাগের ব্যাখ্যা

০৮:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামি আদর্শের আলোকে শীর্ষ নেতৃত্বে নারীর দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নারী বিভাগ। রোববার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াতে ইসলামি একটি ইসলামি দল এবং ইসলামি দলের জন্য কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করা স্বাভাবিক। কোরআনে পুরুষকে নারীর অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতৃত্বে নারী দায়িত্ব নিতে পারেন না।

এর আগে নারী বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারা দলীয় নারী কর্মীদের ওপর নির্বাচনী কার্যক্রমে হামলা, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেন।

শীর্ষ পদ নয়, অধিকার নিশ্চিতই মূল কথা

নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, শীর্ষ পদে থাকা আসল বিষয় নয়, বরং নারীর অধিকার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশ দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু তাতে কি নারীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে, নারীর ওপর সহিংসতা কমেছে বা অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে—এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায়। তাই কেবল শীর্ষ পদে নারী থাকলেই বাস্তব পরিবর্তন আসে, এমনটি তারা মনে করেন না।

তিনি আরও জানান, সংগঠনের ভেতরে নারীদের অংশগ্রহণ কম নয়। জামায়াতের মজলিসে শূরা নামের উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ সদস্য নারী, যা তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতির প্রমাণ।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ ও শঙ্কা

নারী বিভাগের প্রতিনিধি দলে থাকা রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ গত পনেরো থেকে ষোলো বছরে অনেক নারী শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এখন আবার একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নারীদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও নথি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। নারীরা দুর্বল নয়, তারা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস

ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী জানান, নির্বাচন কমিশনাররা তাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। নারী ভোটারদের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।