ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজারপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
মেধা ও পরিচয়ের পেছনের গল্প
অনন্য গাঙ্গুলী ছিলেন কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাধারানী ভট্টাচার্য্যের জ্যেষ্ঠ সন্তান। পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। তার ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নরত। শিক্ষাজীবনে অনন্যর মেধা ও অর্জন স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত ছিল।
মানসিক যন্ত্রণার ইঙ্গিত
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অনন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, সেই মানসিক যন্ত্রণার চাপ থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। অনন্যর বাবা গণমাধ্যমকে জানান, তার ছেলে অত্যন্ত মেধাবী হলেও বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
শোক ও প্রশ্ন
একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যু মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীরা অনন্যর স্মৃতিতে শোকাহত, একই সঙ্গে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে অপেক্ষায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















