০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড ইলন মাস্কের রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক, প্রযুক্তির নায়ক নাকি বিভাজনের মুখ? ট্রাম্পের শরণার্থী নীতিতে অগ্রাধিকার আফ্রিকানারদের, বাদ পড়ছেন অন্যরা ম্যানাম্বেরি সেতু: মাদাগাস্কারের ভ্যানিলা অর্থনীতির নীরব জীবনরেখা কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনদের, আবেদন অনুমোদনে বড় উল্লম্ফন শাংরি-লা সংলাপে চীনের অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন, এশিয়ার নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন বিতর্ক চীনের ‘নতুন সামরিকীকরণ’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল জাপান, পাল্টা দ্রুত অস্ত্র সম্প্রসারণের অভিযোগ বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্যাটুশিল্পীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়, তিন দশকের নিষেধাজ্ঞার অবসান অকাস জোটের নতুন পদক্ষেপ: সমুদ্রতলের ড্রোন প্রযুক্তি আনছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া ডিজিটাল যুগে ভারতের জনশুমারি: ডাকটিকিট থেকে স্মার্টফোনে দীর্ঘ যাত্রা

ইসলামি নীতিতে শীর্ষ নেতৃত্বে নারী নয়: জামায়াত নারী বিভাগের ব্যাখ্যা

ইসলামি আদর্শের আলোকে শীর্ষ নেতৃত্বে নারীর দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নারী বিভাগ। রোববার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াতে ইসলামি একটি ইসলামি দল এবং ইসলামি দলের জন্য কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করা স্বাভাবিক। কোরআনে পুরুষকে নারীর অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতৃত্বে নারী দায়িত্ব নিতে পারেন না।

এর আগে নারী বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারা দলীয় নারী কর্মীদের ওপর নির্বাচনী কার্যক্রমে হামলা, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেন।

শীর্ষ পদ নয়, অধিকার নিশ্চিতই মূল কথা

নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, শীর্ষ পদে থাকা আসল বিষয় নয়, বরং নারীর অধিকার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশ দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু তাতে কি নারীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে, নারীর ওপর সহিংসতা কমেছে বা অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে—এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায়। তাই কেবল শীর্ষ পদে নারী থাকলেই বাস্তব পরিবর্তন আসে, এমনটি তারা মনে করেন না।

তিনি আরও জানান, সংগঠনের ভেতরে নারীদের অংশগ্রহণ কম নয়। জামায়াতের মজলিসে শূরা নামের উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ সদস্য নারী, যা তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতির প্রমাণ।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ ও শঙ্কা

নারী বিভাগের প্রতিনিধি দলে থাকা রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ গত পনেরো থেকে ষোলো বছরে অনেক নারী শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এখন আবার একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নারীদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও নথি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। নারীরা দুর্বল নয়, তারা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস

ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী জানান, নির্বাচন কমিশনাররা তাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। নারী ভোটারদের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেরারির বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুচে’ ঘিরে বিতর্ক, ভক্তদের ক্ষোভে চাপে কিংবদন্তি ব্র্যান্ড

ইসলামি নীতিতে শীর্ষ নেতৃত্বে নারী নয়: জামায়াত নারী বিভাগের ব্যাখ্যা

০৮:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামি আদর্শের আলোকে শীর্ষ নেতৃত্বে নারীর দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নারী বিভাগ। রোববার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াতে ইসলামি একটি ইসলামি দল এবং ইসলামি দলের জন্য কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করা স্বাভাবিক। কোরআনে পুরুষকে নারীর অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতৃত্বে নারী দায়িত্ব নিতে পারেন না।

এর আগে নারী বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে তারা দলীয় নারী কর্মীদের ওপর নির্বাচনী কার্যক্রমে হামলা, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধার অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেন।

শীর্ষ পদ নয়, অধিকার নিশ্চিতই মূল কথা

নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, শীর্ষ পদে থাকা আসল বিষয় নয়, বরং নারীর অধিকার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশ দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু তাতে কি নারীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে, নারীর ওপর সহিংসতা কমেছে বা অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে—এই প্রশ্নগুলো থেকেই যায়। তাই কেবল শীর্ষ পদে নারী থাকলেই বাস্তব পরিবর্তন আসে, এমনটি তারা মনে করেন না।

তিনি আরও জানান, সংগঠনের ভেতরে নারীদের অংশগ্রহণ কম নয়। জামায়াতের মজলিসে শূরা নামের উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ সদস্য নারী, যা তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতির প্রমাণ।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ ও শঙ্কা

নারী বিভাগের প্রতিনিধি দলে থাকা রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ গত পনেরো থেকে ষোলো বছরে অনেক নারী শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এখন আবার একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নারীদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও নথি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। নারীরা দুর্বল নয়, তারা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস

ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী জানান, নির্বাচন কমিশনাররা তাদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। নারী ভোটারদের জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা।